বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। দুর্নীতি শিক্ষার অভাব, আইনের শাসনের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব প্রভৃতি কারণে এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে দেশের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কতকগুলো কাজ করতে পারে। পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকগণ কতকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের উন্নয়ন সাধন করতে পারে। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হলো- ১. দুর্নীতি, ২. আইনের শাসনের অভাব, ৩. শিক্ষার অভাব, ৪. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ৫. যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, ৬. আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতার অভাব ইত্যাদি।

উত্তরঃ

রাষ্ট্রের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর এজন্য রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের মূল ভূমিকা হলো সরকার দুর্নীতিমুক্ত হয়ে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সরকার রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরঃ

একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদেরকে দেশের আইন ও নীতিমালা ভালোভাবে জানতে হবে এবং সচেতনভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে। একজন নাগরিক যদি তার নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য না জানে তাহলে সে নিজের অজান্তেই অন্যের অধিকার লঙ্ঘন করবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিককে নিম্নোক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।
১. নাগরিককে আইনের, প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
২. নাগরিকদেরকে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।
৩. নাগরিকের মধ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
৪. নাগরিকের মধ্যে স্বদেশপ্রেম থাকতে হবে।
৫. নাগরিকদেরকে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। উপরিউক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে নাগরিকগণ যেকোনো রাষ্ট্রেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরঃ

একটি দেশে সামগ্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যদি শুধুমাত্র সামাজিক বা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা হয় তাহলে ওই দেশে সামগ্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। দেশে সুশাসনের জন্য সামাজিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সমাজের মধ্যে মানুষ বড় হয়ে ওঠে এবং সমাজ থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। সমাজ থেকেই যেহেতু ব্যক্তির চরিত্র গড়ে ওঠে তাই সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে শুধু সামাজিক ক্ষেত্রেই নয় বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রাষ্ট্রের সামগ্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে রাজনৈতিক সুশাসন বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে। দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের জন্য রাজনৈতিক সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।

124

Related Question

View All
240
উত্তরঃ

সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।

766
উত্তরঃ

ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।

190
উত্তরঃ

সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর। 

কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।

সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

191
উত্তরঃ

শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।

537
উত্তরঃ

সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন

নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ। 

304
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews