গ্রামীণ খাত হলো গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক কার্যাবলির সমষ্টি।
বাংলাদেশে কৃষির অনগ্রসরতার মূল কারণ হলো কৃষিতে আধুনিকীকরণের অভাব। এছাড়া এদেশের কৃষকের দারিদ্র্য, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে অজ্ঞতা, উন্নত প্রযুক্তির অভাব ইত্যাদি কারণে কৃষিক্ষেত্রে অনগ্রসর অবস্থা বিরাজমান। বাংলাদেশের কৃষি এখনও সনাতনী অবস্থায় নিমজ্জিত বলে কৃষি দ্রব্য উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ কৃষির আধুনিকীকরণ তাই আজ সময়ের দাবী।
উদ্দীপকের আলোকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার কারণগুলো নিচে নির্ণয় করা হলো-
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। ইংরেজদের দ্বৈত শাসন, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। এ সময় বাংলায় উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প স্থাপিত হয়নি বরং বাংলার বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁতিদের বুড়ো আঙুল কেটে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রিটিশরা এ সময় কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের বিদায়ের পর উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মনে করা হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বাজার সৃষ্টি হয়ে দুটি অঞ্চলের দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু দুটি অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তেই থাকে। বাণিজ্যে উদ্বৃত্তসম্পন্ন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে বাণিজ্য ঘাটতির দিকে এগিয়ে চলে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার মূল কারণ ছিল ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক আচরণ।
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাগুলোকে নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল এক জনগোষ্ঠী। এ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য ইতিমধ্যে সরকার সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এছাড়াও শ্রমশক্তি রপ্তানি করে অধিক রেমিটেন্স আয় করার লক্ষ্যে শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬%। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে প্রবৃদ্ধির হার কমপক্ষে ৮% হতে হবে এবং সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষিত রিপোর্ট "A long run respective study" অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কমপক্ষে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা আছে। উক্ত রিপোর্টে আরও বলা হয় প্রাকৃতিক গ্যাসখাতে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ৪ বছরে ২০০ কোটি ডলারে পৌছাতে পারে। এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায় ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন, আহরণ এবং ব্যবহার করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সহায়তা করবে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!