কুরআন ইসলাম ধর্মের আইনের উৎস।
ব্যক্তিগত ও সমাজজীবনে ধর্মীয় অনুশাসন বিধিবিধান পালন, নিজ ধর্মকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন ও অন্যের ধর্মকে হেয় না করে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াকেই ধর্মীয় মূল্যবোধ বলা হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ সামাজিক বিশৃঙ্খলা দূর করে এবং সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আদেশ ও ডিক্রি আইনের নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্রিজনিত উৎস। বর্তমানে আইনসভার কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাসন বিভাগের নিকট আইনসভার কিছু ক্ষমতা ও দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়। জনস্বার্থেই তা করা হয়। শাসন বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইনসমূহ পরবর্তীকালে আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে। নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্রি অধ্যাদেশ হিসেবে ঘোষিত হয়। এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পূর্বে আইনসভার অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। নির্বাহী ঘোষণাকে প্রশাসনিক আইনও বলা যায়
নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্রি ছাড়াও আইনের আরও উৎস রয়েছে। যেমন-
১. প্রথা: আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে প্রথা। আর প্রথা হচ্ছে দীর্ঘদিনের প্রচলিত আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি ও লোকাচার।
২. ধর্ম: আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন ভারতীয় হিন্দু আইনের উৎস হচ্ছে মনুসংহিতা। আর মুসলিম আইনের উৎস হচ্ছে কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস ইত্যাদি।
৩. বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত: অনেক সময় বিজ্ঞ বিচারকগণ তাঁদের বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ করে বিচারের সিদ্ধান্ত বা রায় দেন। এসব রায় পরবর্তীকালে আইনে পরিণত হয় এবং সরকারের স্বীকৃতি পায়।
৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা : আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনাও আইনের অন্যতম উৎস। তাঁরা ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণের 'মাধ্যমে আইনের অস্পষ্টতাও দূর করেন।
৫. আইনসভা: আধুনিক যুগে আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে আইনসভা। রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে এবং জনকল্যাণকে সামনে রেখে আইনসভা আইন প্রণয়ন, পুরাতন আইন সংশোধন এবং অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করেন।
৬. সংবিধান: সংবিধান আইনের সর্বোচ্চ উৎস। সাংবিধানিক আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের প্রকৃতি, কাঠামো এবং শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। কাজেই আইনের অনেক উৎস রয়েছে- কথাটি যথার্থ।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!