যে অংশীদার ব্যবসায় থেকে অবসর নেওয়ার পর মূলধন উত্তোলন না করে তা ব্যবসায়ে রেখে দেন এবং এর বিনিময়ে সুদ নেন, তাকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলা হয়।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত সংগঠনকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মালিকের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, দেউলিয়াত্ব প্রভৃতি কারণে এ ব্যবসায় যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব অনিশ্চিত হয়।
ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা মালিকানার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের অন্তর্গত।
এ ব্যবসায় রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও সম্পদের সুষম বণ্টনে এ ব্যবসায় কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন। এরূপ উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানায় গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান হলো ডাক বিভাগ। এর মাধ্যমে ডাক সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের অধীন ডাক বিভাগের একটি ডিজিটাল আর্থিক 'সেবা হলো 'নগদ'। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে গ্রাহক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অর্থ জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন কম খরচে করতে পারে। ফলে তারা উপকৃত হয়। এ 'নগদ' সেবার মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের কল্যাণে কাজ করা। এতে যে মুনাফা হয় তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। এ অর্থ আবার জনকল্যাণেই ব্যবহৃত হয়। এভাবে উক্ত ডাক বিভাগের ওপর সরকারি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। তাই এসব বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের সাথে সংগতিপূর্ণ। সুতরাং, ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত বলা যায়।
সাশ্রয়ী মূল্যে 'নগদ' সেবা চালু করার মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ- রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের আলোকে উক্তিটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
এ ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্যে মুনাফা অর্জন নয়; বরং জনকল্যাণ করা। এতে অর্জিত মুনাফা জনকল্যাণে খরচ করা হয়। এছাড়া, এর মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসায় রোধ এবং দেশের সুষম উন্নয়ন করা হয়।
উদ্দীপকে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা 'নগদ' সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হয়। এতে গ্রাহকরা সহজে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতে পারে। আর, অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার তুলনায় 'নগদ'-এ বেশি পরিমাণ লেনদেন করা সুবিধা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ডাক বিভাগ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের অন্তর্গত।
উক্ত 'নগদ' একটি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। ফলে গ্রাহকরা অল্প খরচে ব্যাংকিং ও প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন করতে পারছে। প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক এ সেবার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়। এটি সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চ গ্রাহক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এতে অর্জিত মুনাফা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। এ অর্থ আবার জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হয়। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যেই ডাক বিভাগ সাশ্রয়ী মূল্যে 'নগদ' সেবা চালু করেছে।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
