বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ, মুনাফা অর্জন নয়। উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
⇨ আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন: দেশের অর্থনীতির সব খাতে সম্পদের সুষম বণ্টন দরকার হয়। সেজন্য সরকার কোন খাতে কি পরিমাণ সম্পদ বণ্টন করতে হবে তা সঠিকভাবে নিরূপণ করে থাকে। সে অনুযায়ী, সরকার বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনমতো সম্পদ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ফলে সমাজে সম্পদের ন্যায়সম্মত বণ্টন ঘটে।
⇒ মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান সরকারসাংবিধানিকভাবে দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেজন্য সরকার প্রত্যেক নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থ্য করে থাকে। সকলের জন্য সমানভাবে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হলে সরকারকে সে অনুযায়ী ব্যয় বরাদ্দ করতে হয়।
⇨ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান: দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকারের। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে লোকবল, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উন্নত ব্যবস্থাপনার দরকার হয়। তাই এ খাতের সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যয় করতে হয়।
⇨ বৈষম্য নিরসন: প্রতিটি সমাজেই ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বিরাজ করে। সরকারের দায়িত্ব এ বৈষম্যের বিলোপ সাধন। সেজন্য সরকারকে ধনীদের ওপর করারোপ করতে হয়। পাশাপাশি যারা দরিদ্র তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তথা সম্পদ বরাদ্দ দিতে হয়। এতে করে একদিকে ধনীদের সম্পদ হ্রাস পায়, অপরদিকে দরিদ্রদের জীবনমান পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
⇒ দারিদ্র্য বিমোচন: সমাজের দারিদ্র্য নিরসন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দারিদ্রদ্র্য নিরসনের জন্য সরকারকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষাবিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভর্তুকি প্রদান, প্রশিক্ষণ দান ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি করতে হয়। ফলে সরকারকে ব্যয় বরাদ্দ দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ, মুনাফা অর্জন নয়।
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!