জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি সর্বপ্রথম প্রণীত হয় ১৯৯৭ সালে এবং সর্বশেষ প্রণীত হয় ২০১১ সালে।
নগরমুখিতা নিরুৎসাহিত করা ও পরিকল্পিত নগরায়ণ বাংলাদেশ। জনসংখ্যা নীতি ২০১২ বাস্তবায়নের একটি মুখা কৌশল।
গ্রাম থেকে শহরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে স্থানান্তরের প্রবণতা পরিকল্পিত নগরায়ণের অন্তরায়। এ কারণে নগরমুখিতা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে গ্রামে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহর এলাকার মধ্যে জীবনমান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবধানও কমিয়ে আনতে হবে। নগরমুখিতা নিরুৎসাহিত করা ও পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য এ বিষয়গুলোর ওপরই জোর দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর অন্তর্ভুক্ত।।
শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত। সুশিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি কখনও উন্নতি করতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও এর মান বিকাশে সর্বশেষ ২০১০ সালে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। এর আলোকে গৃহীত সরকারের পদক্ষেপগুলোই উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে। দেশপ্রেমিক, কর্মকুশল ও সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলার জন্য সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, শিক্ষণ, শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনসহ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এ পদক্ষেপসমূহ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বর্তমান শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি এমনভাবে প্রণীত হয়েছে যে এতে দেশের আর্থ-সামাজিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ প্রভৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। তাছাড়া বর্তমান শিক্ষানীতিতে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিরও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রচলিত কাঠামোবদ্ধ বা সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জাতীয় শিক্ষানীতির সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রায়োগিক করার চেষ্টা করছে। ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, সরকারের দেশগঠনে অবদান রাখতে পারে এরকম শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নাগরিক-গোষ্ঠী গড়ে তুলতে আন্তরিক। এজন্যই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের দিকটি এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে জোর দেওয়া হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠছে, যারা ভবিষ্যতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দানে সক্ষম হবেন। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষাখাতে সরকারের চলমান পদক্ষেপসমূহ পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশে মানবসম্পদের উন্নয়নের সাথে সাথে অর্থনৈতিক অবস্থাতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!