WASA-এর পূর্ণরূপ হলো Water Supply and Sewerage Authority. অর্থাৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ।
জনগণের স্বার্থরক্ষা ও সর্বাধিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ব্যবসায় গঠিত হয়।
মুনাফা অর্জন নয়; বরং জনগণের সার্বিক কল্যাণসাধন করাই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য। বেসরকারি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সংগঠনগুলো মুনাফাকে প্রাধান্য দেওয়ায় জনগণ অনেক সময় ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত পণ্য ও সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই জনগণের কল্যাণসাধনের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন করা। জনকল্যাণমূলক প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। তাই বলা যায়, জনগণের স্বার্থরক্ষা ও সর্বাধিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ব্যবসায় গঠিত হয়।
উদ্দীপকে পর্যটকদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেটি হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে (BR)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নামে পরিচালিত হচ্ছে। আর রেলপথ সম্প্রসারণের একমাত্র রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস চালু করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে যাতে পর্যটকগণ নিরাপদে ও আরামে কক্সবাজার যেতে পারে। যেহেতু রেলপথ সম্প্রসারণের একমাত্র রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পর্যটকদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেটি হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে।
পদ্মা সেতুর অপর পাড়ে বৃহদায়তন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মানে উদ্দীপকে উল্লিখিত নতুন ব্যবসায়টি হলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ব্যবসায় (PPP) যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) ব্যবসায় হলো দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি ব্যবস্থা যেখানে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাত সরকারের সাথে চুক্তি করে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার নিজস্ব বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন সার্ভিস দেওয়ার জন্য একটি নতুন ব্যবসায় গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। যেহেতু সরকারি ও বেসরকারি খাত যৌথমূলধন বিনিয়োগ করে নতুন ব্যবসায় গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে তাই বলা যায়, উক্ত নতুন ব্যবসায়টি হলো সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসায় (PPP)। অবকাঠামো নির্মাণ, বন্দর নির্মাণ, হাসপাতাল নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠান গঠনে এরূপ ব্যবসায় কার্যকর। জনগণের কল্যাণসাধনের জন্য সরকার রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে। কিন্তু দেশে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর করতে গেলে বিশাল অর্থের প্রয়োজন হবে। সরকার এ প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে পারে না বলে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাদের কাছে ধরনা দিতে হয়। যদি সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাদের কাছ থেকে সাহায্য নেয় তাহলে এসব খাত থেকে আয়ের একটি বিরাট অংশ তাদেরকে দিয়ে দিতে হয়। সরকার যদি জনগণের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এসব নির্মাণ কাজ করে তাহলে বিদেশি সংস্থাকে কোনো অর্থ দিতে হয় না। ফলে দেশের টাকা দেশেই থাকে। তাছাড়া উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে ও সরকারের আর্থিক চাপ হ্রাস পায়। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হয়।
সুতরাং বলা যায়, পদ্মা সেতুর অপর পাড়ে বৃহদায়তন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণে উদ্দীপকে উল্লিখিত নতুন ব্যবসায় অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ব্যবসায়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!