ওআইসি'র সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৬৯ সালে OIC গঠিত হয়। OIC- এর দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-
১. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা।
২. ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান করা, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা।
উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা কমনওয়েলথের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই কমনওয়েলথের সাথে সুসম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭২ সালের ১৮ই এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভের পর থেকে বাংলাদেশের সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কমনওয়েলথের অনেক সহযোগিতা পেয়েছে। ব্রিটেনের মূল ধারার গণমাধ্যম পাকবাহিনীর নৃশংসতার খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করে মুক্তিবাহিনীর সপক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন করে। আশ্রয় শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপনকারী মানুষের সহায়তায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো এগিয়ে আসে। কমনওয়েলথের সদস্য 'হিসেবে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং কমনওয়েলথ সচিবালয় ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে উন্নত ও উন্নয়নশীল সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রচুর কারিগরি, আর্থিক ও শিক্ষা খাতে সহায়তা পেয়ে থাকে। কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশের অনেক পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও কলাকুশলী ফেলোশীপ ও বৃত্তি লাভ করে আসছেন। কমনওয়েলথ-এর প্রায় সবকটি শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ কমনওয়েলথের নীতি ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ কমনওয়েলথ ব্রিটেন ও এর শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে গড়ে ওঠে। আর সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়। কমনওয়েলথ ও সার্কের উদ্দেশ্যের তুলনামূলক আলোচনা নিম্নরূপ:
কমনওয়েলথের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিটেন ও এর স্বাধীন উপনিবেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সম্পর্ক রক্ষা। এই সম্পর্ক ধরে রাখার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানে সহায়তা করার মাধ্যমে দেশগুলোর অগ্রগতি সাধন করাই হচ্ছে এর উদ্দেশ্য।
দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপুষ্টি, জনসংখ্যার আধিক্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি এসব দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যা দূরীকরণ ও পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সার্ক গঠিত হয়। সার্ক গঠনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হলো: সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের - জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা; এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করা; দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে জাতীয়ভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা; এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান বিরোধ ও সমস্যা দূর করে পারস্পরিক সমঝোতা সৃষ্টি করা; দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতি মেনে চলা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাও সার্কের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, কমনওয়েলথ ও সার্ক উভয় সংস্থাই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে গড়ে ওঠে।
Related Question
View AllSAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "South Asian Association for Regional Cooperation" |
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। এ এলাকার উপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
কেননা ওআইসি-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২৩। ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য আছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, বর্ণবৈষম্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা। এছাড়া মুসলিম জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামকে জোরদার করতে সাহায্য করা, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
উদ্দীপকের হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' মধ্যেও আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থার প্রাথমিক সদস্য ২৩। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সৎভাব বজায় রাখা এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই আমরা বলতে পারি, হাসান সাহেবের শান্তি সংস্থার সাথে ওআইসির উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
হাকিম সাহেবের সংস্থার সাথে জাতিসংঘের অনেক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো হলো- শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সুকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা; অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা; এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিবাদের মীমাংসা করা।
উদ্দীপকের হাকিম সাহেবের সংস্থা 'সূর্যনগর সমবায় সমিতি' এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ পাঠাগার, খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলোর সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের অনেক মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ছয়টি।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
নিরাপত্তা পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!