বাংলার পাঠশালা আয়োজিত এক পাঠচক্রে উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের আগমন সম্পর্কে আলোচনা চলছিল। আলোচককে সুনেত্রা নামের এক সদস্য জিজ্ঞেস করল, 'স্যার, একটি বণিক সংঘ কীভাবে • উপমহাদেশের শাসন ক্ষমতা লাভ করেছিল?' আলোচক বললেন, 'এদেশের তদানীন্তন শাসকদের অদূরদর্শিতা, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, সেকেলে সমরনীতি এবং ইংরেজদের কূটবুদ্ধি ও উন্নত যুদ্ধকৌশলের কারণে তারা ভারতবর্ষে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছিল।'

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

উত্তরঃ

ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা জন যেফানিয় হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত মিথ্যা কাহিনি 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত।
হলওয়েল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়েছিল। সে মুক্তি পাওয়ার পর প্রচারণা চালায় যে, নবাবের আদেশে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থবিশিষ্ট ছোট একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে এদের মধ্যে ১২৩ জন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। বাকি ২৩ জন কোনোরকমে বেঁচে ছিল। পরবর্তীতে এ কাহিনি অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর সাথে নবাব মীর কাশিমের কর্মকান্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
মীর কাশিম ছিলেন রাজনীতিতে দূরদর্শী এবং সুদক্ষ শাসক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মীরজাফরের পতনের মূলে ছিল নবাব হিসেবে তার আর্থিক দূরবস্থা, সামরিক দুর্বলতা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থলোলুপতা। মীর কাশিম চেয়েছিলেন সম্মানজনক উপায়ে চুক্তিমত ইংরেজদের প্রাপ্য মিটিয়ে বাংলার স্বার্থরক্ষা করতে। এজন্য তিনি কোম্পানির প্রাপ্য মিটিয়ে আর্থিক ও সামরিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের দিকে নজর দেন। আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়ার পর বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে তিনি আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেমন- রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর, কোম্পানির ব্যবসার সীমারেখা নির্ধারণ ইত্যাদি। কিন্তু তার এ সব উদ্যোগ ইংরেজদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে কোম্পানির সাথে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিযুক্ত হওয়ার পর জনাব 'ক' ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার জন্য কিছু দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেন। তিনি এসবের ফলে আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেন। কিন্তু 'ক'-এর কর্মকান্ড পরিচালনা পরিষদের মনঃপূত না হওয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর সাথে বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তরঃ

উক্ত নবাব অর্থাৎ নবাব মীর কাশিমের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৭৬৪ সালে সংঘটিত বক্সারের যুদ্ধের তাৎপর্য অনেক। কেননা, পলাশীর যুদ্ধে শুধু বাংলার নবাব পরাজিত হন, কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং মুঘল সম্রাট সম্মিলিতভাবে পরাজিত হন। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় শাসকদের সামরিক ক্ষমতা ও দক্ষতা ইংরেজদের তুলনায় নিম্নস্তরের বলে প্রমাণিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, এ যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
দ্বিতীয়ত, ভারতবর্ষে ইংরেজ বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ও দক্ষতা প্রমাণিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ভারতের অন্যান্য স্থানেও একে একে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
তৃতীয়ত, অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে কারা ও এলাহাবাদ অঞ্চল দুটি কেড়ে নেওয়া হয়। বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত সমগ্র উত্তর ভারত ইংরেজদের অধীনে চলে যায়।
চতুর্থত, যুদ্ধে পরাজয়ের পর মীর কাশিম আত্মগোপন করেন। দিল্লির সম্রাট ইংরেজদের পক্ষাবলম্বন করেন।
পঞ্চমত, বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যথার্থভাবে ইংরেজ কোম্পানির একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ইংরেজ শক্তির উত্থানের সহায়ক হিসেবে ভারতবর্ষের ইতিহাসে বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব অনেক।

196
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

নবাবের আদেশ অমান্য করে দুর্গ নির্মাণ করা ও মসনদে বসার পর তাকে প্রথামত সম্মান না জানানোয় ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা।
সিরাজ-উদ-দৌলা ক্ষমতায় বসার সময় ইংরেজরা কলকাতায় এবং ফরাসিরা চন্দননগরে দুর্গ নির্মাণ করছিল। ব্যবসায়ীদের দুর্গের দরকার নেই এবং নবাবের বাহিনী নিরাপত্তা দেবে এ কথা বলে নবাব তাদের দুর্গ নির্মাণের কাজ বন্ধের আদেশ দেন। এ আদেশ ফরাসিরা মানলেও ইংরেজরা অমান্য করে। তাছাড়া নতুন নবাব হিসেবে মসনদে বসার পর ইংরেজরা সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রথামত সম্মান জানায়নি। এজন্য নবাব তাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।

769
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত আফ্রিকার দেশটিতে পাঠ্যপুস্তকের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসার প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের (Elizabeth I of England) কাছ থেকে সনদ নিয়ে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে আসে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের এক ফরমানবলে ইংরেজ বণিকরা সুরাটে (বর্তমান গুজরাটে) বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। তারা ক্রমে উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, বিহারের পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজারে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাৎসরিক ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুর নামের তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভ করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্যার উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু উইলিয়াম নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। এ নতুন কোম্পানি 'The Urfited Company of Merchants of England Trading to the East India' নামে পরিচিতি লাভ করে। এ যৌথ কোম্পানি ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে।

267
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গঠিত বাণিজ্য কোম্পানির প্রতি আফ্রিকার দেশটির শাসকরা উদারতা দেখিয়েছেন। তবে এর সুযোগে ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট দেশটিতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে আগ্রহী হতে পারে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকের এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভারতে বাণিজ্য করতে আসা চতুর ব্রিটিশ বণিকদের কার্যকলাপের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজ বণিকদের গঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্যেই এসেছিল। পরে ভারতীয় শাসকদের উদারতা ও দুর্বলতার সুযোগে তারা উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে বসে।
ইংরেজদের প্রতি দিল্লি ও বাংলার আঞ্চলিক শাসকরা উদার ছিলেন। তাদের উদারতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও
ফরমানবলে সুরাটে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন। মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারও ইংরেজদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সুরম্যান বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা
রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এক লাভের জন্য মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। এ সময় সম্রাট অসুস্থ ছিলেন। ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটনের চিকিৎসায় সম্রাট ফররুখশিয়ার সুস্থ হন। এতে তিনি ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ এবং বোম্বাইয়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার সনদ প্রদান করেন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের অনেক অন্যায়-আচরণ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরও সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ সব কারণে ইংরেজরা ধীরে ধীরে বাংলা তথা গোটা ভারতে নিজেদের শক্তি বাড়ায় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়ই তারা ষড়যন্ত্র করে প্রহসনমূলক পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, আফ্রিকার দেশটির শাসকদের উদারতা উচ্চাভিলাষী ইংরেজ বণিকদের মতোই আশরাফ ও সাহাবুদ্দীন সাহেবদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করতে পারে

238
উত্তরঃ

ইংরেজদের ব্যবসায় সম্প্রসারণসহ আধিপত্য বিস্তারের পথ সুগম হওয়ার কারণে সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
ভারতবর্ষে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ১৭১৫ সালে ইংরেজ দূত জন সুরমান সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। তিনি সম্রাটের চিকিৎসা করে তাকে কঠিন রোগ থেকে মুক্ত করেন। ফররুখশিয়ার এতে খুশি হয়ে ফরমান জারি করে সব সুবাদারকে ইংরেজদের সব ধরনের  বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার আদেশ দেন। সম্রাট ফররুখশিয়ারের এ ফরমান জারির কারণে ইংরেজদের আধিপত্য আরও বেড়ে যায়, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।

653
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews