বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ মেলায় ক্রেতা, বিক্রেতা, দর্শনার্থী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন আবৃত্তি, সঙ্গীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ মূর্খতার যুগ বা অন্ধকারের যুগ।

ইসলামপূর্ব আরবের অধঃপতিত সমাজব্যবস্থাকে আইয়্যামে জাহেলিয়া বা মূর্খতার যুগ বলা হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর পূর্বের সময়কালকে আইয়্যামে জাহেলিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সময় আরবের সমাজ নানা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল এবং নৈতিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছিল।

এ যুগে আরবে কোনো কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। গোত্রপ্রীতি ও সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বহু দেব-দেবী ও প্রতিমা পূজা প্রচলিত ছিল এবং নারীজাতির কোনো সম্মান ছিল না। কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেওয়া, মদ্যপান, জুয়া খেলা, যুদ্ধবিগ্রহ ইত্যাদি ছিল তাদের সমাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এই সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অরাজকতার কারণে এই সময়কে মূর্খতার যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ইসলামপূর্ব আরবে কিছু সংখ্যক একনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, যারা মূর্তিপূজা এবং প্রচলিত শিরকপূর্ণ ধর্মীয় রীতিনীতি প্রত্যাখ্যান করে এক আল্লাহর ইবাদত করতেন। তারা ইহুদি বা খ্রিস্টান ছিলেন না, বরং হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদি বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদী ধর্মমত অনুসরণ করতেন। এই সকল একনিষ্ঠ একেশ্বরবাদী ব্যক্তিরাই 'হানিফ' সম্প্রদায় নামে পরিচিত ছিলেন।

হানিফগণ তৎকালীন আরবের পৌত্তলিক সমাজে সত্য ধর্মের সন্ধানে ব্রতী ছিলেন এবং নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করতেন। এমনকি ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের পূর্বেও এই হানিফ ধর্মমতের অনুসারী ছিলেন। হানিফদের অস্তিত্ব আরবে ইসলামের আগমনের পূর্বে একত্ববাদের ধারণা টিকিয়ে রাখতে এবং মূর্তিপূজার বিপরীতে সত্যের পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলা একাডেমি পুরস্কারের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের 'মু'আল্লাকাত' পুরস্কারের সাদৃশ্য রয়েছে। 'মু'আল্লাকাত' ছিল তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ ৭টি কবিতার সংকলন, যা কাবার দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো এবং শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।

প্রাক-ইসলামি আরবে কবিতা ছিল সম্মান ও প্রতিপত্তির অন্যতম উৎস। সে যুগে শ্রেষ্ঠ কবিদের রচনার সাহিত্যিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের কবিতাগুলোকে মক্কার কাবা ঘরের দেওয়ালে সম্মানের সাথে টাঙিয়ে রাখা হতো, যা 'মু'আল্লাকাত' নামে পরিচিত। এই পুরস্কার শুধু কবিকে নয়, তার গোত্রকেও সম্মানিত করত এবং এটি ছিল তাদের সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলা একাডেমি পুরস্কার যেমন প্রতি বছর মাসব্যাপী বইমেলায় সাহিত্যকর্মের বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয় এবং বাংলা সাহিত্যিকদের সম্মাননা জানায়, ঠিক তেমনি 'মু'আল্লাকাত' প্রাক-ইসলামি যুগে শ্রেষ্ঠ কবিদের সাহিত্য প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিত। উভয় পুরস্কারই নিজ নিজ সময়ে সাহিত্যিকদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতাকে মূল্যায়ন এবং উৎসাহিত করার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে, যদিও তাদের প্রদানের প্রেক্ষাপট ও পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলা একাডেমি বইমেলা যেমন সাহিত্যচর্চা, প্রকাশনা ও সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে মূলত সাহিত্যনির্ভর একটি আসর, তেমনি প্রাক-ইসলামী আরবের সুপরিচিত উকাজ মেলাও ছিল একইভাবে সাহিত্যচর্চা ও কাব্য-প্রতিযোগিতা কেন্দ্রিক। উভয়ের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাহিত্যের প্রসার ও উৎকর্ষ সাধন।

বাংলা একাডেমি বইমেলায় আবৃত্তি, সঙ্গীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যা এটিকে একটি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য মিলনমেলায় পরিণত করে। প্রতি বছর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা এই মেলাকে সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করে। এই বর্ণনা উকাজ মেলার সাহিত্যিক গুরুত্বের সাথে তুলনীয়, যেখানে আরবের শ্রেষ্ঠ কবিরা সমবেত হয়ে তাঁদের কাব্যপ্রতিভা প্রদর্শন করতেন এবং শ্রেষ্ঠ কাব্যকর্মগুলো কাবাঘরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা 'মুআল্লাকাত' নামে পরিচিত।

উকাজ মেলা শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক মেলা ছিল না, এটি ছিল মূলত একটি সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে আরবের বিভিন্ন গোত্রের কবিরা উপস্থিত হয়ে কাব্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। সেরা কবিদের কবিতা সম্মানজনকভাবে মেলায় প্রদর্শিত হতো এবং তাদের খ্যাতি সমগ্র আরবে ছড়িয়ে পড়ত। এই মেলায় কাব্যের বিচার হতো, নতুন সাহিত্যিকদের উত্থান ঘটত এবং ভাষার বিশুদ্ধতা ও সাহিত্যের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। আরবের শ্রেষ্ঠ সাতটি বা দশটি কবিতা 'সাত ঝুলন্ত কবিতা' বা 'মুআল্লাকাত' হিসেবে উকাজ মেলার মাধ্যমেই স্বীকৃতি লাভ করেছিল, যা আজও আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

সুতরাং, বাংলা একাডেমি বইমেলা যেমন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান কেন্দ্র, যেখানে সাহিত্যিকদের মিলন ঘটে এবং নতুন সৃষ্টিকর্মের প্রসার হয়, তেমনি উকাজ মেলাও ছিল প্রাক-ইসলামী আরবের কাব্যচর্চা ও সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতার এক অসাধারণ ক্ষেত্র। উভয় মেলাই সাহিত্যিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করেছিল, যেখানে তারা তাদের সৃষ্টি তুলে ধরতে পারতেন এবং এর মাধ্যমে সমাজের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতেন। তাই, উদ্দীপকের মেলাটির মতো উকাজ মেলাও নিঃসন্দেহে সাহিত্যনির্ভর ছিল বলা যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
392

Related Question

View All
7.6k
উত্তরঃ

"হানিফ" বলতে বোঝায় সেই সব ব্যক্তি, যারা ইসলাম আগমনের পূর্বে ইবরাহিম (আ.)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং তারা সমাজের প্রচলিত মূর্তিপূজা ও কুসংস্কার থেকে নিজেদের দূরে রাখতেন। তারা প্রকৃত ধর্মের সন্ধানকারী এবং সত্যপথে চলার চেষ্টা করতেন।

khadija
khadija
1 year ago
5.4k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মোহনপুর এলাকার ওয়ার্ড ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন আরবের গোত্রীয় প্রথার মিল রয়েছে।

প্রাচীন আরবের সমাজে গোত্রীয় প্রথা ছিল প্রচলিত। প্রত্যেক গোত্রের নিজস্ব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল এবং তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করত। সম্পদ, ক্ষমতা বা সামান্য বিষয় নিয়েও প্রায়শই এক গোত্রের সাথে অন্য গোত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগে থাকত। এসময় সামাজিক স্থিতিশীলতার অভাব ছিল প্রকট এবং গোত্রীয় সংঘাত ছিল একটি সাধারণ চিত্র। নারীর সামাজিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত নিম্ন, তাদের কেবল ভোগের বস্তু বা বোঝা মনে করা হতো এবং অনেক সময় কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

উদ্দীপকের মোহনপুর এলাকার ওয়ার্ড ব্যবস্থার মধ্যে প্রাচীন আরবের গোত্রীয় প্রথার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। যেমন, মোহনপুরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে হানাহানি ও আন্তঃকলহ লেগে থাকে, যা প্রাচীন আরবের গোত্রকলহের অনুরূপ। ফসল কাটা, মাছ ধরা ও পশুপালন নিয়ে সংঘটিত বিবাদ প্রাচীন আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে সম্পদ ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। উপরন্তু, মোহনপুরের পুরুষরা নারীদের অভিশাপ ও বোঝা মনে করে, যা প্রাচীন আরবের জাহিলিয়া যুগের নারীদের দুরবস্থার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
2.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews