'শভিনিস্টিক' শব্দের অর্থ আত্মগৌরব মতবাদী।
"সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।"- উক্তিটি দ্বারা প্রাচীন কৃষি সমাজের শীতকালীন নির্জীবতার পর নবজীবনের আবির্ভাবের ধারণার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিষয়টির সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়েছে।
কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ধারণা তৈরি হয়। কালের পথ পরিক্রমায় এর উদযাপন রীতিতে নানা পালাবদল ঘটেছে এবং এটি বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জন করেছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসব সব বাঙালির। এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক। আর এই কারণেই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমন্ডিত।
'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবটি উদ্দীপকে প্রায় সবটুকুই লক্ষণীয়। নববর্ষ সব দেশের সব জাতির আনন্দ উৎসবের দিন, সব মানুষের কল্যাণ কামনার দিন। বিশ্বের সব মানুষের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা করা হয় নববর্ষ উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে। বাঙালিরা প্রতিবছর বাংলা প্রথম মাসের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে।
উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এই উৎসবের ঐতিহাসিকতা, সম্রাট আকবরের বাংলা সন গণনা, নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে। 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধেও লেখক এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই প্রবন্ধে পাকিস্তান আমলে বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপনে বাধা দেওয়া, উৎসব পালন করতে না দেওয়ার যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে সেই দিকটিও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, জাতি, পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উৎসব। বাঙালিরা মহা সমারোহে প্রতিবছর 'পয়লা বৈশাখ' বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে। এই দিনে একসঙ্গে সারা দেশ আনন্দে মেতে ওঠে। এই উৎসবে প্রত্যেকে একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সৌহার্দ প্রকাশ করে। উদ্দীপকে এই বিষয় প্রকাশ পায়নি। বাঙালিদের নববর্ষ উৎসবে পালনের বিরোধিতা করা এবং বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার প্রতিবাদ করার বিষয়টি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকে অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এসব কারণে তাই বলা যায়, 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের প্রায় পুরো বিষয়ই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতীয়তায় নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণাটি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত। কালের পথপরিক্রমায় এবং উদযাপনের রীতির পরিবর্তন ধারায় বাংলা নববর্ষ উৎসব বর্তমানে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক।
উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের বর্তমান ও অতীত অবস্থা নির্দেশ করে এই উৎসবের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন কীভাবে ধীরে ধীরে পূর্ববাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের চেতনা 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে নববর্ষ উদ্যাপনে যে পালাবদলের কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ পালনের বর্তমান অবস্থাকে নির্দেশ করে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী অনুষঙ্গের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা যুক্ত হয়েছিল। তখন এই অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষ ধর্ম ও সম্প্রদায় নিরপেক্ষভাবে একটি প্রতিবাদী মনোভাব নিয়ে পরম উৎসাহে এই উৎসব পালন করে।
'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে লেখক বাংলা নববর্ষে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের বাইরে এসে মানুষ হিসেবে বাঙালিদের মধ্যে সবার সঙ্গে সবার বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। নববর্ষ উদ্যাপনের রীতিটি বাঙালির একান্ত নিজস্ব রীতি এবং তা ঐতিহ্যবাহী ও গৌরমণ্ডিত। এই উৎসব পালনে বাঙালি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়। শোভাযাত্রা, মেলা, হালখাতা, সংগীতানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও এসব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!