কঠিন পাথর দিয়ে শিলালিপি লেখা হয়।
মাতৃভাষার প্রবহমান স্রোতকে বোঝাতে কবি প্রদত্ত পঙক্তিটির অবতারণা করেছেন।
বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। আমরা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলি ও লিখি। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও তা-ই করতেন। এ ভাষা বাঙালির চিত্তকে আনন্দে ভরে দেয়। বাঙালিকে করে তোলে স্বপ্নমুখী। চিত্তে বজায় সুরের নূপুর। আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষ সবার মধ্যে এই একই সুরের ধ্বনি বাজে। তাই বলা হয়েছে, মাতৃভাষা অবিরাম ছুটে চলেছে। অর্থাৎ মাতৃভাষার মাধ্যমে আমরা নানা কাজ করে বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে।
উদ্দীপকের সাথে 'এই অক্ষরে' কবিতার সাদৃশ্য হলো বাংলা অক্ষর বাঙালি অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকার।
'এই অক্ষরে' কবিতায় কবি বাংলা ভাষার বন্দনা করেছেন। মাতৃভাষার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কেননা এই ভাষার অক্ষর বাঙালির প্রাণের সঙ্গে অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে বাংলা ভাষা কবির আশ্রয়। এ ভাষা কবির অনুভূতির সৌন্দর্য, আনন্দের নিরাপত্তা, সাধনার মন্ত্র ও অস্তিত্ব। কবি এ ভাষাকে নিজের ইচ্ছার শাশ্বতী পাঠ্য বলে মনে করেন। 'এই অক্ষরে' কবিতায়ও কবি মাতৃভাষার সঙ্গে বাঙালির চিরকালীন অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকার কথা বলেছেন। বস্তুত এ ভাষা যে বাঙালির অস্তিত্বের সাথে মিশে রয়েছে এ বিষয়টি আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক উভয় জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে। এ দিক দিয়েই উদ্দীপকের সাথে 'এই অক্ষরে' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
মাতৃভাষার বন্দনা করার দিক দিয়ে উদ্দীপকটি 'এই অক্ষরে' কবিতার মূলভাবকে স্পর্শ করে।
'এই অক্ষরে' কবিতায় কবির বাংলা ভাষার প্রতি প্রীতি ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কবি এ কবিতায় মাতৃভাষার বন্দনা করে বাংলা বর্ণমালার অবিনাশী প্রভাবকে তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষা যে বাঙালির অস্তিত্বের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এ বিষয়টিই নানা উপমায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের কবি বাংলা ভাষাকে যে নিজের প্রাণের সঙ্গে অস্তিত্বের সঙ্গে একাত্ম করে রেখেছেন সে বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। কবি মনে করেন বাংলা ভাষা তার আবহমান আশ্রয়। তার মন ও মননে গেলে রয়েছে এ ভাষা। এ ভাষার কাছে জীবন মুখর ধ্বনি, অনুভূতির সৌন্দর্য সাধনার মন্ত্র আর চির দুর্জয় অস্তিত্ব।
'এই অক্ষরে' কবিতা ও উদ্দীপক উভয় জায়গায় মাতৃভাষার প্রতি প্রণা ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। মাতৃভাষা যে মানুষে অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকে উভয় জায়গায় এ বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'এই অক্ষরে' কবিতার মূলভাবকে স্পর্শ করে ।
Related Question
View Allকঠিন পাথরে শিলালিপি লেখা হয়।
'এই অক্ষরে মাকে মনে পড়ে' বলতে কবি বুঝিয়েছেন মাতৃভাষার প্রসঙ্গ এলেই মাকে মনে পড়ে যায়।
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে চায়। মায়ের কাছেই আমরা প্রথম ভাষা শিখি। ফলে মাতৃভাষা কিংবা এ ভাষার কোনো অক্ষর চোখের সামনে বা মনে এলেই মাকে মনে পড়ে।
উদ্দীপকের 'তারা' 'এই অক্ষরে' কবিতার বাংলা ভাষার অবিনাশী বর্ণমালার সাথে তুলনীয়।
মাতৃভাষার সাথে প্রতিটি মানুষের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। তাই এ ভাষার প্রতিটি অক্ষর মানুষের কাছে আপন মনে হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে কালো কালিতে লেখা এ-কার, আ-কারকে সযতনে রাখার কথা বলা হয়েছে। 'তারা' যেন পাকা সোনালি ধান আর জুঁই ফুলের মতো সুন্দর ও অমূল্য। তাই মাতৃভাষার মান রক্ষার্থে বীর বাঙালি ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তারা বাংলা অক্ষরের অমর্যাদা হতে দেয়নি। উদ্দীপকে কবি বলেছেন, কালো কালিতে ছাপা এ-কার কিংবা আ-কার তাঁর কাছে পরম যত্নের বস্তু। তিনি এসবে সামান্যতম ধুলো-ময়লাও জমতে দেননি। তেমনি ভাষা আন্দোলনে এদেশের ছাত্র ও তরুণসমাজ জীবন দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এই ভাষার প্রতিটি অক্ষর তাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে, যা 'এই অক্ষরে' কবিতায়ও বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণ 'এই অক্ষরে' কবিতার সবচেয়ে তাৎপর্যময় ভাবার্থকে প্রকাশ করেছে।
প্রিয় মাতৃভাষাকে ভালোবেসে একটি যুদ্ধ জয় করা হয়েছে, ছিনিয়ে আনা হয়েছে একটি দেশের স্বাধীনতা। 'এই অক্ষরে' কবিতাতেও মূলত ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতা অর্জনের কথাই বলা হয়েছে।
শেষের দুটি চরণে উদ্দীপকের সারকথা প্রকাশ পেয়েছে। মাতৃভাষার প্রতিটি অনিন্দ্য সুন্দর বর্ণমালার প্রেরণাতেই এদেশের স্বাধীনতা এসেছে। ভাষা আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাশক্তি।
'এই অক্ষরে' কবিতার মূল তাৎপর্যময় বক্তব্য ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে। কেননা, আলোচ্য কবিতায় কবি বলেছেন, মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন থেকেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা এবং সবশেষে স্বাধীন বাংলাদেশ। আর কবিতার এই বক্তব্যই উদ্দীপকের কবিতাংশের শেষ দুটি চরণে ফুটে উঠেছে।
বাংলা অক্ষর বাঙালির মিলিত সত্তার শ্রেষ্ঠতম উৎস।
'এই ভাষা দিয়ে গান লিখে নিয়ে যুদ্ধ করেছি জয়'- দিয়ে কবি বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।
বাংলা বর্ণমালা বাঙালি জাতির অনন্য সম্পদ। মাতৃভাষার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কবি এই ভাষা দিয়ে মুক্তির গান লিখেছেন। যা যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের জুগিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। এই ভাষা তাদের বুকে সঞ্চার করেছে অবারিত আশা। মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন থেকে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা। তাই কবির এই ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
