রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিদের 'মূর্তিমতী কবিতা' বলেছেন।
"আমরা কোমলাঙ্গ- তাঁহারা কোমলাঙ্গী"- লাইনটি দ্বারা বাঙালি পুরুষ ও স্ত্রীলোককে বোঝানো হয়েছে।
বাঙালি পুরুষেরা সাধারণত শ্রমবিমুখ, তারা পরিশ্রম স্বীকার করতে চায় না, সহজে ও ফাঁকি দিয়ে যে কাজ উদ্ধার করা সম্ভব, সেটাই করতে উন্মুখ। তারা কঠিন পরিশ্রম আছে, এমন ব্যাবসা করে না। রৌদ্রে গিয়ে মাঠের ফসল তদারক করে না। পরিশ্রম করে বিদ্যার্জন করে না। এজন্য তাদেরকে কোমলাঙ্গ বলা হয়েছে। সাধারণত পুরুষকে অর্ধাঙ্গ ও স্ত্রীকে অর্ধাঙ্গী বলা হয়। সেই বিবেচনাতেই লেখিকা বাঙালি পুরুষকে কোমলাঙ্গ আর স্ত্রীলোককে কোমলাঙ্গী বলেছেন।
বাঙালির অলসপ্রিয়তা ও কর্মবিমুখতার বিষয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীর কোনো কোনো জাতির তুলনায় বাঙালি অনেক বেশি পরিশ্রমবিমুখ। তারা কঠোর পরিশ্রমের কোনো কাজ করতে চায় না। তাই যে কাজগুলো অপেক্ষাকৃত সহজ কেবল সেগুলোই তারা করে। কৃষিতে, ব্যাবসাবাণিজ্যে তাদের অনীহা।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালি অনেক বেশি আরামপ্রিয়। তারা সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাই কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে তারা নারাজ। বাঙালি অনুকরণপ্রিয়। কঠোর পরিশ্রম করে কোনোকিছু তারা আবিষ্কার করতে চায় না; বরং অন্যের আবিষ্কারকে তারা অনুকরণ করে। এভাবে অনুকরণ ও আরামপ্রিয়তার কারণে তাদের মেধা, জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। উদ্দীপকেও বাঙালির কর্মবিমুখতার গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। তাদের আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা প্রভৃতি তাদের ব্যাবসাবাণিজ্যে অনিচ্ছার কারণ। এভ.বে উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক ও. 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।'- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালির মেধা আছে, শক্তি আছে পরিশ্রম করার ইচ্ছেটা নেই। তারা যতটা পরিশ্রম করে তার চেয়ে বেশি বিশ্রাম নিতে পছন্দ করে। তাই আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা সহজেই তাদের আঁকড়ে ধরে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, বাঙালি পুরুষরা অলসতাপ্রিয় এবং শারীরিক পরিশ্রমবিমুখ। তাই তারা কৃষিকাজ, ব্যাবসাবাণিজ্য করতে চায় না। নিজেদের মেধাকেও তারা কাজে লাগাতে জানে না। তারা কেবল অন্যকে অনুকরণ করতে পারে। অন্যদিকে বাঙালি নারীরাও পরিশ্রমবিমুখ। তারা অহেতুক রূপচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং সর্বক্ষেত্রে নিজেদের অবলা বলে প্রমাণিত করতে চায়। উদ্দীপকেও বাঙালির এই কর্মবিমুখতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালির জ্ঞান-শক্তি, প্রেম-শক্তি থাকা সত্ত্বেও কর্মশক্তির অভাবে এসব কোনো কাজে আসছে না। আলস্য, জড়ত্ব, তন্দ্রা তাদেরকে কর্মবিমুখ করে রেখেছে।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যায় যে, উভয় স্থানেই বাঙালির কর্মবিমুখতার বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। উভয় স্থানেই বলা হয়েছে যে, আরামপ্রিয়তা ও কর্মবিমুখতার কারণে বাঙালি নিজ কর্মশক্তিকে কাজে লাগাতে পারছে না। কর্মশক্তির অভাবে বাঙালির এই অবনতি উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের মূলভাব। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশেমিজ জ্যাকেট জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন তাদের আলস্য বা অলসতার জন্য।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। পুরুষরা আলস্যপ্রিয়। আর নারী অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা এবং নিজেকে হীনবল মনে করে গৃহকোণে বন্দি জীবনযাপন করতে বেশি পছন্দ করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উন্নতি নেই। তাই লেখিকা বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন।
নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে আলোচিত অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। বাঙালির এ স্বভাব তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়।
উদ্দীপকে নন্দলালের শ্রমবিমুখতা এবং তার আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে পছন্দ করে। তার এই মূল্যহীন যুক্তি ও অলসতা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা প্রভৃতি নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। পরিশ্রম না করা ও ভোজনপ্রিয়তার ফলে বাঙালি পুরুষদের ভুঁড়িটি সজিনার মতোই স্কুল দেখায়। এভাবে উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি হলো বাঙালির আলস্যের প্রতি লেখিকার কঠোর সমালোচনা।
বাঙালি শ্রমবিমুখ, অলস। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতি পরিশ্রম অপেক্ষা তোষামোদ করতে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে নন্দলালের অজানা কোনো একটা সমস্যা-সংকটের ভয় এবং অলসতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই ভয়, কর্মবিমুখতা বাঙালির মজ্জাগত স্বভাববৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে নন্দলালের আলস্যকে সবাই সমর্থন করলেও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা তাদের কঠোর সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির এমন আরামপ্রিয়তা ও পরিশ্রম না করার দিকগুলোকে নির্বুদ্ধিতা ও অনুচিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা উদ্দীপকে উপেক্ষিত।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি পুরুষের কর্মবিমুখতা এবং বাঙালি নারীর দুর্বলচিত্ত ও অহেতুক রূপচর্চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদেরকে কতটা নিচুস্তরে নামিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধটির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। অথচ উদ্দীপকে সকলে নন্দলালের উদ্ভট কাজগুলোকে সমর্থন করছে, তার আচরণগুলো পরিবর্তনের জন্য কিছুই বলছে না। ফলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়।
মূলত যৌতুক প্রথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
বাঙালিরা আরামপ্রিয় হওয়ার কারণে বর অর্থাৎ ছেলেরা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেয়ে পাশ বিক্রয় করে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার কারণে ছেলের যত পড়াশোনা যৌতুকের বাজারে তার মূল্য তত বেশি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি বরেরা পাশ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!