একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
বাংলাদেশ সরকারের দেশের প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অর্থ সংস্থানের জন্য সরকারকে বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ আয় করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের সম্ভাব্য সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণীকে বাজেট বলে । আর এসব বিষয়ের আলোচনা সরকারি অর্থব্যবস্থায় হয়ে থাকে ।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
জাহিদের স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজটি সরকারের মূলধন বাজেট বা উন্নয়ন বাজেটের অন্তর্গত।
যে বাজেটে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাকে উন্নয়ন বাজেট বলে। এ বাজেটের লক্ষ্য হলো অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। এ বাজেটে মূলত দেশের পরবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রভৃতি খাতের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে প্রচুর পরিমাণে ব্যয় করতে হয়, যার অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎসের সাহায্য নিয়ে থাকে। বর্তমানে (২০১৮-১৯
অর্থবছরে) উন্নয়ন বাজেটের খাতভিত্তিক মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৭৯,৬৬৯ কোটি টাকা যেখানে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের - বরাদ্দ ৬৭,৯৩৫ কোটি টাকা (লক্ষ্যমাত্রা), যা মোট উন্নয়ন বাজেটের ১৬.৩ শতাংশ। এটি উন্নয়ন বাজেটের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত।
উদ্দীপকে জাহিদের স্কুলটি হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকার একটি বড় বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। সরকারের এ ধরনের বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দকে নির্দেশ করছে, যা সরকারের উন্নয়ন বাজেটের অন্তর্ভুক্ত। এ বাজেটের অধীনে সরকার প্রতিবছর শিক্ষাখাতের যুগোপযোগী উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য নতুন নতুন ভবন, গবেষণাগার ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলেন যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!