প্রথম আব্দুর রহমানকে 'আদ-দাখিল' বলা হয়।
সিংহাসনে আরোহণের পর নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয় উমাইয়া
খলিফা আব্দুর রহমান আদ দাখিল। আব্দুর রহমান আদ দাখিল ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দেয়। যেমন ইউসুফ ও স্যামুয়েলের বিদ্রোহ, ইয়েমেনি বিদ্রোহ, সেভিলে বিদ্রোহ, টলেডোর বিদ্রোহ। তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে এ সকল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া ফ্রান্সের শার্লিমানের সাথে সন্ধি করেন।
উদ্দীপকের বাতেন মৃধার কর্মকান্ডের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের খলিফা প্রথম আব্দুর রহমানের কর্মকাণ্ডের মিল আছে। নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি স্পেনে উমাইয়া সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
আব্বাসিদের গণহত্যা থেকে বেঁচে আব্দুর রহমান দীর্ঘ ৫ বছর মিসর, সিরিয়া ও উত্তর আফ্রিকায় পালিয়ে অবশেষে ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন যা উদ্দীপকে বাতেন মৃধার ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।
৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধের মাধ্যমে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহ সিংহাসনে আরোহণ করে উমাইয়া বংশকে সমূলে ধ্বংস
করার জন্য এক বেপরোয়া পাইকারি হত্যাযজ্ঞ চালায়। সৌভাগ্যক্রমে আব্দুর রহমান এই নিধন থেকে রক্ষা পান এবং তিনি সিরিয়া, মিসর, প্যালেস্টাইন ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে প্রবাসী জীবন কাটান। ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের শাসনকর্তা ইউসুফের সঙ্গে মাসারা নামক স্থানে আব্দুর রহমানের একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে ইউসুফ পরাজিত এবং পরে নিহত হলে আব্দুর রহমান স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করে নেন। কর্ডোভায় তার রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন।
হ্যাঁ, নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দিক দিয়ে বাতেন মৃধা প্রথম আব্দুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ছিল।
আব্বাসিদের গণহত্যা থেকে পালিয়ে নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে প্রথম আব্দুর রহমান স্পেনে ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। যা উদ্দীপকের বাতেন মৃধার কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
স্পেনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করে আব্দুর রহমান একটি সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। একটি দক্ষ সেনাবাহিনী গঠন করে তিনি সকল বিদ্রোহের মূল উৎপাটন করেন। তার সেনাবাহিনীতে ২,০০,০০০ সদস্য। তিনি প্রশাসনকে সুদৃঢ় করতে ওয়াজির, হাজীব, খতিব, কাজী, সাহিব-আল সুরতা, কায়েদ বা সেনাধ্যক্ষ নিয়োগ করেন। তিনি বিচারকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে আবু আমর বিন মুয়াবিয়াকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন।
উদ্দীপকে বাতেন মৃধা অনেক কষ্টে লেখাপড়া শিখে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শহরে আসে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের আক্রমণে তার জীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। এতদসত্ত্বেও তিনি সন্ত্রাসীদের সমস্ত হামলা প্রতিহত করে শহরে একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি হয়েছেন। আর স্পেনের প্রথম আব্দুর রহমানও সকল বাধা-বিপত্তি দুর করে সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন। তার রাজত্বে অনেক স্বনামধন্য সাহিত্যিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, ভাষাবিদ, আইন বিশারদ হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। তাছাড়া তিনি শিল্পকলার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রদর্শন করেন। তিনিই বিশ্ববিখ্যাত কর্ডোভা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি অসংখ্য মসজিদ, হাম্মাম, দুর্গ, পুল নির্মাণ করে অক্ষয় কীর্তি রেখেছেন। আর দানশীলতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের বাতেন মৃধা প্রথম আব্দুর রহমানের প্রতিচ্ছবি।
Related Question
View Allস্পেন ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
প্রথম আব্দুর রহমানের অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেন।
প্রথম আব্দুর রহমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার প্রদর্শনে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি তার গতিপথের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে একক শক্তি দিয়ে নির্মূল করতেন। আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের বিরুদ্ধে খলিফা আল মনসুর একটি অভিযান প্রেরণ করেন। আদ-দাখিল আল মনসুরের সেনাপতিকে পরাজিত করে তার ছিন্ন মস্তক ও একটি চিঠিসহ আল মনসুরের দরবারে প্রেরণ করেন। তার এ অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিহিংসার স্বরূপ প্রথম আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই রকম ছিল।
উমাইয়া ও আব্বাসি দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিনের। তাদের যে কোনো এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসলে অন্যদের চরমভাবে দমন-পীড়ন চালাত। উমাইয়াদের সরিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসলে আব্দুর রহমান ভাগ্য বিপর্যয়ের শিকার হন।
উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের নৃশংসভাবে হত্যা শুরু করে। এই নৃশংসতার হাত থেকে কেবল উমাইয়া যুবরাজ আব্দুর রহমান রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে গিয়ে উত্তর আফ্রিকার সিউটায় মামার আশ্রয় লাভ করেন এবং একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যুবরাজ আলাল যেমন রাজ্য হারা হন, একইভাবে আব্বাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রথম আব্দুর রহমান নিজ বাস্তুভূমি ত্যাগ করে পলায়ন করতে বাধ্য হন। দীর্ঘকাল পথে-প্রান্তরে ঘুরে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি নিজেকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুবরাজ আলালের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এবং আব্বাসিদের ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতায় প্রথম আব্দুর রহমানের ভাগ্য বিপর্যয়ের ঘটনা একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যুবরাজ আলালের মতো প্রথম আব্দুর রহমানও নিজ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা। বর্বর ইয়েমেনি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং সামাজিক দক্ষতার বলে এ সকল বিপদ হতে তিনি মুসলিম রাজ্য স্পেনকে মুক্ত করতে সমর্থ হন। যদিও তিনি একসময় আব্বাসীয়দের অত্যাচারের শিকার হয়ে পালিয়ে স্পেনে এসেছিলেন। উদ্দীপকের আলালও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাজ্যহারা হন এবং পুনরায় নিজেকে সুসংগঠিত করে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।
উদ্দীপকে আলাল রাজ্য দখলের ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন ঠিক একই ধরনের কৌশলের মাধ্যমে আব্দুর রহমানও স্পেন দখল করেন। শুধু কৌশল বা শান্তি প্রস্তাব নয়, আব্দুর রহমান আদ-দাখিলকে 'মাসারা' নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। এ যুদ্ধে স্পেনের শাসক ইউসুফ আল ফিহরি পরাজিত হলে আব্দুর রহমান স্পেন দখল করেন। স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফ আল ফিরির কুশাসনে রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। সিমারীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুর রহমানকে স্পেন আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে যান। তিনি বাবার, নির্যাতিত মুদারীয়দের ঐক্যবন্ধ করেন। ফলে তার শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মুন্যে জয়লাভ করে স্পেনে আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। আব্দুর রহমান যেমন রাজ্য দখল ও জনগণের মন জয় করেছিলেন, উদ্দীপকের আলালের ক্ষেত্রেও তা লক্ষণীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের আলাল খলিফা আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের ন্যায় বিজিত অঞ্চলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আব্দুর রহমানকে আদ-দাখিল বলা হয়।
মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসক কাউন্ট জুলিয়ানের আমন্ত্রণ পেয়ে খলিফা আল ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে মুসা ইবনে নুসায়ের সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে স্পেনে পাঠান। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে তারিক রাজা রডারিকের সম্মুখীন হন। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পর তারিক বিজয় লাভ করেন এবং রডারিক পরাজিত হয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারান। তারিকের সুদক্ষ রণকৌশল আর সাহসী মনোভাবে স্পেনে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হয়। এ কারণেই তিনি ইতিহাসে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!