মুসলিম সভ্যতায় (অষ্টম শতাব্দী থেকে) নগরায়ণের প্রসার ঘটে।
মাটির উর্বরাশক্তির ওপর নির্ভর করে বসতি স্থাপন করা হয়।
উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। মানুষ কৃষিজমির পাশে বসতি গড়ে তোলে যাতে করে সহজে ও কম খরচে ফসল ফলাতে পারে এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে। যেমন- যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। কিন্তু মাটি অনুর্বর বা অসমতল হলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন- চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
উদ্দীপকে বাদলের শহরটি গড়ে ওঠার পিছনে ইপিজেড (EPZ- Export Processing Zone) এর ভূমিকা রয়েছে।
বাদলের শহরটি পূর্বে গ্রাম ছিল। সেখানে একটি ইপিজেড (শিল্প এলাকা) প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন তা শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বস্তুত শিল্পকে কেন্দ্র করে কোনো স্থানে ধীরে ধীরে জনবসতি ঘন হয়ে ওঠে। বসতির লোকেরা শিল্পকারখানার আশপাশে বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তোলে। অনেক ছোট ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎরাস্তাঘাট, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি সহজলভ্য হয়। এভাবে ধীরে ধীরে কোনো স্থানে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ও জনবসতি বৃদ্ধি পায়। যা পরবর্তীতে শহরে পরিণত হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাদলের শহরটি গড়ে ওঠার পিছনে ইপিজেড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শুভর শহরটি প্রশাসনিক শহর। অপরদিকে বাদলের শহরটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে গড়ে ওঠে। অর্থাৎ এটি শিল্পভিত্তিক শহর।
প্রশাসনিক শহর তৈরিতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রধান ভূমিকা পালন করে। শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনে তথায় পৌর বসতি গড়ে ওঠে।
এ ধরনের শহরে সাধারণত সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও অফিস থাকে। এখান থেকে সরকারি কাজগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনিক শহরের জন্য সাধারণত ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক ও সুরক্ষিত এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়। যেমন- ঢাকা। অপরদিকে শিল্পভিত্তিক নগর তৈরিতে শিল্পভিত্তিক ক্রিয়াকলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত স্থায়ী নগরে শিল্পের আকর্ষণ অধিক হয়ে থাকে। শিল্প কারখানাকে কেন্দ্র করে জনবসতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ গড়ে ওঠে। যেমন- খুলনা, গাজীপুর। এখানে বসতির পরিমাণ অধিক হওয়ায় জনসংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হয়।
তাই উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, শুভর শহরটি বাদলের শহর থেকে ভিন্ন প্রকৃতির।
Related Question
View Allমুসলিম সভ্যতায় (অষ্টম শতাব্দী থেকে) নগরায়ণের প্রসার ঘটে।
মাটির উর্বরাশক্তির ওপর নির্ভর করে বসতি স্থাপন করা হয়।
উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। মানুষ কৃষিজমির পাশে বসতি গড়ে তোলে যাতে করে সহজে ও কম খরচে ফসল ফলাতে পারে এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে। যেমন- যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। কিন্তু মাটি অনুর্বর বা অসমতল হলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন- চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!