হলদে রঙের একজোড়া বেনে-বৌ পাখিকে আবার ফিরে আসতে দেখে লেখকের সত্যিকার ভাবনা ঘুচে গেল।
বিনা নিমন্ত্রণে কুকুরটি ভোজ খাওয়ার আশায় নিশ্চিত হয়ে বসে আছে, যা আতিথ্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
কুকুরটির সঙ্গে লেখকের সখ্য হওয়ার পরের দিন কুকুরটি লেখকের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে। পরের দিনও একই সময়ে কুকুরটি লেখকের গৃহে এসে হাজির হয়। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও বাড়িতে কোনো অতিথি অধিক সময় অবস্থান করলে তাতে আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়। তাই সাধারণ বিচারে কুকুরটি এ মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে, যা আলোচ্য বাক্যে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লোকদের হাঁটার প্রাণপণ চেষ্টা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের বায়ু পরিবর্তন করতে আসা বাতব্যাধিগ্রস্তদের হাঁটার দিকটিকে নির্দেশ করে।
চিকিৎসকেরা অনেক সময় রোগীদের বায়ু পরিবর্তনের জন্য বলেন। অনেকে তাই নতুন আবহাওয়ায় শারীরটাকে ঝরঝরে করতে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে যান। অনেকে আছেন সকাল-সন্ধ্যা হাঁটাহাঁটি করেন ডাক্তারের পরামর্শে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও বাতের রোগীরা এটা বেশি অনুসরণ করেন।
উদ্দীপকের বাদল সাহেব ডায়াবেটিস রোগী। তিনি ডাক্তারের পরামর্শে হাঁটতে বের হয়ে দেখেন তার মতো অনেকেই হাঁটতে এসেছে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান। সেখানে অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন করতে এসেছে। তাদের অনেকে ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য, আবার কেউবা বাতের জন্য হাঁটাহাঁটি করতে বের হয়েছে। কেউবা দ্রুতপদে ঘরে ফিরতে চেষ্টা করছে। গল্পের এ দিকটিকেই উদ্দীপকের লোকদের হাঁটার প্রাণ-পণ চেষ্টা নির্দেশ করেছে।
উদ্দীপকের বাদল সাহেবের প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মমত্ববোধের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটে উঠেছে।
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, ভালোবাসে। মানুষ হয়ে মানুষকে যেমন ভালোবাসা উচিত তেমনই অন্য প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
উদ্দীপকের বাদল সাহেব একজন ডায়বেটিসের রোগী। তিনি এক সকালে হাঁটতে গিয়ে দেখেন একটা বিড়ালছানা রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি ছানাটিকে বাসায় নিয়ে যান এবং পরম যত্নে সুস্থ করে তোলেন। প্রাণীর প্রতি তার এ মমত্ববোধ 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মমত্ববোধের অনুরূপ। কেননা লেখকও দেওঘরে বেড়াতে গিয়ে একটা রাস্তার কুকুরকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে নিজের কাছে এনে সেবা-যত্ন করেন এবং আপন করে নেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেখিয়েছেন মানুষে মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক, অন্য জীবের সঙ্গেও তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। লেখক নিজেই সেটা করে দেখিয়েছেন। আলোচ্য গল্পে তার বর্ণনা রয়েছে। উদ্দীপকের বাদল সাহেবের মাঝেও প্রাণীর প্রতি এমন মমত্ববোধ লক্ষ করা যায়। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন।
চাকরদের ভয়ে লেখকের অতিথি কুকুরটি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।
লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।
উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।
উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!