বদরের যুদ্ধে ১৪ জন মুসলমান শহিদ হন।
মজলিস-উস-শুরা ইসলামি রাষ্ট্রের একটি মন্ত্রণাপরিষদ।
প্রাক-ইসলামি যুগের দারুল নাদওয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদ এর অনুকরণে রাসূল (স) একটি পরামর্শব্যবস্থা চালু রাখেন, যা পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা)ও অনুসরণ করেন। হযরত ওমর (রা) এ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সব সময় বলতেন, পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণাপরিষদ গঠন করেন, যা মজলিস-উস-শুরা নামে পরিচিত। এটি মজলিস-উস-আম ও মজলিস-উস-খাস-এ দু ভাগে বিভক্ত ছিল।
আমার পঠিত ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কর্মকান্ডের সাথে উদ্দীপকের বাদশার সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।
মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র স্বধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার দ্বারা স্বধর্মত্যাগী ও ভন্ডনবিদের আন্দোলন দমন করে রাষ্ট্রকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় বাদশা আলমগীরের শাসনামলে দেশে নানা প্রকার বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। একদল লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করে এবং পাশাপাশি অনেক ভণ্ডপিরের আবির্ভাব ঘটে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ সমস্ত সমস্যার সমাধান করেন। অনুরূপভাবে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামের বেশ কয়েকজন ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। এভাবে আবু বকর (রা) সকল সমস্যার সমাধান করে ইসলামি রাজ্যকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন, যা উদ্দীপকের বাদশার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্ত খলিফা অর্থাৎ হযরত আবু বকর (রা) দৃঢ়চিত্তে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে আরবে ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হতে পারত।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওফাতের সাথে সাথেই নবদীক্ষিত আরববাসীর অধিকাংশই ইসলাম পরিত্যাগ করে নিজ ধর্মে ফিরে যেতে থাকে। কিছু কিছু গোত্রের গোত্রপতিরা নবুয়ত একটি লাভজনক পেশা মনে করে নিজেদের নবি বলে দাবি করে। এসব স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিরা আবু বকর (রা)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আবার অনেক গোত্র জাকাত প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়। হযরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সকল সমস্যার সমাধান করে নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের বাদশা আলমগীর জাকাত অস্বীকারকারী এবং ভণ্ডপিরদের দমন করে তার রাজ্যকে শরীয়া মোতাবেক দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। অনুরূপভাবে হযরত আবু বকর (রা)ও ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর, প্রতিষ্ঠিত করেন। মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের বিদ্রোহের ফলে ইসলাম যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল সেই মুহূর্তে খলিফা আবু বকর (রা) যদি সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারতেন তাহলে বিদ্রোহী নেতাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হতো এবং নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়ে যেত। হযরত আবু বকর (রা)-এর সংকর, গভীর আবাপ্রত্যয় ও অনমনীয় মনোভাবের কারণে ভণ্ডনবিদের সকল দুরভিসন্ধি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ফলে ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র রক্ষা পায়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের ন্যায় হযরত আবু বকর (রা)-এর ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের ঘটনা ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
Related Question
View Allহযরত ওমর (রা) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।
দক্ষ ও সুকৌশলী বীর সেনাপতি হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
প্রাথমিক জীবনে কুরাইশদের সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করলেও হুদায়বিয়ার সন্ধির পর (৬২৮ খ্রি.) খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল (স)-এর সময়ে হুনায়ুনের যুদ্ধ, তায়েফ বিজয়, তাবুক অভিযানে দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত করেন। তাছাড়া রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামার যুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনি ভণ্ডনবিদের শায়েস্তা করেন। এরপর জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ইসলামের খেদমতে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম দিক মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠনের মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন। আর এ আদর্শ দ্বারাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইসলামি গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন করেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রেখে তিনি পরামর্শভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জনাব 'ক' সকল বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা)ও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠন করেছিলেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মজলিস-উশ-শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।' তার গঠিত পরামর্শসভা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন-ক. মজলিস-উল-আম এবং খ. মজলিস-উল-খাস। মহানবি (স)-এর ঘনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মজলিস-উল-আম গঠিত ছিল। এরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য অল্প সংখ্যক মুহাজিরিন নিয়ে মজলিস-উল-খাস গঠিত ছিল। হযরত ওমর (রা) মজলিস-উশ-শুরা ছাড়াও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতেন। হযরত ওমর (রা)-এর উল্লিখিত আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত কর্মকাণ্ডে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়ের উজ্জ্বল আদর্শ। খলিফা হিসেবে তিনি ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে সর্বদা জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। তাই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সরকারি কোষাগার হিসেবে বায়তুল মালকে পুনর্গঠন করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় খরচ বাদে উদ্বৃত্ত অর্থ বায়তুল মাল বা কেন্দ্রীয় অর্থ তহবিলে জমা করা হতো। এ অর্থই বিভিন্ন খাতে সরকারিভাবে বণ্টন করা হতো। উল্লিখিত নীতিরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্বৃত্ত অর্থ বিষয়ে অধ্যক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ কলেজের ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি আর্থিক ফান্ড গড়ে তোলেন। এ ফান্ডে তিনি কলেজের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখেন এবং এ অর্থ কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করেন। একইভাবে হযরত ওমর (রা) বায়তুল মাল সংস্কার ও পুনর্গঠন করে সকল প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মাল প্রধানত তিন প্রকারের ছিল। ক. বায়তুল মাল আল খাস-এটি ছিল শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। খ. বায়তুল মাল আল আম-এটি খিলাফতের রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। গ. বায়তুল মাল আল মুসলেমিন- এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজকোষাগার। বায়তুল মালের এ শাখা সমাজকল্যাণমূলক কাজ, যেমন-রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণকামী চিন্তা-চেতনা ও কর্মকান্ডের দিক দিয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ক পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল নীতির আংশিক প্রতিফলন।
যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নুরের অধিকারী।
সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।
খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!