মানুষের জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিজ সম্পদ উৎপাদন করাকে কৃষিকাজ বলে।
যে কৃষিকাজের দ্বারা কোনো কৃষিজাত পণ্য মুনাফা লাভের আশায় উৎপাদন ও বিক্রয় করা হয় তাকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কৃষিকাজ বলে
বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কৃষিকাজে জমির পরিমাণ বেশি থাকে। এ কৃষিকাজ এমনভাবে পরিচালিত হয় যাতে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করা যায়। ফসল উৎপাদন ছাড়াও মাছ চাষ, হাঁস-মুরগির খামার ও গবাদি পশুপালন, নার্সারি, ফুল ও ফলের চাষ এবং বনায়ন ইত্যাদি কৃষিকাজ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে।
বাদশা মিয়ার জমিতে আশানুরূপ ফসল উৎপাদন না হওয়ার কারণ হলো পুরাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং কৃষি উপকরণ ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা।
বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে কৃষিতে এখনও পুরাতন তথা সনাতন পদ্ধতির কৃষি ব্যবস্থা প্রচলিত। এ ব্যবস্থায় কৃষিক্ষেত্রে কোনো প্রকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বৈজ্ঞানিক কলাকৌশল ব্যবহৃত হয় না। জমি কর্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয় গরু-মহিষ ও কাঠের লাঙল। সার হিসেবে শুধু গোবর কিংবা অন্যান্য দেশীয় সার ব্যবহৃত হয়, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে তেমন কাজ করে না। তাছাড়া এ ব্যবস্থায় উন্নত কৃষি উপকরণের (যেমন- উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের উন্নত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) ব্যবহার লক্ষ করা যায় না। এমনকি, এখনও অনেক এলাকায় কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচের জন্য বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে থাকে। আবার আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি বিষয়ক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র ও অশিক্ষিত কৃষকেরা উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে তারা জমিতে অধিক পরিমাণ শ্রম দিয়েও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফসল উৎপাদন করতে পারে না।
উদ্দীপকের বাদশা মিয়া গ্রামবাংলার অধিকাংশ কৃষকের মতোই অতি সাধারণ একজন কৃষক। তিনি সনাতন কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন। তাছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় তিনি জমিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ফসল উৎপাদন করতে পারেন নি।
হ্যাঁ, সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর বাদশা মিয়ার কৃষি উৎপাদন পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য সনাতন কৃষি পদ্ধতির স্থলে আধুনিক কৃষিব্যবস্থা চালু হলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে যাবে। আধুনিক কৃষিব্যবস্থা তথা কৃষির আধুনিকীকরণ বলতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ব্যবহারকে বোঝায়। তবে আমাদের দেশের বেশিরভাগ কৃষকই দরিদ্র ও অশিক্ষিত হওয়ায় তারা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও উন্নত কলাকৌশল ব্যবহার করতে জানে না। তাই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হলে, প্রথমেই এ সকল কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য কৃষি বিষয়ক সেমিনার, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ কার্যক্রম ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এভাবে কৃষি আধুনিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
উদ্দীপকে বাদশা মিয়া প্রাথমিক অবস্থায় সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করলেও পরবর্তীতে সেমিনারে অংশগ্রহণ করে কৃষি আধুনিকীকরণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তাছাড়া সেমিনারে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জমিতে অর্জিত নতুন জ্ঞানের তথা আধুনিক কলাকৌশলের প্রয়োগ ঘটান এবং নতুনভাবে কৃষিকাজ শুরু করেন।
কাজেই বলা যায়, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাদশা মিয়া ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমর্থ হবেন।
Related Question
View Allপ্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে
আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের আয় খুব কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও কম, ফলে উচ্চহারে পুঁজি গঠন করা সম্ভব হয় না
আয় ও ভোগ ব্যয়ের পার্থক্য থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সম্পূর্ণ বা বেশির ভাগ অর্থই ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে ব্যয় করতে হয়। ফলে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে পুঁজি তথা মূলধন গঠন করতে পারে না। তাছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহের অসুবিধা, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণেও এদেশে মূলধন গঠনের হার কম।
উদ্দীপকে 'A' খাত বলতে কৃষি খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে বোঝায় কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া। বাংলাদেশের জিডিপিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের GDP-তে কৃষি খাত (ফসল, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার এদেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের
চাহিদা পূরণেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হবে ৪১৫.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা), যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে অচিরেই আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে। যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার যোগানে সহায়তা করবে। তাছাড়া কৃষি খাত উন্নত হলে অন্যান্য খাত যেমন- শিল্প, সেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। আবার এ যাত বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
কাজেই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কৃষি ৩. খাতের উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' খাত কৃষি খাত এবং 'B' খাত হলো শিল্প খাত।
কৃষি ও শিল্প খাত পরস্পর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নতি ও আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও সারের যোগান দেয় শিল্প খাত। তেমনি শিল্পের প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে কৃষি খাত
কৃষি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন- পাট, চিনি, সার, কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের বর্ধিত চাহিদার কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। তাছাড়া কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প খাতের অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য দুটি খাতের
একই সঙ্গে উন্নতি একান্তভাবে কাম্য। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।
প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে।
এদেশের সিংহভাগ গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!