বাবা-মার প্রতি রুমনের বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। মা-বাবার আচরণ প্রত্যক্ষভাবে সন্তানদের তরুণ বয়সে নানারকম সমস্যার সঙ্গে সংযুক্ত। প্রতি কাজে বাধা প্রদান, অতিরিক্ত শাসন, আদর বা অবহেলা সন্তানকে অপরাধী করে তোলে।
রুমন তার শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তার বাবা তাকে বকা দেন। রুমন একজন তরুণ। এই বয়সের ছেলেমেয়েদের সাথে পরিবারের সদস্যদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। কিন্তু রুমনের বাবা-মায়ের আচরণ বন্ধুসুলভ নয়। তারুণ্যে মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ হলে যৌন আচরণ বিষয়ক মনোভাব। রুমনের মা-বাবারা যখন তাদের তরুণ বয়সে ছিলেন তখন যৌন জ্ঞানের বিষয় ছিল প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সমাজে তারুণ্যে এ জ্ঞান অর্জন আবশ্যকীয় বিষয়। অনেক বাবা-মাই ছেলেমেয়েদের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের প্রতি বয়স অনুযায়ী আচরণ করেন না। রুমনের বাবা-মাও তাই করেছেন। ফলে রুমন বাবা- মায়ের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করবে, তাদেরকে সেকেলে মনে করবে। তাই বলা যায়, তরুণদের সাথে বাবা-মা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা উচিত।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবয়োবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিপক্বতা অর্জন হচ্ছে তারুণ্য।
সামাজিক অভিযোজন বলতে বোঝায় সামাজিক আচরণ করার জন্য নতুন ধরনের সংগতিবিধান।
সামাজিক অভিযোজন একটি বিকাশমূলক কাজ। সামাজিক অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- সমবয়সী দলের প্রভাব, সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, বন্ধু নির্বাচনের জন্য নতুন মূল্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।
তিতলী যে সময়টি পার করছে সেটি হলো তারুণ্য।
তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি স্তর। এই স্তরের বয়সসীমা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর। তিতলী ১৮ বছরের তরুণী। ইদানিং তার মাঝে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটে নতুন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো হলো-
তিতলী দৈহিক পরিবর্তন ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করেছে। এই পরিপক্বতা অর্জনের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ তার ডিম্বকোষ, জরায়ু, স্তন এবং উচ্চতা ও ওজনের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করে। অত্যধিক আবেগ প্রবণতা তরুণদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদের সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে থাকে। দেহের পরিবর্তন, মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে তারা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকে। তরুণরা 'স্বাধীনভাবে চলতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিলে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তরুণরা বাবা-মার কাছ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান নিতে চায় না। এরা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করার জন্য পূর্ণবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তিতলীর মাঝে নতুন আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব লক্ষ করা যায়। তরুণ বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের বীজ রোপিত হয়। এসময় শিশু কালীন মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় এবং ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটে।
তিতলীর আবেগীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এ বয়সে সে নিজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে, আত্মপরিচিতি অর্জন করে। তার মূল্যবোধেও পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তার এ বয়সে অনেক সময়ই বড়দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তিতলী নিজ লিঙ্গভুক্ত অথবা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদের কাছে কোন কোন গুণ প্রশংসিত হবে তা বুঝতে পেরে নিজেকে সংস্কার করার চেষ্টা করে। আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিতলী দলীয় আচরণের মানকে গ্রহণ করবে এবং সে মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করবে। দলের স্বীকৃতি অর্জণ ব্যর্থ হলে সে হীনম্নন্যতায় ভুগবে। ফলে ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটবে না। আদর্শ হিসেবে পরিবারের বা পরিবারের বাইরে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে এবং তার মতো হতে চাইবে। সৃজনশীলতার প্রকাশ তাকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে। তার আত্মধারণার ওপর অনুকূল প্রভাব ফেলবে। নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারলে তিতলীর আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, তিতলীর উল্লিখিত পরিবর্তন বয়সের কারণেই ঘটেছে।
যেসব দ্রব্য সেবনে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং দৈহিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘস্থায়ী, প্রকট' ও বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই দ্রব্যগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়।
অর্থনৈতিক কারণে তারুণ্যের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দারিদ্রকে তরুণদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। অসচ্ছলতার দরুন বাবা-মা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা সমবয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সমতা রক্ষা করতে পারে না। তাদের মধ্যে নৈরাজ্যের সঞ্চার হয়, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!