'বাবা, আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। লোকটাকে জাদুকর ভেবেছিলাম।' বাবলুর কথায় বাবা মৃদু হেসে বললেন, না, উনি একজন ভালো মানুষ। একজন ভাষাশহীদের বাবা। এই বাড়িতে একাই থাকেন। একটাই ছেলে ছিল তাঁর। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনে ছেলেটি শহীদ হয়েছে। উনার নাম আবু সাবের। সারা বছর উনি বাগান পরিচর্যা করেন। ফুল ভালোবাসেন। অপেক্ষা করেন একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য। এদিন তার হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

বাবলু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে তাঁর কথা শুনতে থাকে।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

তপুর স্ত্রীর নাম রেণু।

উত্তরঃ

"সমুদ্রগভীর জনতা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।”- কথাটির মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাজপথে মিছিলে যোগ দেওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে গল্পকথকের কথায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। গল্পকথক মেডিকেল হোস্টেলের বাইরে, সবুজ ছড়ানো মাঠে অগণিত লোকের ভিড় জমতে দেখেন। সেখানে ছেলে-বুড়োরা জড়ো হয়- কেউ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে, কেউ লম্বা লাঠিটায় ঝোলানো রক্তাক্ত জামা নিয়ে। এসব মানুষকে বোঝাতেই লেখক তাদেরকে 'সমুদ্রগভীর জনতা' বলেছেন, যারা ধীরে ধীরে সামনের দিকে চলতে শুরু করেছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের আবু সাবের 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের রেণু চরিত্রের বিপরীত চরিত্র।

মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা সহজে ছিন্ন হয় না। কোনো কারণে প্রিয় মানুষটি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তখন সে সেই মানুষটিকে বারবার স্মরণ করে। অন্যদিকে এ সম্পর্ক যদি হয় স্বার্থের জন্য তখন তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

উদ্দীপকে আবু সাবের একজন ভাষাশহিদের বাবা। বাড়িতে তিনি একাই থাকেন। তাঁর একমাত্র ছেলেটি মহান ভাষা আন্দোলনে শহিদ হন। ছেলেকে তিনি ভুলতে পারেন না। সারা বছর তিনি বাগান পরিচর্যা করেন, ফুল ভালোবাসেন। একুশে ফেব্রুয়ারিতে তিনি তার হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে রেণু ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে শহিদ হওয়া তপুর স্ত্রী। তপু তাকে খুবই ভালোবাসত। অথচ তপু মারা যাওয়ার পর রেণু তার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত রাখতে পারেনি। এ কারণেই রেণু চরিত্রটি উদ্দীপকের আবু সাবের চরিত্রের বিপরীত চরিত্র।

উত্তরঃ

না, উদ্দীপকের মূলভাব 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে প্রতিফলিত করে না।

ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদকে সুদৃঢ় করে তোলে। ফলে ওই আন্দোলনের বীরেরা পরবর্তী সব আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জোগাবে।

উদ্দীপকে এক ভাষাশহিদের বাবার মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিকটি মুখ্য হয়ে ফুটে উঠেছে। আবু সাবের সেই গর্বিত বাবা যাঁর ছেলে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ হন। তাই তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য অপেক্ষা করে এ দিন তাঁর হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ভাষাশহিদদের এমন আত্মত্যাগ এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দিকটি 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পেও ফুটে উঠেছে। এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ। পাশাপাশি ফুটে উঠেছে শহিদ তপুর প্রতি গল্পকথক ও বন্ধুদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। তবে গল্পে এ দিকগুলো ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভাব প্রতিফলিত হয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু তরুণের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডের নানা দিক ফুটে উঠেছে। মিলিটারির গুলিতে শহিদ হওয়া তপুর কঙ্কাল ফিরে পেয়ে তার বন্ধুরা আবেগপ্রবণ হয়েছে। তপুর কঙ্কাল হিসেবে ফিরে পাওয়া যেন জাতীয় ইতিহাসের কোনো বীরের প্রত্যাবর্তন মনে হয়েছে। বারবার যেন তারা ফিরে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা মুক্তিকামী জনতাকে প্রেরণা জোগায়। এসব গুরুত্বপূর্ণ দিক গল্পে থাকলেও উদ্দীপকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

114
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
773
উত্তরঃ

তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল দেখছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড-নিয়ে তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর। অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।

626
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ

323
উত্তরঃ

যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে।

একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।

'একুশের গল্প' গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' বলে স্লোগান দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু পুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি।

'একুশের গল্প' গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।

244
উত্তরঃ

"তুমিও চলো না আমাদের সাথে।"- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যেতে।

'একুশের গল্প' শীর্ষক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।

146
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews