কৃষির প্রধান উপখাত হলো তিনটি।
কৃষি খামার বলতে একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তাকে বোঝায়। আবার, কৃষক পরিবার যে পরিমাণ জমি নিয়ে ফসল উৎপাদন কাজসহ মৎস্য চাষ, পশুপালন, বনায়ন, উদ্যান ইত্যাদি কৃষিকাজ পরিচালনা করে তাকে কৃষি খামার বলে। কৃষি খামারের আয়তন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ হতে পারে। আবার জমিগুলো এক জায়গায় অবস্থিত হতে পারে বা বিভিন্ন জায়গায়ও হতে পারে। একজন কৃষক তার নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে কী উৎপাদন করবে, কীভাবে উৎপাদন করবে সে সিদ্ধান্ত কৃষক নিজেই গ্রহণ করবে। এজন্য কৃষি খামারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এককও বলা হয়।
উদ্দীপকে বাবুল লিচুর ক্ষেত্রে উন্নত ধরনের উদ্ভাবিত বীজ সম্পর্কিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। নিচে এ প্রযুক্তির গুরুত্ব
ব্যাখ্যা করা হলো-
উন্নত ধরনের উদ্ভাবিত বীজ সম্পর্কিত প্রযুক্তি কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি নয়, বরং এটি কয়েকটি প্রযুক্তির সমন্বয়ের বহিঃপ্রকাশ। উন্নত ধরনের উদ্ভাবিত বীজ সম্পর্কিত প্রযুক্তি ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উন্নত উদ্ভাবিত বীজের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শস্য উৎপাদনে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে, আগের চেয়ে কম পরিমাণ জমিতে তুলনামূলক উৎপাদন বেশি পাওয়া যায়। উন্নত ধরনের উদ্ভাবিত বীজ ব্যবহারের ফলে চাষের নিবিড়তা বেড়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালোভাবে জমি কর্ষণ, উপযুক্ত পরিমাণে পানি সেচ ও সার প্রয়োগ করে একই সঙ্গে একাধিক ফসল আবাদ করা যায়। এছাড়া দীর্ঘ বিরতি ছাড়া একের পর এক শস্য আবাদ কিংবা একটির সঙ্গে আরেকটি ফসল চাষ করা সম্ভব হয়। উন্নত ধরনের বীজ ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের উন্নতি হয়। কেননা উৎপাদনক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা, গভীরভাবে ভূমিকর্ষণ, সার প্রদান ও পানি সেচ এবং আনুষঙ্গিক প্রতিটি কাজে বর্ধিত শ্রমের প্রয়োজন হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উন্নত ধরনের বীজ সম্পর্কিত প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে বাবুলের বাগান পরিচর্যা ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ICT এর ব্যবহার কৃষি খাতে অধিক উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। নিচে এ সম্পর্কে আমার মতামত প্রদান করা হলো-
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে দ্রুত যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, জুতসই, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ও সঠিক প্রয়োগ বিষয়ে আইসিটির বিকল্প নেই। কৃষিতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এখন কৃষকরা ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে কৃষি উৎপাদন বিষয়ক সর্বশেষ বিভিন্ন তথ্য, জ্ঞান, কলাকৌশল সম্বন্ধে জানতে পারছে।
আইসিটি ব্যবহার করে চাষাবাদের নতুন নতুন পদ্ধতি, কলাকৌশল, উদ্ভিদ পরিচর্যা এবং উদ্ভিদের রোগ প্রতিষেধক সম্পর্কে জানা যায়। যা উদ্ভিদকে সুস্থ ও সবল রেখে অধিক ফলনে সহায়তা করে।
বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবাজারে পণ্যের দাম, দাম ওঠানামার প্রবণতা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যসমূহের দাম প্রভৃতি জানা যায় আইসিটির মাধ্যমে। যার ফলে কৃষক বাজারব্যবস্থা বিবেচনায় রেখে পণ্য উৎপাদন করতে পারে এবং অধিক লাভবান হয়।
কৃষি পণ্যসমূহের চাহিদা ও যোগান পরিস্থিতি জানতেও আইসিটি কৃষককে সহায়তা করে। এতে করে কৃষক জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্যের যোগান অব্যাহত রাখতে পারে।
পাশাপাশি কৃষিপণ্য গুদামজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেটিং করার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কেও জানা যায় আইসিটির মাধ্যমে। যার ফলে কৃষকের উদ্বৃত্ত পণ্য নষ্ট হয় না এবং কৃষক অধিক উৎপাদনে উৎসাহী হয়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষিখাতে আইসিটির ব্যবহার অধিক উৎপাদনে সহায়তা করে এবং এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক সার্বিকভাবে উপকৃত হয়।
Related Question
View Allসেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।
একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!