(ক)
বায়ুমণ্ডল কী?
(জ্ঞানমূলক)
যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাই বায়ুমণ্ডল।
আমরা জানতে পেরেছি এখন পর্যন্ত মহাকাশে আবিষ্কৃত সৌরজগতের বাসযোগ্য আদর্শ গ্রহটি হচ্ছে পৃথিবী। ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জীবজগতের প্রাপ ধারণের প্রয়োজনীয় বায়ুর উপাদান বেষ্টিত রয়েছে। এটাকে আমরা বায়ুমণ্ডল বলি। এই বায়ুর উপাদানসমূহ কয়েকটি স্তরে বিভক্ত হয়ে অবস্থান করছে। এগুলো পৃথিবীর মানুষ ও অন্যান্য জীবজগতের জন্য কত দরকার, তা আমরা জানার ও বোঝার চেষ্টা করব।
Related Question
View Allবায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা ৭৮.০২ ভাগ।
বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় (যেমন- বজ্রপাত) আবদ্ধ হয় এবং উদ্ভিদ মাটি থেকে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। বাতাসে নাইট্রোজেন বেশি থাকায় তা বাতাসের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই বাতাসে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকার সুবিধা রয়েছে।
চিত্রের 'Q' স্তরটি স্ট্রাটোমণ্ডল।
ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere) নামে পরিচিত। নিচে স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা
করা হলো-
i. এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া শান্ত ও শুষ্ক থাকে। ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়ে বিনা বাঁধায় জেট বিমান চলাচল করে।
ii. এই স্তরে ওজোন (O;) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়।
iii. এ স্তরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।
চিত্রে প্রদর্শিত 'R' স্তরটি মেসোমণ্ডল বা Mesosphere এবং 'S'
স্তরটি তাপমণ্ডল বা Thermosphere। স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে। মেসোবিরতির (Mesopause) উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে তাপমণ্ডল বলে। চিত্রের 'R' স্তরটি বা মেসোমণ্ডল আমাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়। এই উল্কাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে প্রাণী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হতো। মেসোমণ্ডলের কারণেই এগুলো পৃথিবীতে আসতে পারে না।
তাই মেসোমণ্ডল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খামসিন মিসরের স্থানীয় বায়ু।
বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের উপর ভিত্তি করে আমেরিকান আবহাওয়াবিদ উইলিয়াম ফেরেল একটি সূত্র প্রদান করেন যা ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর- গোলার্ধে ডান এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। বিজ্ঞানী ফেরেল প্রথম এ সূত্র প্রদান করেন বলে একে ফেরেলের সূত্র বলে।
চিত্রে 'EFGH' স্থানটি ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখার চারপাশে অবস্থিত। এখানে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুপ্রবাহ বিরাজমান
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে ওঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে অয়ন বায়ু দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
সুতরাং মানচিত্রে প্রদর্শিত 'EFGH' স্থানটি দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!