বার্লিন শহরটি রাষ্ট্র নয়। বার্লিনকে রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সরকারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্ব উপাদান রূপান্তর করতে হবে। রাষ্ট্র এমন একটি সংগঠন যার একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র গঠন করতে জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব 'এই চারটি উপাদান দরকার। এগুলো সবই রাষ্ট্র গঠনের জন্য আবশ্যিক।
বার্লিন শহরে নির্দিষ্ট জনসংখ্যা রয়েছে। প্রয়োজন জনসংখ্যার স্থায়ী বসবাসের জন্য একটি ভূখণ্ড। সেদিক থেকে বার্লিনের একটি ভূখণ্ড আছে। রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার। কিন্তু বার্লিন শহরের নির্দিষ্ট সরকার নেই। এটি জার্মান সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই রাষ্ট্র হতে হলে বার্লিনে সরকারব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। রাষ্ট্র গঠনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব, যা ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনাও করা যায় না। সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ, চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা। এটাও বার্লিনে অনুপস্থিত। বার্লিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত জার্মান সরকারের নির্দেশনার আলোকে। অতএব, বার্লিনকে রাষ্ট্র হতে হলে সরকারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী হতে হবে। তাহলেই বার্লিন রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হবে।
Related Question
View Allনাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করে।
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়াও ভিন্ন দেশের অনেক লোক বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তারা এদেশের সরকারের বা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয়।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
অনুমোদনসূত্রে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য ছাড়াও নানা কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ওই দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রের কাছে ওই ব্যক্তি আবেদন করেন। আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়িভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের কিছু শর্ত আছে।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন কেননা, জাকির সাহেব ওই রাষ্ট্রের সম্পত্তি কিনেছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তিনি ওই রাষ্ট্রে চাকরিরত আছেন, তিনি ওই দেশের ভাষা জানেন, তিনি ভালো চরিত্রের অধিকারী ও তিনি উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হয়েছেন। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি উপরের শর্তগুলোর এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। আর এভাবেই জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
অন্যদিকে স্বনন দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে। এ দুই নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করে ওই রাষ্ট্রের অনুমোদন সাপেক্ষে নাগরিকত্ব লাভকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ বলে। আবার একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে।
উদ্দীপক অনুযায়ী জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। আর জাকির সাহেব আমেরিকায় থাকা অবস্থায় স্বনন জন্মলাভ করেছে। সেক্ষেত্রে স্বনন আমেরিকার নাগরিক। আবার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় স্বনন বাংলাদেশেরও নাগরিক। অর্থাৎ সে দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। স্বনন আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছে বিধায় সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। জাকির সাহেব প্রায় ২০ বছর যাবৎ আমেরিকাতে বসবাস করছেন বিধায় তিনি আমেরিকার নাগরিক। প্রাপ্তবয়স্ক হলে স্বনন ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবে। জাকির সাহেব নিয়মিত আয়কর দেন। দেশের আইনকানুন মেনে চলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি তহবিল পরিচালনা করেন। স্বননের নাগরিকত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন কিছুই করার প্রয়োজন নেই। তরে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের জাকির সাহেব ও তার সন্তান স্বননের
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের - মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বিনাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ওই দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। এক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে, এটিই দ্বৈত-নাগরিকত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!