বার্ষিক বনভোজনে কুয়াকাটা যায় রাইসা। সেখানে সে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায়, যারা পটুয়াখালী জেলায় অধিক সংখ্যায় বাস করছে। তাদের সমাজব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক। তাদের নেতা নির্বাচিত হয় পুরুষদের ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচনে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারে না। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

নৃগোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি মানব সম্প্রদায় যারা বংশ পরম্পরায় কিছু সাধারণ ও অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

জুম চাষ হচ্ছে পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত এক ধরনের বিশেষ চাষ পদ্ধতি।

 সাধারণত পাহাড়ের ঢালে গাছপালা কেটে, শুকিয়ে ও পুড়িয়ে ফেলার পর মাটিতে গর্ত করে একসাথে কয়েক ধরনের বীজ বপন করা হয়। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েক ধরনের ফসল সংগ্রহ করা হয়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করাকেই জুম চাষ বলে। ভারতে জুম চাষ পোড়ু, বীরা, পোেনম প্রভৃতি নামে পরিচিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যানুসারে রাইসা রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পায়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হচ্ছে রাখাইন। রাখাইনদের আদিনিবাস ছিল বর্তমান মিয়ানমারের অন্তর্ভুক্ত আরাকান রাজ্যে। অষ্টাদশ শতকে (আনুমানিক ১৭৪০- ১৭৯৯ সাল) আরাকান রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাখাইনদের অনেকেই স্বদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে (যেমন- বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার) বসতি স্থাপন করে। ঐতিহ্যবাহী ও স্বকীয় জীবনধারার অধিকারী রাখাইনদের জীবনপ্রণালি বৈচিত্র্যপূর্ণ। রাখাইনরা প্রধানত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত। তাদের পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক এবং অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। রাখাইনদের সমাজব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক। তারা তাদের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের ভোটে রাখাইনদের নেতা নির্বাচিত হন। তবে এক্ষেত্রে মহিলারা ভোট দিতে পারেন না।

উদ্দীপকের রাইসা বনভোজনে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা গিয়ে যে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে তা উপরে আলোচিত রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রাইসা রাখাইন নামক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেখতে পেয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

হ্যা, আমি মনে করি, উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত নৃগোষ্ঠী তথা রাখাইন এবং আধুনিক সমাজ বা বাঙালিদের বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাদৃশ্য বিদ্যমান। রাখাইনদের মতে, বিয়ে হচ্ছে ধর্ম পালনের অনিবার্য শর্ত। রাখাইনদের মধ্যে চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই-বোনের বিয়ে নিষিদ্ধ হলেও মামাতো ভাই-বোনের বিয়ে বৈধ। তবে সাধারণত এ ধরনের বিয়ে করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। অতীতে রাখাইন ছেলে-মেয়েরা পরিবারের পছন্দের পাত্রী বা পাত্রকেই বিবাহ করত। কিন্তু ইদানিং শিক্ষার প্রসার এবং যুগের দাবির প্রেক্ষিতে বয়ঃপ্রাপ্ত রাখাইন ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে নিজেদের পছন্দমতো পাত্র বা পাত্রীকে বিয়ে করছে। রাখাইন সমাজে সাধারণত মেয়ের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে বর ও কনের বাড়িতে বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় পিঠা ও মজাদার খাবার। বর আসার পথে সুন্দর করে গেট সাজানো হয়।

বসার জন্য প্যান্ডেল নির্মিত হয়ে থাকে। দূর থেকে আত্মীয়- পরিজনের আগমনে আনন্দঘন হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। বর আসার পর বরের কাছ থেকে দক্ষিণা আদায়সহ বিভিন্ন রীতি- রেওয়াজ পালন করা হয়। আহার পর্ব শেষে কনেকে সাজিয়ে আনা হয়। এরপর একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ঠাকুর বর-কনের সুখী জীবন কামনা করে 'মঙ্গলসূত্র' পাঠ করেন। সবশেষে একজন বয়স্ক মহিলা বর ও কনের হাতে হাত মিলিয়ে দেন। অন্যদিকে বাঙালি মুসলিম বা হিন্দু সমাজে পিতৃসূত্রীয় কিংবা মাতৃসূত্রীয় কাজিনদের সাথে বিবাহে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যেমনটা রাখাইন সমাজে দেখা যায়। বর্তমানে আধুনিক বা বাঙালি সমাজেও ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে নিজেদের পছন্দমতো পাত্রী বা পাত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বাঙালিদের বিবাহ অনুষ্ঠানও কনের বাড়িতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে বাঙালিদের মতো রাখাইন সমাজে বিবাহ পরবর্তী ভোজের আয়োজন করা হয় না। এ ধরনের দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিবাহের প্রস্তাব, বিয়ের বাড়ি সজ্জিতকরণ, বরের আগমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আধুনিক সমাজে যে ধরনের আচার- অনুষ্ঠান পালিত হয়, তার সাথে রাখাইনদের বিবাহব্যবস্থার অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায়। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
236

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়।

চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীর লেখা পাওয়া যায়। এসব সমাজচিন্তাবিদগণ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন। যার ফলে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.9k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করা হচ্ছে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডিএন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্ক্সবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীদের লেখা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এসব সমাজচিন্তাবিদদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
310
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করে। এ বর্ণনার আলোকে বলা যায়, এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।

সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীকেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জেরি ও জেরির ভাষায়, 'ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হলো মানুষের এমন এক গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উৎসারিত একটি পরিচয় বহন করে'। প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থাকে। নৃবিজ্ঞানী ন্যারোল-এর মতে, অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন সম্পর্কে দলীয় সচেতনতা হলো ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর সদস্যদের মূল উপাদান। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানী কোহেন ও ইয়ামস ক্ষুদ্র সম্প্রদায় তথা উপজাতি বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন, যারা তাদের জীবিকার জন্য খাদ্যসংগ্রহ, উদ্যান, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। আবার উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, যে গোষ্ঠীর সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে তারাই হলো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এসব সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার-আচরণ, প্রথা, বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা, অনুসরণীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
490
উত্তরঃ

গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামে ক্ষমতার বিকাশ ও প্রয়োগ ঘটে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, “শ্রেণিসমূহের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ সমাজে সামাজিক শক্তিসমূহ যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, তাকে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলা যেতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমি মালিক ও বর্গা চাষিদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অংশ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.9k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews