বালক, স্মৃতি মানেই অটুট বেঁচে থাকার অমল ছবি

প্রত্যেক সন্তানের ডাক নাম ধরে ধীরোদাত্ত কণ্ঠে মায়ের ডাক, 

স্মৃতি মানেই নিজগ্রাম, পাখী-স্বপ্ন-জাগরণ ইত্যাদি 

নিজস্ব ভূগোল বুকে হামাগুড়ি দিয়ে শৈশবের ভালবাসার খেলা 

স্মৃতি মানেই তো পিতার হাত ধরে চিনে নেওয়া আপন স্বদেশ, 

বালক, এই বেলা পড়ো তবে জীবনের প্রথম পাঠ: "

এই সেই জন্মস্থান..."

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত দুটি প্রহসন রচনা করেছেন।

উত্তরঃ

শৈশব স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের জল কবির কাছে মাতৃদুগ্ধের মতো, এ কারণে কপোতাক্ষ নদের কথা তাঁর সবসময় মনে পড়ে। 

শিশুর জন্য মায়ের স্নেহ অকৃত্রিম। কবির কছে তাঁর স্বদেশ মায়ের মতো স্নেহ-মমতার উৎস। মাতৃভূমিতে বয়ে চলা নদের জল কবির কাছে মাতৃদুগ্ধস্বরূপ। এই নদের জলেই কবি তৃষ্ণা নিবারণ করেছেন। এই নদের সঙ্গেই কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। তার কাছেই মিটেছে তাঁর স্নেহতৃষ্ণা। তাই শৈশব-কৈশোরের কপোতাক্ষ নদকে কবি ভুলতে পারেন না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির প্রিয় জন্মভূমির শৈশবস্মৃতি স্মরণের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। জন্মের পর থেকেই মানুষ স্বদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। ফলে জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা কখনো নষ্ট হয় না, চিরন্তন হয়ে থাকে। 

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির শৈশবের স্মৃতি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবি এখানে তাঁর গ্রামের শৈশবের আনন্দঘন দিনের কথা বলেছেন। নিজের গ্রাম, নানা স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে জাগরণের কথা প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকের এ চেতনা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির প্রিয় জন্মভূমির শৈশবস্মৃতি স্মরণের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি স্বদেশ থেকে বহু দূরে ফ্রান্সে বসবাস করার সময় জন্মভূমির প্রতি গভীর টান অনুভব করার কথা তুলে ধরেছেন। জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকেও স্বদেশকে ফিরে পাওয়ার গভীর উপলব্ধি প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে উদ্দীপকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির প্রিয় জন্মভূমির শৈশবস্মৃতি স্মরণের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

"উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় শৈশবস্মৃতি স্মরণের মধ্য দিয়ে জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

মানুষের শৈশব ও কৈশোর জীবনের স্মৃতি চির অম্লান হয়ে থাকে। এদেশের সবুজ প্রকৃতি, নদ-নদীর সঙ্গে মানুষের শৈশব কাটে খুব আনন্দঘন পরিবেশে। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষ শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি প্রবাসে গিয়ে প্রিয় কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে মিশে থাকা তাঁর শৈশবস্মৃতি স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। এই স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি প্রবাসে বসে স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তাঁর কাছে এ নদ যেন দুগ্ধ-স্রোতোরূপী। আর তা তাঁর জন্মভূমিতে বয়ে চলছে। জন্মভূমির এ নদ যেন মায়ের স্নেহডোর কবিকে বেঁধেছে। তাই তিনি এ নদের কাছে মিনতি করেন- কপোতাক্ষ যেন তার স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীদের ব্যক্ত করে। এখানে কবির যে স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত তার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও স্মৃতি স্মরণ করার ক্ষেত্রে নিজ গ্রাম, পাখি-স্বপ্ন-জাগরণ ইত্যাদির কথা বলেছেন। পিতার হাত ধরে আপন স্বদেশ, প্রিয় জন্মভূমিকে চিনে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

উদ্দীপকের কবিতাংশে শৈশবস্মৃতি স্মরণের মধ্যে নিজের জন্মভূমিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এ বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবস্মৃতি স্মরণে প্রিয় জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। উভয় ক্ষেত্রেই নিজের দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

95

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে !

সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;

সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে

শোনে মায়া-মন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে

জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে !

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,

কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?

দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে ।

 

আর কি হে হবে দেখা? - যত দিন যাবে,

প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে

বারি-রূপ কর তুমি; এ মিনতি, গাবে

বঙ্গজ জনের কানে, সখে, সখা-রীতে

নাম তার, এ প্রবাসে মজি প্রেম-ভাবে

লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

কবি জন্মভূমি থেকে দূরে নির্বাসিত জীবনে অথবা প্রবাসে থাকার কারণে স্বদেশের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে 'আর কিহে হবে দেখা' বলে অনিশ্চয়তা ও বেদনাবোধ প্রকাশ করেছেন।

এই উক্তির মাধ্যমে কবি স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, স্মৃতিময় দিনের প্রতি অনুরাগ এবং বর্তমান বিচ্ছেদজনিত বেদনা ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পুনর্মিলন নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেছেন। এটি কবির দেশপ্রেম ও বিরহকাতর মনের পরিচয় বহন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
385
উত্তরঃ

উদ্দীপক-১ ‘কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিময় দিনগুলোর প্রতি কবির গভীর নস্টালজিয়া এবং স্মৃতিকাতরতার দিকটিকে ধারণ করে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সুদূর প্রবাসে থেকেও যেমন কপোতাক্ষ নদের অবিরাম ধ্বনি শুনতে পেতেন এবং শৈশবের স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হতেন, উদ্দীপক-১ এর পঙ্‌ক্তিমালাও তেমনি অতীত দিনের স্মৃতির বেদনাদায়ক চিত্র হৃদয়ে ধারণ করার কথা ব্যক্ত করে।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাস জীবনে থেকেও তার জন্মভূমি যশোরের কপোতাক্ষ নদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করেছেন। নদের কলকল ধ্বনি কবির কানে মায়ের দুগ্ধধারার মতো মনে হতো। তিনি নদকে বন্ধু ও মাতৃভূমি রূপে কল্পনা করে তার কাছে মিনতি করেন, যেন নদও তাকে স্মরণে রাখে এবং তার নাম স্বদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এই কবিতায় কবির গভীর দেশপ্রেম এবং অতীতের প্রতি এক ধরনের করুণ আকুতি ব্যক্ত হয়েছে।

উদ্দীপক-১ এ বলা হয়েছে, “মুছে যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে স্মৃতি যেন আমার হৃদয়ে বেদনার রঙে রঙে ছবি আঁকে।” এই অংশে অতীতের স্মৃতি ও ফেলে আসা দিনের প্রতি এক গভীর টান এবং সেই টান থেকে সৃষ্ট এক ধরনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক যেমন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে প্রবাসে বসে স্মরণ করেছেন এবং তার প্রতি গভীর প্রেম ও স্মৃতিকাতরতা অনুভব করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই অতীত দিনের স্মৃতি বর্তমানকে আবেগ ও বেদনার রঙে রাঙিয়ে তুলেছে, যা স্মৃতিকাতরতার এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
424
উত্তরঃ

‘উদ্দীপক-২’ এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ উভয় রচনাতেই স্বদেশপ্রেম, স্বদেশের প্রতি গভীর মমতা এবং জন্মভূমির স্মৃতি বিজড়িত ভালোবাসার এক মূর্ত প্রতীক ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে, যা কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উদ্দীপক-২ এ জন্মভূমিকে ‘সকল দেশের সেরা’ এবং ‘স্বপ্ন দিয়ে তৈরি’ ও ‘স্মৃতি দিয়ে ঘেরা’ দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং দেশের প্রতি অবিচ্ছেদ্য মমত্ববোধের প্রকাশ। এখানে কেবল মাটির প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জন্মভূমির এক গভীর আত্মিক বন্ধন স্থাপিত হয়েছে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি প্রবাসে থেকেও তার জন্মভূমির নদ কপোতাক্ষকে ভুলতে পারেননি। নদের কলকল ধ্বনি কবির কাছে মায়ের মতো মনে হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তিনি তার জন্মভূমিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছেন। কবির এই গভীর আবেগ, জন্মভূমির প্রতি টান এবং স্মৃতিকাতরতা উদ্দীপক-২ এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। উভয় রচনায় জন্মভূমির প্রতি এক অনাবিল ভালোবাসা ও গভীর আত্মিক বন্ধনের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

অতএব, উদ্দীপক-২ এ যেমন জন্মভূমির প্রতি প্রগাঢ় মমতা ও স্মৃতিময় ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে, ঠিক তেমনি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির হৃদয়ে জন্মভূমি ও জন্মস্থানের নদীর প্রতি গভীর প্রেম ও স্মৃতিচারণ ফুটে উঠেছে। এই দিক থেকে বলা যায়, উভয় রচনার মূল সুর এক এবং মন্তব্যটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
772
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews