কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে 'ছন্দের রাজা' বলা হয়।
ঝরনা চঞ্চল পায়ে ছুটে চলে। ছুটে চলাই ঝরনার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ঝরনা চপল পায়ে ধায়। অবিরাম ছুটে চলে। পর্বত থেকে নেমে আসে ঝরনার সাদা জলরাশি। পাথরের বুকে আঘাত হেনে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সৌন্দর্যপিপাসুদের মুগ্ধ করার জন্যই ঝরনা ছুটে চলে। জলের ধারায় স্থির প্রকৃতিকে মাতিয়ে তুলে দিগ্বিদিক সে ছুটে চলে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতায় প্রতিফলিত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
প্রকৃতি বিচিত্র উপাদানে পৃথিবীকে সাজিয়েছে। পৃথিবীর আকাশ, নদী, পাহাড়, বনবনানী, গাছপালা, পশুপাখি সবই প্রকৃতির দান। বাংলার শ্যামল প্রকৃতি সৌন্দর্যের আধার। এসব সৌন্দর্য দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়।
উদ্দীপকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের রূপবৈচিত্র্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত এই দ্বীপ সৌন্দর্যের আধার। সেখানে আকাশের নীল এবং সমুদ্রের নীল মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। উদ্দীপকে প্রতিফলিত এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতায় প্রতিফলিত ঝরনার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দিকটিকে নির্দেশ করে। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার নিদর্শন ঝরনার রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন। বঝরনা প্রকৃতিতে তার সেই সৌন্দর্য বিস্তার করে সবাইকে মুগ্ধ করে। স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে ঝরনা পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে যায়। ঝরনার এ রূপসৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে মানুষ মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করতে গিয়েও মানুষ তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। এভাবে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপকের সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
"প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিচারে উদ্দীপকের সেন্টমার্টিন ও 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার রূপবৈচিত্র্য একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানে সবুজ-শ্যামল মাঠ, ধানের খেতে বাতাসের দোল, নদীর বুকে নানা রঙের পালতোলা নৌকা, নদীতীরের কাশফুল, জল নিয়ে গাঁয়ের বধূদের ঘরে ফেরা, মাথার উপরে নীল আকাশ, বনবনানী, সাগর-পাহাড়-ঝরনা প্রভৃতির সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার আনন্দময় ছুটে চলার সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। শিথিল সব শিলার ওপর ঝরনা আনন্দ চিহ্ন রেখে বয়ে চলে। পাহাড়ি মেয়ের মতোই সে চঞ্চল। দূর থেকে দেখলে সবুজ বনবনানীর মাঝে পাহাড় থেকে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। ঝরনার এই রূপসৌন্দর্য উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকেও সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। এ দ্বীপটি নানা আকৃতির পাথরের স্তূপ, দুর্লভ প্রবাল, দৃষ্টিনন্দন পাথরের ফুল এবং নানা রকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যে ভরপুর।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে দিকটি তুলে ধরেছেন তা উদ্দীপকের সেন্টমার্টিনের রূপবৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে। সৌন্দর্যের পূজারিদের জন্য ঝরনা যেমন প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়ায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপও তেমনই সৌন্দর্য বিস্তার করে। সেখানকার আকাশের নীল আর সাগরের নীল একাকার হয়ে আছে, যা সৌন্দর্যপিপাসুদের মুগ্ধ করে। কবিতার ঝরনা নির্জন পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে চঞ্চল ও আনন্দময় পদধ্বনিতে ছুটে চলে। আর উদ্দীপকের সেন্টমার্টিন দ্বীপটি সারি সারি নারিকেল গাছ, প্রবাল এবং বিচিত্র সব প্রাণী নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allঝরনা চপল পায়ে ছুটে চলে।
'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর।
সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।
প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।
'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!