হাজি মুহম্মদ মোহসিনের পূর্বপুরুষেরা পারস্যের অধিবাসী ছিলেন।
ঔপনিবেশিক যুগে বাংলার মুসলিম সমাজে বিদ্যমান নানা কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস তাদেরকে উন্নয়নের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে, তাই তখন শিক্ষা সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়।
পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা হারিয়ে বাঙালি জাতি এক অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিপতিত হয়। মুসলমানরা ইংরেজি শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে দেখা দেয় পশ্চাৎপদতা, অনগ্রসরতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার প্রভৃতি। তাই এ সময়ে বাংলার জনগণকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সমাজে শিক্ষা সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের বাসির উদ্দিন মোল্লার সাথে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের বৈপিত্রেয় বোন মন্নুজানের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বাসির উদ্দিন মোল্লা যেমন তার অগাধ সম্পত্তি মৃত্যুর পূর্বে মেয়ের জামাই হারুন মিয়াকে উইল করে যান তেমনি মন্নুজানও তার সকল সম্পত্তি হাজি মুহম্মদ মোহসিনকে দিয়ে যান। হাজি মুহম্মদ মোহসিনের মাতা জয়নব খানমের তার পিতা হাজি ফয়জুল্লাহর সাথে বিয়ে হওয়ার পূর্বে আগা মোতাহার বলে একজন ধনাঢ্য ইরানি ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে হয়েছিল। মন্নুজান ছিলেন আগা মোতাহারের ঔরসজাত সন্তান। হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া অঞ্চলে আগা মোতাহারের বিস্তীর্ণ জায়গির ভূমি ছিল। তিনি তার এ ভূ-সম্পত্তি তার একমাত্র সন্তান মন্নুজানের নামে উইল করে দেন। তাছাড়া মন্নুজানের স্বামী হুগলির নায়েব-ফৌজদার সালাউদ্দিনের বিপুল সম্পত্তি ছিল। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে মন্নুজান তার সম্পত্তিরও উত্তরাধিকারী হন। বিধবা নিঃসন্তান মন্নুজান তার এ বিশাল ধন সম্পত্তি তদারকি ও পরিচালনার জন্য তার ভাই হাজি মুহম্মদ মোহসিনকে অনুরোধ করেন। বোনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৮০৩ সালে মন্নুজানের মৃত্যুর পর হাজি মুহম্মদ মোহসিন তার সৈয়দপুর জমিদারিসহ সমস্ত সম্পত্তির মালিক হন। আর এসব সম্পত্তি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন।
উদ্দীপকের হারুন মিয়ার মতো হাজি মুহম্মদ মোহসিনও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
মোহসিন সকল ধর্মের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সাহায্য করতেন। তার টাকায় হুগলি, ইমামবাড়া, কলেজ, মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস তৈরি হয়। তিনি নিজের প্রয়োজনের জন্য সামান্য অর্থ রেখে বাকি অর্থ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। ১৭৬৯-১৭৭০ সালের সরকারি রেকর্ডপত্রে হাজি মুহম্মদ মোহসিনকে একজন মানব হিতৈষী ব্যক্তিরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাজি মুহম্মদ মোহসিন যেমন শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং গরিব ও মেধাবী ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেন, ঠিক একইভাবে হারুন মিয়াও পশ্চাৎপদতা, অনগ্রস্রতা দূর করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। হারুন মিয়া যে জনহিতৈষী কাজ করেছেন হাজি মুহম্মদ মোহসিনকে তার আদর্শ মানব বলা যায়। তার কর্মকাণ্ড মোহসিনের কৃতিত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে হারুন মিয়া ভিন্ন আঙ্গিকে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের কৃতিত্ব তুলে ধরেছে। তার কর্মকাণ্ড মোহসিনের কৃতিত্বের যথার্থ উদাহরণ।
Related Question
View Allফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কলকাতায় অবস্থিত।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ব্রিটিশ শাসনামলের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ শাসকদের 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বক্তাভঙ্গ। ভারতে নিযুক্ত তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তদানীন্তন বা প্রেসিডেন্সিকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করার মধ্যে তার এ কর্মকান্ডেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা সুদানকে শাসন করার জন্য এক সময় ঔপনিবেশিক শাসকেরা এ অঞ্চলের জনগণকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে। একইভাবে লর্ড কার্জন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় হয়ে এসে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। কারণ বাংলা প্রদেশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিত। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় আর্থ-সামাজিক সুবিধাটি নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশদের Divide and Rule Policy-এর বাস্তবায়ন করার জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য লর্ড কার্জন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে দুটি প্রদেশে রূপান্তরিত করেন, যা বজাভা হিসেবেই সমধিক পরিচিত। এ পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ (দার্জিলিং বাদে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ জেলাসহ) এবং আসাম নিয়ে 'পূর্ব-বাংলা ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় এবং এর শাসনভার অর্পণ করা হয় স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারের ওপর। কলকাতাকে রাজধানী করে অবিভক্ত বাংলার অন্যান্য অংশ নিয়ে 'বজল প্রদেশ' প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সুদানের জনগণকে দুটি শিবিরে ভাগ করার সাথে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট বঙ্গভঙ্গ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা সামাজিক মর্যাদা ফিরে পায় এবং তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম তথা সার্বিক দিকে প্রগতি নিশ্চিত করার শুভ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে, যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
ব্রিটিশ ভারতে বাঙ্গ প্রদেশকে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবরা এই দুই অঞ্চলে বিভন্ত করা হলে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মুসলমান সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে সমর্থন জানালেও কলকাতাকেন্দ্রিক উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজ বকাভকোর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে। কারণ বক্তাভলোর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাছাড়া কলকাতার বৃদ্ধিজীবী মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, বঙ্গভঙ্গের অর্থ হলো 'মাতৃভূমিকে বিভক্ত করা'। তাই বজ্ঞাভজোর প্রতিবাদস্বরূপ তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জনে স্বদেশি আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতে থাকে। বঙ্গভজ্ঞজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও হিন্দুদের প্রচণ্ড বিরোধিতায় ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে। দিল্লির রাজদরবারে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা বজাভঙ্গ রদ ঘোষণা করে দুই বাংলাকে আবার একত্র করে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গভজোর ফলে মুসলমানরা কিছুটা লাভবান হলেও হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। উভয়ের মধ্যে সন্দেহ, রেষারেষি মারাত্মক পর্যায়ে রূপ নেয়। এ বৈরী সম্পর্কের রেশ ধরেই এক সময় তারা আলাদা হয়ে যায়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে গঠিত হয়।
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলা প্রদেশকে শাসন করার যে নীতি গ্রহণ করে, তা-ই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসন হলো দুইজনের শাসন। এ ব্যবস্থায় বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নবাবের ওপর। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার, জমি-জমার বিবাদ সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। লর্ড ক্লাইভের বাংলা শাসনের এ অভিনব নীতিই 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!