
আমরা জানি, জীবদেহে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া বিক্রিয়া অবিরামভাবে চলছে। এ কাজগুলো একযোগে চলে বলে এ কাজগুলোর মধ্যে সমন্বয় (co-ordination) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে জীবের জীবনে নানারকমের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।
উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন কাজ যেমন: প্রজনন, সুপ্তাবস্থা, অঙ্কুরোদগম, বিপাক, বৃদ্ধি, চলন ইত্যাদি সকল শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার মধ্যে একধরনের সমন্বয় লক্ষ করা যায়। মানবদেহেও তেমনি বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। উদাহরণ দেওয়ার জন্য স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমোনের সমন্বয়ের কথা বলা যায়।
এ অধ্যায়ে উদ্ভিদ ও মানবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• উদ্ভিদের সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রাণীর সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশসমুহের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• সাধারণ নিউরনের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রতিবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আবেগ সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রাণরস বা হরমোনের প্রধান কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রাণরস বা হরমোনের অম্বাভাবিকতার কারণ ও এটি থেকে সৃষ্ট প্রধান শারীরিক সমস্যাগুলো বর্ণনা করতে পারব।
• স্ট্রোকের কারণ ও লক্ষণ বর্ণনা করতে পারব।
• স্ট্রোকে তাৎক্ষণিক করণীয় ও প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
• স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার বর্ণনা করতে পারব।
• সমন্বয় কার্যক্রমে তামাক ও মাদকদ্রব্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
• হরমোনজনিত শারীরিক সমস্যা সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধান করতে পারব।
• পোস্টার/লিফলেট অঙ্কন করে তামাক ও মাদক দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারব।
• স্নায়ুতন্ত্রে তামাক ও মাদক দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হব।
Related Question
View Allউদ্ভিদে পুষ্প সৃষ্টিতে উষ্ণতার প্রভাবকে ভার্নালাইজেশন বলে। শীতের গম গরমকালে লাগালে ফুল আসতে বহু দেরী হয়। কিন্তু, বীজ রোপনের পূর্বে ২০-৫০ সে. উষ্ণতা প্রয়োগ করলে উদ্ভিদে স্বাভাবিক পুষ্প প্রস্ফুটন ঘটে। এ পদ্ধতিটি হলো প্রকৃতপক্ষে ভার্নালাইজেশন।
উদ্ভিদের ফুল ফোটা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন- নিরবিচ্ছিন্ন আলোক দৈর্ঘ্য। উদ্দীপকের ফলজ গাছগুলো হয়তো তার প্রয়োজনীয় নিরবিচ্ছিন্ন আলো পায়নি। অর্থাৎ ফলজ গাছগুলো বড় দিনের হলেও তাদের হয়তো ছোট দিনে লাগানো হয়েছিল। তাই এই সময়ে ফলজ গাছগুলোতে ফুল ফোটেনি।
এছাড়া ফুল ফোটার জন্য উদ্ভিদদেহে তৈরি হয় কিছু হরমোন। যেমন- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন। ফ্লোরিজেন পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে প্রস্ফুটিত করে। ভার্নালিনও পুষ্প প্রস্ফুটনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের ফলজ গাছগুলোতে উপরে বর্ণিত পুষ্প উদ্দীপক হরমোন দুটি অর্থাৎ ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন-এর কোনটিই তৈরি হয়নি বলে ফলজ গাছগুলোতে ফুল ফোটেনি।
ফলজ গাছগুলোতে আরেকটি সমস্যা ছিল ছোট অবস্থায় ফল ঝরে পড়া। উদ্ভিদদেহে কিছু হরমোন তৈরি হয় যা পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি ঝরাতে সাহায্য করে। এ হরমোনগুলোর মধ্যে অ্যাবসিসিক এসিড এবং ইথিলিন প্রধান। উদ্দীপকের ফলজ উদ্ভিদগুলোর ছোট ফলের বোটায় অ্যাবসিসিক এসিড বা ইথিলিন অধিক তৈরি হওয়ায় ছোট অবস্থায়। ফলগুলো ঝরে পড়েছিল।
কৃষি খামারে খামারীরা ঠাণ্ডা ঘরের ভেতর ছোট ছোট চারা রেখেছিল যেখানে একটি আলো জ্বালানো ছিল। খামারীরা লাভবান হওয়ার জন্য ফসলী উদ্ভিদে আগাম ফুল, ফল ধারণের লক্ষ্যে এমন পরিবেশে গাছগুলোকে রেখেছিল। উদ্ভিদে ফুল ধারণ অনেক সময় নির্ভর করে নিরবিচ্ছিন্ন আলোেক দৈর্ঘ্যের উপর। আবার আলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শাখা-প্রশাখা তৈরীতে ভূমিকা রাখে। উপযুক্ত বৃদ্ধি, বিকশিত ও শাখান্বিত উদ্ভিদে অধিক ফুল ও ফল ধারণ করে। উদ্দীপকের ঘরটিতে রাখা আলো এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ছোট ছোট চারাগাছগুলোকে ঠান্ডা ঘরে রাখা হয়েছিল। শৈত্য বা ঠান্ডা প্রদানের মাধ্যমে ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ভার্নালাইজেশন। ভার্নালাইজেশনের কারণে উদ্ভিদ ভূণের অগ্রভাগে 'ভার্নালিন' নামক এক প্রকার পুষ্প উদ্দীপক হরমোন তৈরি হয়। এই ভার্নালিন পুষ্প প্রস্ফুটনে তথা ফল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং অহনার দেখা গাছগুলোকে খামারীরা উক্ত পরিবেশে রেখেছিল অধিক ও আগাম ফুল-ফল ধরানোর লক্ষ্যে। এতে খামারীরা লাভবান হবে।
যে সব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুম্না কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাই প্রতিবর্তী ক্রিয়া।
নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক ধরনের রসকে বলা হয় প্রাণরস বা হরমোন। প্রাণরস রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে এবং জৈবিক কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরনের। অনুভূতি গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী উদ্দীপনা তৈরি করে তা কার্যকরী অঙ্গে প্রেরণ করা স্নায়ুকোষের কাজ। স্নায়ুকোষের A চিহ্নিত অংশটি হলো ডেনড্রাইট। কোষদেহের চারিদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুতার মত অংশই হলো ডেনড্রাইট। একটি নিউরনের অ্যাক্সনের সঙ্গে অন্য একটি নিউরনের ডেনড্রাইট যুক্ত থাকে। এভাবে একাধিক নিউরন যুক্ত হয়ে গঠন করে স্নায়ুতন্ত্র। পর পর দুটি নিউরনের সংযোগস্থল অর্থাৎ অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইটের সংযোগস্থলকে বলা হয় সিন্যাপস। সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়। উদ্দীপনা তৈরির ক্ষেত্রে নিউরন প্রথমে গ্রাহক অঙ্গ থেকে অনুভূতি সিন্যাপসের মাধ্যমে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটে পৌঁছে দেয়। এভাবে একে একে ঐ অনুভূতি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায়। পরবর্তীতে মটর ব জ্ঞানবাহী নিউরন ঠিক একইভাবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কার্যকরী অঙ্গে উদ্দীপনা প্রেরণ করে। এভাবে মানবদেহে উদ্দীপনা তৈরি হয়। এখানে A চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ ডেনড্রাইট পরবর্তী স্নায়ুকোষের অ্যাক্সনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিন্যাপস তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘ স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে। A চিহ্নিত অংশ, অর্থাৎ ডেনড্রাইট না থাকলে সিন্যাপস তৈরি হতো না এবং গ্রাহক অঙ্গ থেকে অনুভূতি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছাত না বা মানবদেহে কোন উদ্দীপনাও তৈরি হতো না। সুতরাং মানবদেহে উদ্দীপনা তৈরিতে A চিহ্নিত অংশ অর্থাৎ ডেনড্রাইটের ভূমিকা বা গুরুত্ব অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!