মার্কিন সমাজকর্মী শার্লট টোলে 'Common Human Needs' গ্রন্থটি রচনা করেন।
সামাজিকভাবে উন্নত জীবনযাপনের জন্য মানুষকে যেসব চাহিদা পূরণ করতে হয় শিক্ষা তার অন্যতম। তাই একে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়।
শিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে। এটি মনুষ্যত্ব অর্জনের একমাত্র উপায়। শিক্ষাই পারে মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব গঠন, মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। এ কারণে শিক্ষাকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়।
উদ্দীপকে বস্ত্র, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌল মানবিক চাহিদার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়।
সমাজে বাস করার জন্য মানুষকে কিছু চাহিদা পূরণ করতে হয়। এগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয়। এসব চাহিদা পূরণ ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা বা উন্নত জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। এগুলো হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তা। এর মধ্যে উদ্দীপকে তিনটি চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হাওর অঞ্চলের বন্যায় মানুষের ফসলহানি ঘটেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ থাকছে, চিকিৎসাসেবায় সংকট দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারছে না। কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান ছাড়াও মানুষের আরো কিছু মৌল মানবিক চাহিদা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো বস্ত্র। এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয় ছাড়াও সভ্যতার অন্যতম প্রতীক। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সভ্য সমাজে
থাকতে পারে না। আবার চিত্তবিনোদন হলো মানুষের মনের খোরাক। সুস্থ বিনোদন মানুষকে কাজ করার শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। এর অভাবে মানুষ স্বাভাবিক কর্মশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ইদানীং সামাজিক নিরাপত্তাকেও মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক
নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,
বেকার ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি)
পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে বস্ত্র,
সামাজিক নিরাপত্তা এবং চিত্তবিনোদন-এ মৌল মানবিক
চাহিদাগুলোর ইঙ্গিত অনুপস্থিত।
উদ্দীপকে অনুপস্থিত মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদনের তাৎপর্য অপরিসীম।
মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মৌল মানবিক চাহিদা প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষের জন্য এসব চাহিদা পূরণ হওয়া জরুরি।
বস্ত্র মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। সভ্যতার সূচনা থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সমাজে বাস করতে পারে না এবং এর অভাবে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্ত্র লজ্জা নিবারণ ছাড়াও মানুষকে অতি শৈত্য বা উষ্ণতা এবং নানা ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। আবার খাদ্য যেমন দেহের বৃদ্ধি ঘটায়, তেমনি চিত্তবিনোদন মানুষের মনের খোরাক জোগায়। এর ফলে কাজে উদ্দীপনা আসে। কাজের ব্যস্ততার কারণে মানুষের জীবন মাঝে মাঝে একঘেয়ে হয়ে ওঠে। তখন চিত্তবিনোদনমূলক কাজ মানুষের মনকে চাঙ্গা করে। ক্লান্তি দূর করে কাজের প্রেরণা জোগায়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই নয় শিশু, কিশোরদের ক্ষেত্রেও চিত্তবিনোদনের ইতিবাচক ভূমিকা বিদ্যমান।
যান্ত্রিক ও ভোগবাদী এই যুগে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। তাই অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে এটি মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বেকার, প্রতিবন্ধী, - বিধবা, এতিম, প্রবীণসহ অসহায় ও দুস্থ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে পরিবর্তন আসছে। তাই সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায় বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদন মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allকোন কিছুর প্রয়োজন পূরণের বিশেষ তাগিদ অনুভব করা হলো চাহিদা।
চাহিদা হলো অবশ্য পূরণীয় প্রয়োজন। নিজের জীবন রক্ষার জন্য মানুষকে যেসব প্রয়োজন অবশ্যই পূরণ করতে হয় সেসবই চাহিদা।
মানুষের দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন চাহিদার মধ্যে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের চাহিদার কোন অন্ত নেই।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
বস্ত্র মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা। এটি মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের বিকাশে বস্ত্রের গুরুত্ব অত্যধিক। মানবসভ্যতার প্রথম নির্দেশক হিসেবে বস্ত্রই মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছে। এটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। তাছাড়া এটিই মানুষকে শীত, তাপ, ধুলোবালি, রোগ-জীবাণু প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকের হাসনা ও তার ছোট দুই ভাই-বোনের প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক নেই। ফলে তারা শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পায় এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বস্ত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কারণে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বক্তব্যটির যথার্থতা রয়েছে।
মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। বস্তু সভ্যতার সর্বপ্রথম নির্দেশক। কিন্তু এ খাতে আমাদের দেশের বার্ষিক গড় কাপড়ের চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ বজ্রনীতি, বস্ত্রখাতের অনিয়ম, প্রতিকূল পরিবেশ, দুর্ঘটনা, উৎপাদন হ্রাস ইত্যাদিকে চিহ্নিত করা হয়। অনুমান করা হয়, মাথাপিছু বার্ষিক গড়ে ১০ মিটার কাপড়ের ব্যবহার জরুরি হলে ১৫ কোটি ৮৯ লাখ জনসংখ্যার জন্য ১৫৮.৯ কোটি মিটার কাপড়ের প্রয়োজন হবে। অথচ মে ২০১২ তে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বুক এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক পুরাতন কাপড় প্রাপ্তি ০.০৩ মিটার এবং নতুন কাপড় ১৫.৭ মিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশে বস্ত্রের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণ প্রয়োজনীয় বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। এখনও গ্রামের গরিব কৃষক একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে এবং গ্রামের দরিদ্র নারী একটি মোটা কাপড় পড়ে বছর পার করে দেয়। বস্ত্রের অভাবে গ্রাম ও শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ শীত ও গ্রীষ্মকালে প্রতিকূল পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যার চিত্র হাসনা ও তার পরিবারের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না- বক্তব্যটি সঠিক।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০১১-২০১৫ সাল পর্যন্ত।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন। তাই মানবজীবনের সবচেয়ে প্রথম ও প্রয়োজনীয় চাহিদা হলো খাদ্য।
খাদ্য বলতে ঐসব বস্তু বা দ্রব্যকে বোঝায় যা শরীরে হজম হয় এবং শরীরের বৃদ্ধি ও কর্মশক্তি যোগানে সাহায্য করে। খাদ্য না খেলে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও বুদ্ধি লোপ পায়। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!