যেসব জীবের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে তারাই হলো সংযোগকারী জীব বা কানেকটিং লিংক।
ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের অভাবে-
i. কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়;
ii. দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি হয়;
iii. শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পরিবর্তন ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণটি হলো জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ। বিবর্তন সম্পর্কে যেসব প্রমাণ আছে, তাদের মধ্যে জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-গর্ভের শিলাস্তরে দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকা জীবের সামগ্রিক বা আংশিক প্রস্তরীভূত দেহ বা দেহছাপকে জীবাশ্ম বলে।
জীবাশ্মকে প্রাগৈতিহাসিক' যুগের বা বিগত যুগের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়। জীবাশ্মের বৈশিষ্ট্য দেখে বর্তমান এবং অতীতের যোগসূত্র খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
উদাহরণস্বরূপ, লুপ্ত আর্কিওপটেরিক্স (Archeopoteryx) নামে একরকম প্রাণীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এদের সরীসৃপের মতো পা ও দাঁত, পাখির মতো পালক বিশিষ্ট দুটি ডানা, একটি দীর্ঘ লেজ, লেজের শেষ প্রান্তে একগুচ্ছ পালক ও চক্ষু ছিল। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে পাখি জাতীয় প্রাণীর উৎপত্তি ঘটেছে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত টেরিডোস্পার্ম (Pteridosperm) নামে একধরনের উদ্ভিদের জীবাশ্মে ফার্ন ও ব্যক্তবীজি (gymnosperm) উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এ কারণে ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ থেকে জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছে বলে মনে করা হয়। vat
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুজন বিজ্ঞানী ল্যামার্ক ও ডারউইন বিবর্তন সম্পর্কে মতবাদ প্রদান করেন। তাদের মতবাদ যথাক্রমে ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ নামে পরিচিত।
ল্যামার্কের বিবর্তনবাদে জীবের বংশবিস্তার, জীবের অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, যোগ্যতমের জয়, এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা নেই। ল্যামার্কের বিবর্তনবাদে পরিবেশের প্রভাবে জীবের অঙ্গ ব্যবহারের উপর পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ করলেও পরবর্তীতে জীবগুলো পৃথিবীতে কীভাবে টিকে আছে বা ধ্বংস হওয়া সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আবার ল্যামার্কের মতে, সময়ের সাথে প্রজাতির পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানীরা এটি বিশ্বাস করেন না। এছাড়া
ল্যামার্ক বলেছেন, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়, যার সত্যতা স্বপক্ষে বংশগতিবিদগণ কোনো প্রমাণ পাননি। কিন্তু ডারউইনের মতবাদে এসব বিষয়ের একটা সমাধান পাওয়া যায়। তাঁর মতবাদ অনুসারে জীবের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে জ্যামিতিক হারে। জীবগুলো অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিজেদের মধ্যে এবং পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করছে। তাই আদিতে উৎপন্ন অনেক জীবের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। এসব জীবের ফসিল এর প্রমাণ বহন করে। ল্যামার্কের বিবর্তন মতবাদে জীবের অভিযোজনের কথা থাকলেও ডারউইনের মতবাদের মতো তাতে বিশদ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
ডারউনের মতবাদের সব বিজ্ঞানসম্মত না হলেও তা ল্যামার্কের মতবাদের তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।
Related Question
View All"জীবন্ত জীবাশ্ম" বলতে এমন কিছু জীবিত অর্গানিজম বোঝায় যাদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা জীবাশ্মের মতো দেখায় কিন্তু তারা আসলে জীবিত। এটি সাধারণত কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীকে নির্দেশ করে, যেমন:
মরীচিকা জীবাশ্ম (Living Fossils): কিছু জীবন্ত প্রজাতি, যেমন গিঞ্জো গাছ বা কোয়ালাক্যান্থ মাছ, যারা অনেক পুরানো জীবাশ্মগুলোর সাথে অতি সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু তারা আজও জীবিত।
বিশেষ পরিবেশে টিকে থাকা জীব: কিছু প্রজাতি যেমন সামুদ্রিক জীব বা এডাপটিভ প্রজাতি যে পরিবেশ পরিবর্তনের প্রতি খুব কম সাড়া দেয়, তারা আজও টিকে আছে এবং জীবাশ্মের মতো দেখতে পারে।
এটি একটি গবেষণার বিষয় হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জীববৈচিত্র্য এবং প্রজাতির বিবর্তন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!