বিজয় কৃষ্ণ একজন ব্রাহ্মণ। হিন্দুধর্মের সকল নিয়ম- কানুন তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেন। কোনো নীচু বর্ণের হিন্দুদের সাথে খাওয়া-দাওয়া এমনকি মেলামেশা পর্যন্ত করেন না। বিজয় কৃষ্ণের এমন হীন মানসিকতা মেনে নিতে পারে না তার ছেলে গৌরাঙ্গ। সে মনে করে ধর্মের নামে কাউকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ভারতীয় সমাজে চার ধরনের জাতিবর্ণ প্রথা দেখা যায়। যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র।

উত্তরঃ

দাসপ্রথা বলতে এমন এক অসমতার সমাজব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে কিছু লোক সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে অধিকারবিহীন।

দাসপ্রথা পৃথিবীর প্রাচীন শ্রেণি ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথার একমাত্র পরিচয় হলো দাসরা তার প্রভু বা মনিবের সম্পত্তি। সামাজিক ক্ষেত্রে দাসরা ঘৃণার পাত্র। দাসপ্রথা ছিল একটি অর্থনৈতিক সম্পর্কনির্ভর সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথায় দাসদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা- অনিচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না।

উত্তরঃ

বিজয় কৃষ্ণের মানসিকতায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণ ধারণাটির পরিচয় পাওয়া যায়।

ভারতীয় সমাজে জাতিবর্ণের যে স্বরূপ দেখা যায় তাতে বোঝা যায় যে, জাতিবর্ণ একটি আন্তঃগোত্র ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। এ সমাজে চারটি শ্রেণি বা বর্ণ রয়েছে। যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষৈত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র। জন্ম থেকেই এ বর্ণগুলো ধর্ম কর্তৃক নির্ধারিত। বর্ণপ্রথায় ব্রহ্মণরাও সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করেন এবং তারা সাধারণত নিচু বর্ণের কারো সাথে সামাজিকভাবে মেলামেশা করেন না।

বিজয় কৃষ্ণ একজন ব্রাহ্মণ। তিনি কঠোরভাবে ধর্মের নিয়মাকানুন মেনে চলেন। তিনি ব্রাহ্মণ বলে জাতিবর্ণের ক্রমানুযায়ী সর্বোচ্চ ধাপে অবস্থান করছেন। তিনি নীচুবর্ণের হিন্দুর সাথে খাদ্যগ্রহণ তো দূরের কথা, মেলামেশা পর্যন্ত করেন না। তার এরূপ মানসিকতা জাতিবর্ণেন দাম্ভিকতার পরিচায়ক। তিনি নিজে উচ্চবর্নের হিন্দু বিধায় নীচুবর্ণের হিন্দুদের সাথে মেলামেশা করেন না। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয় কৃষ্ণের মানসিকতায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণের মানসিকতা প্রস্ফুটিত হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত গৌরাঙ্গের ধারণাকে বর্তমান আর্থ- সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি সঠিক ও যথার্থ এবং সমর্থনযোগ্য বলে মনে করি।

বর্তমানে নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও উদারনৈতিক আধুনিক শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে জাতিবর্ণের ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যে কোনো জাতিবর্ণের লোক যে কোনো পেশা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান আধুনিক বিশ্বে জাতিবর্ণ প্রথা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে জাতিবর্ণের দৃঢ় রূপটি তিরোহিত হয়েছে। বিজয় কৃষ্ণ একজন কট্টরপন্থী হিন্দু। তিনি নীচুবর্ণের হিন্দুদের সাথে মেলামেশা করেন না। তার এ কঠোর জাতিভেদনীতি মেনে নিতে পারে না তার ছেলে গৌরাঙ্গ। বর্তমানে প্রগতিশীল এবং উন্নয়ন মুখর বিশ্বে আধুনিকতা এবং শিক্ষার ছোঁয়ার জাতিবর্ণ প্রথা তিরোহিত হওয়ায় গৌরাঙ্গের মানসিকতায় এসেছে নতুন ধ্যানধারণা। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমি মনে করি, গৌরাঙ্গের ধারণা সঠিক ও যুক্তিসংগত।

231

Related Question

View All
উত্তরঃ

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।

1.2k
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

1.9k
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।

457
উত্তরঃ

"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

504
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।

329
উত্তরঃ

বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।

1.6k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews