বিজয় দিবস
বিজয় দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২৬ শে মার্চ ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ নামক একটি দেশ। স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দেশবিভাগের পর (১৯৪৭) পাকিস্তান নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও বাঙালিরা সবসময় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা নিপীড়িত, নিষ্পেষিত হয়েছে। অধিকারবঞ্চিত বাঙালি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে বারবার। সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদাররা হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের মাধ্যমে বাঙালিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মুক্তিবাহিনী বিপুল বিক্রমে তাদের বর্বর অত্যাচার রুখে দেয়। একে একে শত্রুমুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন অঞ্চল। শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়; আমরা লাভ করি চূড়ান্ত বিজয়। ১৬ই ডিসেম্বরে তাই আমরা বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠি। এটি আমাদের অন্যতম জাতীয় দিবস। জাতীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপনের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। শোষণমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গঠনে বিজয় দিবস আমাদের প্রেরণা জোগায়। সেই প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে আমাদের এ দেশকে গড়ে তুলতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!