বিথী ও ইতি পরস্পর সহপাঠী। তারা একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের বিষয়ে আলোচনা করছে। বিথী বলেন, এই সম্প্রদায়ের লোকেরা সবচেয়ে বেশি ভারতের আসামে বসবাস করে। বাংলাদেশে প্রায় ৮০ হাজারের মতো লোক রয়েছে এই সম্প্রদায়ের। ইতি বলেন, এই সম্প্রদায়ের সমাজ ও পরিবার কাঠামোর সাথে চাকমা সম্প্রদায়ের সমাজ ও পরিবার কাঠামোর অমিল দেখতে পাওয়া যায়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

এথনিক সম্প্রদায় হলো এমন একটি সম্প্রদায় যারা বংশ পরম্পরায় কিছু সাধারণ ও অভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলিয়া জনগোষ্ঠীর লোক। স্যার রিজলির মতে, চাকমাদের দেহে ৮৪.৫% মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদের মুখমণ্ডল গোলাকার, ঠোঁট পাতলা, চুল সোজা, চোখের মণি ও চুলের রং কালো, দেহ প্রায় রেশহীন, দাড়ি গোঁফ কম। উচ্চতায় তারা মাঝারি ধরনের এবং তারা সুঠাম দেহের অধিকারী।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বিথী ও ইতির আলোচনায় বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

নৃতত্ত্ববিদ রেভারেন্ড এইচ রবাটর্ফ এবং স্যাডওয়েল প্রমুখদের মতে, খাসিয়ারা মূলত ব্রহ্মদেশের অধিবাসী ছিল। সেখান থেকে পাতকাই গিরিপথ বেয়ে ধীরে ধীরে তারা আসামে বসতি স্থাপন করে। সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল জৈন্তিকা পাহাড়, তামাবিল, জাফলং, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় খাসিয়াদের বাস।

খাসিয়ারা মূলত আদি মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। দৈহিক বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে এদের গায়ের রং বাদামি বা হলুদ বাদামি, মুখমণ্ডল গোলাকৃতি, চোখ ক্ষুদ্রাকৃতি, চোখের মনি কালো, মোটা ঠোঁট, নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এদের সাথে চীনা ও বার্মিজদের যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। সিলেটে বসবাসরত খাসিয়াদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ১৯০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সমগ্র উপমহাদেশে ৪৮০১ জন খাসিয়া বাস করতো। এর মধ্যে শুধু সিলেটে বাস করে ৩০৮৩ জন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৮০টির অধিক খাসিয়াদের গ্রাম আছে। ২০১১ সালের সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের খাসিয়ার সংখ্যা ৭৮,০০০ জন।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিথী ও ইতির আলোচিত নৃগোষ্ঠী হলো খাসিয়া।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বিথী ও ইতির আলোচনায় আমরা খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাথে চাকমা সমাজ ও পরিবার কাঠামোর ব্যাপক অমিল খুঁজে পাই।

খাসিয়া সমাজ মূলত মাতৃতান্ত্রিক। তাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা সবাই মায়ের পদবি ধারণ করে থাকে এবং মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হয়। বিয়ের পরও কন্যা সন্তানগণ স্বামীসহ পিতৃগৃহে বসবাস করে। পারিবারিক সম্পত্তির অধিকার সব সময়ই মেয়েদের ওপর ন্যস্ত থাকে। সব কন্যা সন্তান নয় বরং নির্বাচিত কন্যা সন্তানকেই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করা হয়। সর্বকনিষ্ঠ কন্যাসন্তানকেই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারিনী করা হয় যিনি খাসিয়া সমাজে 'কা খাদ্দু' নামে পরিচিত। তার ওপর বৃদ্ধ পিতামাতা ও অবিবাহিত ছোট ভাই-বোনদের দায়িত্ব বর্তায়। তাদের সমাজে মায়ের বড় ভাইয়ের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা স্বামীর চেয়েও বেশি। ফলে খাসিয়া সমাজে মায়ের ক্ষমতার প্রাধান্য বেশি। খাসিয়া সমাজে পুরুষরা নিজ সংসারে স্ত্রীর চেয়ে কম ক্ষমতাবান হলেও বোন বা মায়ের সংসারে একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তিতে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতৃসূত্রীয়। অর্থাৎ চাকমা পরিবারে ক্ষমতা পিতা বা বয়স্ক পুরুষের হাতে থাকে। আবার সম্পত্তি বংশ পরিচয় পিতা থেকে পুত্রে বর্তায়। কন্যা সন্তান পিতার সম্পত্তির মালিকানা পায় না। তবে পুত্র সন্তান না থাকলে মেয়েরা পিতার সম্পত্তির মালিকানা পায়। চাকমা বিবাহিত দম্পতি বিয়ের পর স্বামীর পিতার গৃহে বা স্বামীর নিজ গৃহে বসবাস করে।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের আলোচিত খাসিয়াদের পরিবার কাঠামোর সাথে চাকমাদের পরিবার কাঠামোর প্রভূত অমিল পরিলক্ষিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
259
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়।

চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীর লেখা পাওয়া যায়। এসব সমাজচিন্তাবিদগণ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন। যার ফলে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করা হচ্ছে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডিএন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্ক্সবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীদের লেখা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এসব সমাজচিন্তাবিদদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
283
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করে। এ বর্ণনার আলোকে বলা যায়, এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।

সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীকেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জেরি ও জেরির ভাষায়, 'ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হলো মানুষের এমন এক গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উৎসারিত একটি পরিচয় বহন করে'। প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থাকে। নৃবিজ্ঞানী ন্যারোল-এর মতে, অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন সম্পর্কে দলীয় সচেতনতা হলো ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর সদস্যদের মূল উপাদান। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানী কোহেন ও ইয়ামস ক্ষুদ্র সম্প্রদায় তথা উপজাতি বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন, যারা তাদের জীবিকার জন্য খাদ্যসংগ্রহ, উদ্যান, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। আবার উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, যে গোষ্ঠীর সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে তারাই হলো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এসব সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার-আচরণ, প্রথা, বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা, অনুসরণীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
462
উত্তরঃ

গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামে ক্ষমতার বিকাশ ও প্রয়োগ ঘটে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, “শ্রেণিসমূহের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ সমাজে সামাজিক শক্তিসমূহ যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, তাকে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলা যেতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমি মালিক ও বর্গা চাষিদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অংশ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.9k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews