সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক এর উপাধি ছিল লাখ বক্স।
সুলতান রাজিয়া ছিলেন ইলতুৎমিশের কন্যা।
ইলতুৎমিশের পুত্রদের কেউই সুলতান পদের যোগ্য ছিলেন না এজন্য সুলতান তাঁর কন্যা রাজিয়াকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু তুর্কি আমিরদের এটা পছন্দ ছিল না। তাই তারা ইলতুৎমিশের পুত্র ফিরোজকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু দিল্লির অধিবাসীদের সমর্থনে রাজিয়া ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন দখল করে ১২৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তিনি বাহরামের সৈন্যবাহিনীর নিকট পরাজিত হয়ে পলায়নকালে জনৈক হিন্দু আততায়ী কর্তৃক ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দিল্লি সালতানাতের সুলতান আলাউদ্দিন খলজির কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেই নানামুখী সংস্কার ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সুলতানের এ সংস্কার কার্যগুলোর মধ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্যতম। মূলত আলাউদ্দিন খলজি সাম্রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিধান, জনসাধারণের সুবিধা, মুদ্রাস্ফীতি রোধ, বিশাল সৈন্যবাহিনীর ভরণ-পোষণ এবং সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও সংহতি বিধানের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে একটি বাজারের দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীল অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় করছে না। এ রকম অবস্থার প্রেক্ষিতেই সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। আলাউদ্দিন খলজি খাদ্যশস্য সুলভমূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন গম, বার্লি, চাল, চিনি, আটা, ডাল, তৈল, সোডা ইত্যাদির মূল্য নির্ধারণ করে দেন। এছাড়া তিনি বস্ত্র, পশু ও অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্যের তালিকা করে দেন। আলাউদ্দিন খলজি কেবল দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি দ্রব্যাদির চাযিদা অনুসারে সরবরাহের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে খাদ্যঘাটতি পূরণ করার উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লির উপকণ্ঠে এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি শস্যভাণ্ডার গড়ে তোলেন। তিনি লোভী ব্যবসায়ীদের মজুদদারি নিরোধে তাদের নামের তালিকা করে জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্ত করাসহ নানা ধরনের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি বাস্ত্র, পশু ও অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্যের তালিকা করে দেন। উদ্দীপকে এরকমই একটি মূল্য তালিকার কথা বলা হয়েছে, যা আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত বহন করছে।
উদ্দীপকে সিমুদের সরকারকে আলাউদ্দিন খলজির মতো মুদ্রাস্ফীতি রোধ, গুদামঘর নির্মাণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দমনের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেন।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি মূল্য নিয়ন্ত্রণে পণ্য বাজার স্থাপন, বাজার পরিদর্শন ব্যবস্থা, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা, মজুত নিরোধব্যবস্থা ইত্যাদি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। উদ্দীপকের সিমুদের সরকারও এরূপ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সফল হতে পারেন।
মূল্য নিয়ন্ত্রণে সিমুদের সরকারকে প্রথমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া খাদ্যঘাটতি পূরণ করার জন্য শস্যাগার বা গুদামঘর নির্মাণ করার মাধ্যমে তিনি মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেন। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মাধ্যমেও এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারে। পণ্যদ্রব্য যাতে সময়মতো ক্রেতার নিকট সরবরাহ করা যায় সেজন্য পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া বাজারের ফটকা ব্যবসায়ীদের দমন করে সিমুদের সরকার এ নীতি কার্যকর করতে পারেন। পণ্যদ্রব্য মজুত করে মজুতদাররা যাতে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যও তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে সিমুর দেশের সরকারকে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মতোই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Related Question
View Allসালতানাতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদি।
আলাউদ্দিন খলজির শাসনামলে দিল্লি সালতানাতে প্রায় সাত বার মোঙ্গল আক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। তাই মোঙ্গলদের প্রতিহতকরণে তিনি কতিপয় কার্যকর মোঙ্গলনীতি গ্রহণ করেন।
আলাউদ্দিন খলজি মোঙ্গলদের মোকাবিলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সাথে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মোঙ্গলদের আক্রমণ পথে তিনি পুরাতন কেল্লা সংস্কার ও নতুন কেল্লা স্থাপন করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি উন্নতমানের অস্ত্রের জন্য কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বিশ্বস্তদের ওপর ন্যস্ত করেন। এছাড়া তিনি মোজঙ্গলদেরকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত সৈন্য সংগ্রহ করেন। এভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিনি মোঙ্গল আক্রমণ মোকাবিলায় সাফল্য লাভকরেন। তার রাজত্বকালে মোঙ্গলরা আর ভারত আক্রমণে সাহস করেনি।
উদ্দীপকে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের সঙ্গে দিল্লির সালতানাতের মহিলা শাসক সুলতান রাজিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা চিরকালই অবহেলিত হয়ে আসছে। এই অবহেলার মাঝেও নারীরা স্বীয় যোগ্যতাবলে সমাজের উন্নয়নে অংশীদার হয়েছে। নানা বাধার সম্মুখীন হয়েও তারা সফল হয়েছে; সকল সমালোচনার উচিত জবাব দিয়েছে। উদ্দীপকের শ্রীমাভো বন্দরনায়েক এবং সুলতান রাজিয়া এমনই দুজন নারী ব্যক্তিত্ব।
শ্রীমাভো বন্দরনায়েক ছিলেন আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বিভিন্ন দেশের কিছু অভিজাত শ্রেণির সমালোচনার মুখোমুখি হন। তারা নারী বলে শ্রীমাভো বন্দরনায়েককে শাসনকার্যে অনুপযোগী ও অদক্ষ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু নিজ মেধা, তেজস্বিতা আর কর্মদক্ষতার গুণে শ্রীমাভো সকল বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রতিহত করে দেশের উন্নতি সাধন করেন। সুলতান রাজিয়াও একইভাবে ১২৩৬ থেকে ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দিল্লির সিংহাসনে বসে সুলতানি শাসন পরিচালনা করেন। তার ৪ বছরের রাজত্বকাল মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে সাম্রাজ্যের বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ প্রতিহত করেন। তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা শাসনকর্তা। তার সাহসিকতা, দক্ষতা ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তুর্কি জাতির সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। তার উদার রাজনৈতিক চিন্তাধারা বস্তুত মুসলিম শাসনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। সুতরাং দেখা যায় উদ্দীপকের শ্রীমাভো বন্দরনায়েক এবং সুলতান রাজিয়া শাসন পরিচালনার দিক দিয়ে একে অন্যের প্রতিরূপ।
ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম ও একমাত্র মহিলা।
সালতানাতের এক সংকটকালে সুলতান রাজিয়া সিংহাসনে আরোহণ করেন। ঐতিহাসিক মিনহাজ-উস-সিরাজের হিসেব মতে, তিনি ৩ বছর ৬ মাস ৬ দিন রাজত্ব করেন। তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং অসাধারণ প্রতিভাশালী একজন নারী। প্রচলিত মুদ্রায় তিনি নিজেকে উমদাদ-উল-নিসওয়ান (নারীদের মধ্যে বিশিষ্ট) বলে উল্লেখ করেন। মিনহাজ-উস-সিরাজ তাকে মহান নৃপতি, বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ ও মহানুভব বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন সার্বভৌম নৃপতির প্রয়োজনীয় গুণাবলি ও - যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। এ. বি. এম. হবিবুল্লাহর মতে, সাহসিকতা ও অদম্য দৃঢ়তাই (Courage and unflincing determination) ছিল রাজিয়ার আদর্শ।
চারিত্রিক দৃঢ়তায় সুলতান রাজিয়া নিজেকে পুরুষ অপেক্ষা যোগ্যতর প্রমাণ করেন। ব্যক্তিগত দৃঢ়তা ও যোগ্যতাই তার ক্ষমতা ও অস্তিত্বের চাবিকাঠি ছিল। সুলতান রাজিয়া প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত শক্তি-সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যেই মহিলা পোশাক পরিত্যাগ করেন, অশ্বারোহণে জনসমক্ষে বের হন এবং প্রকাশ্যে দরবার পরিচালনা করেন। অধ্যাপক কে. এ. নিজামী যথার্থই বলেছেন, "অস্বীকার করার অবকাশ নেই যে, তিনি ছিলেন ইলতুৎমিশের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যোগ্যতম।"
পরিশেষে বলা যায় যে, সুলতান রাজিয়া ছিলেন অপরিসীম কৃতিত্বের অধিকারী।
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (শাসনকাল ১৩২০-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ)।
রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোজাল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত নিষ্ঠুর ও কঠোর পদক্ষেপই 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' (Blood and Iron policy) নামে পরিচিত।
সিংহাসনে আরোহণ করেই বলবন নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আমির-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ঔদ্ধত্য, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ, দিল্লির সন্নিকটস্থ মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব, উপর্যুপরি মোঙ্গল আক্রমণ প্রভৃতি। এসব সমস্যা সাম্রাজ্যের ভিতকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। তাই নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গুপ্তচর প্রথা চালু, বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন, মোঙ্গল নীতি প্রভৃতি বিষয়ে কঠোর ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এগুলোই বলবনের 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' হিসেবে স্বীকৃত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!