রাজা হবু ধূলি দূর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর রাজ্যের মন্ত্রী গোবুরায়কে।
জলের জীব জল বিনা মরল ধুলা দূর করার জন্য পুকুর ও নদীর সব জল তুলে ফেলার কারণে।
রাজা হবু রাজ্য থেকে ধুলা দূর করার হুকুম দেন। মন্ত্রী ও জ্ঞানী-গুণীদের নির্দেশে সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাঁটা দিয়ে ধুলা ঝাঁট দেওয়া শুরু হলো। ফলে সারা রাজ্য ধুলাময় হয়ে গেল। এই অবস্থায় রাজ্য থেকে সেই ধুলা দূর করতে একুশ লাখ ভিস্তি পুকুর, বিল, নদীর সব জল তুলে এনে ধুলা নিবারণের চেষ্টা করল। এতে পুকুর-নদীসহ সমস্ত জলাশয় শুকিয়ে গেল। ফলে জলের জীব জল বিনা মরল।
সমস্যার গুরুত্ব না বুঝে সমাধান করতে যাওয়া এবং ভুল কর্মপদ্ধতি গ্রহণের দিক থেকে জেলা-বোর্ড কর্মকর্তার সঙ্গে 'জুতা- আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
জীবন চলার পথে সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা আসতেই পারে। তাকে সঠিক পন্থায় মোকাবিলা করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারলে জীবন হয়ে ওঠে উপভোগ্য ও আনন্দময় । আর যদি তার বিপরীত হয় তবে সমস্যার মাত্রা মাত্রা বেড়েই চলে।
উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা একটি সামান্য সমস্যার সমাধান করতে যে কর্মপদ্ধতি বাতলে দেন তা নিতান্তই অগ্রহণযোগ্য বিদ্যালয়ের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার বিষয়টি সমাধান করতে তিনি প্রধান শিক্ষককে আগামী বাজেট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এ ধরনের উদ্ভট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার মন্ত্রী গোবুরায়। তিনি রাজার পা দুটি ধুলা থেকে রক্ষা করতে রাজ্যের জ্ঞানীগুণী-মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঝাঁটা দিয়ে রাজ্যের সব ধুলা দূর করার নির্দেশ দেন। এতে রাজ্য ধুলাময় হলে পুকুর, নদী, বিল থেকে জল তুলে শহর-নগর জল-কাদায় ঢেকে ফেলেন। এই অদূরদর্শী ও বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দিক থেকে গোবুরায়ের সঙ্গে উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তার সাদৃশ্য রয়েছে।
'সমাজের উপেক্ষিতদের মাধ্যমেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব'- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে যারা উপেক্ষিত তারাই সভ্যতার প্রকৃত কারিগর। তাদের শ্রম ও কর্মদক্ষতায় জগৎ-সংসার সচল রয়েছে। অথচ তারাই প্রতিটি ক্ষেত্রে অবমূল্যায়িত হয়। তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান দ্বারা অনেক বড় সমস্যারও তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব, যা স্বীকৃত জ্ঞানীরা সমাধান সমাধান করতে হিমশিম খান।
উদ্দীপকে দেখা যায় স্কুলের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ার সমস্যার কথা জানালে জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষককে আগামী বাজেট পর্যন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এদিকে ভবঘুরে সোহেল তার বন্ধুদের নিয়ে সমস্যাটির সমাধানের পথ বের করে। 'জুতা- আবিষ্কার' কবিতায়ও এ সমস্যা সমাধানে চামার-কুলপতির অবদানের দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজাকে ধুলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে মন্ত্রীসহ জ্ঞানী-গুণী-পণ্ডিতরা সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলেন। তবে এর সঠিক সমাধান করেন সমাজে অবহেলিত, উপেক্ষিত এক চামার। তিনি রাজার পায়ের জুতা তৈরি করে রাজ্যের মানুষকে দুর্দশার হাত থেকে বাঁচান। উদ্দীপকেও অবহেলিত, ভবঘুরে যুবক সোহেল সমস্যার সমাধান করেছে। তাই বলা যায়, সমাজের উপেক্ষিতদের মাধ্যমেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!