স্থানীয় শাসন হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, যেটি গঠিত হয় স্থানীয় পর্যায়ে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
উদ্দীপকের বিধান সরকার গ্রামীণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান।
ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের সর্বনিম্ন প্রশাসনিক ইউনিট। প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীকালে এটিই স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক ভিত্তিরূপে গড়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪,৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় একজন চেয়ারম্যান, নয়জন নির্বাচিত সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মহিলা সদস্য নিয়ে। নির্বাচনের উদ্দেশ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নকে নয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে একজন পুরুষ সদস্য, তিনটি ওয়ার্ড হতে একজন করে মহিলা সদস্য এবং সমগ্র ইউনিয়ন থেকে একজন চেয়ারম্যান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে। পরিষদের সার্বক্ষণিক দাপ্তরিক কাজ করেন সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ও বেতনভুক্ত একজন সেক্রেটারি। উদ্দীপকের বিধান সরকার একটি সংস্থার নির্বাচিত প্রধান। তার সংস্থায় তিনিসহ মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন। তাদের কাজে সাহায্য করার জন্য সরকারও কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সেক্রেটারি কর্মরত আছেন। বিধান সরকারের এ সংস্থাটির সাথে ইউনিয়ন পরিষদের গঠনের মিল রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, বিধান সরকার স্থানীয় স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান তথা চেয়ারম্যান।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থা অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- বক্তব্যটি সঠিক।
গ্রামীণ সমস্যা দূরীকরণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তথা জনপ্রতিনিধি তৈরি করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ব্যাপক কাজ পরিচালনা করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ করে। কৃষির উন্নয়নের জন্য উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ ও অধিক খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করে এবং মৎস্য চাষ, পশুপালন ও পশুসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করে। ময়লা আবর্জনা ফেলা, প্রাণী জবাই, গবাদি পশুর গোসল, ময়লা কাপড়-চোপড় ধোয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষাদান কেন্দ্র ও লাইব্রেরি স্থাপন করে। তাছাড়া সংবাদ সরবরাহ ও প্রচার নিবন্ধীকরণ এবং ই-গভর্নেন্স চালু ও উৎসাহিত করণেও ভূমিকা রাখে। জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কুটির শিল্প স্থাপন ও সমবায় আন্দোলন পরিচালনা এবং এ ব্যাপারে জনগণকে উৎসাহিত করে। নিজ অফিসের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য ও আদায় এবং বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব সংগ্রহে সরকারকে সহায়তা করে। জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ রেজিস্টার এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে। সর্বোচ্চ পাঁচ (০৫) হাজার টাকা মূল্যের দেওয়ানি ও ছোটখাটো ফৌজদারি মামলার বিচারও ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্থানীয় উন্নয়নে বিশেষ করে পল্লি এলাকার উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allপৌরসভার প্রধানকে মেয়র বলা হয়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের স্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
উদ্দীপকের 'X' হলো সিটি কর্পোরেশন নামক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন অন্যতম। বিভিন্ন স্থানের বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহৎ নগরীর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে। এটি মূলত একটি নগরভিত্তিক স্থানীয় সংস্থা। উদ্দীপকে এ প্রতিষ্ঠানটিরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান 'X'-এর সংখ্যা হলো ১১। এ প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যক্লিনিক ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ও জনগণের সক্রিয় ভূমিকায় এ সংস্থার কার্যক্রম সাধিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। যথা: ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও গাজীপুর। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ অর্থাৎ মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এসব কাজে জনগণও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। মহানগরীর উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি কর্পোরেশন বহুবিধ কাজ করে থাকে। সন্ত্রাস দমন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধের জন্য এ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানগরীর জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশন বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে। যেমন- হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও নির্মাণের অনুমতি প্রদান, শৌচাগার নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ইত্যাদি। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, বিশ্রামাগার নির্মাণ, মোটরগাড়ি ও ট্রাক ছাড়া অন্য সকল প্রকার যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান ও চলাচল ইত্যাদি। এ সংস্থাটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, নগর
X' প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনকে অধিক কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সিটি কর্পোরেশন মহানগরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে। এর মেয়র ও কাউন্সিলরদের জনগণ সরাসরি নির্বাচন করতে পারে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারাও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের সীমিত জনবলের পক্ষে মহানগরের মতো বিশাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনগণ নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ও আবর্জনা ফেলে ও নিজ দায়িত্বে নিজেদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করে। মহানগরের জনগণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের জন্য সিটি কর্পোরেশন গভীর ও অগভীর নলকূপ খনন করে। জনগণ পানির অপচয় রোধ করে সকলের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করে। এসব কাজে এলাকার জনগণ সম্পৃক্ত হয়ে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করে। ভূমি অধিগ্রহণ, বাড়িঘর স্থানান্তর ইত্যাদি কাজেও জনগণ কর্পোরেশনকে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন সংগ্রহ করে। রাস্তাঘাটে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যাপারেও এ প্রতিষ্ঠানটিকে জনগণ সহযোগিতা করে। পরিশেষে বলা যায়, মহানগরের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সিটি কর্পোরেশন যেসব কাজ করে তা মূলত জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হয়। এ কারণে জনগণও এসব কাজে সহযোগিতা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় শাসন হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, যেটি গঠিত হয় স্থানীয় পর্যায়ে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!