মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌত ও সামাজিক পরিবেশে মানুষের কর্মকান্ড ও জীবনধারার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে ভূগোল বলে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের ভূমিরূপবিদ্যা শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ভূগোলের পরিধি ও বিস্তৃতি ব্যাপক। যে কারণে বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্য আলাদা শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রাকৃতিক ভূগোল একটি; যেখানে প্রকৃতি থেকে সরাসরি যেসব বিষয় পাওয়া যায় তা আলোকপাত করা হয়। এ প্রাকৃতিক ভূগোলের বিস্তৃতিও অনেক। ফলে এ ভূগোলের কয়েকটি উপশাখা রয়েছে। তন্মধ্যে ভূমিরূপবিদ্যা অন্যতম। এখানে পৃথিবীর সৃষ্টি, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূ আলোড়ন, পাহাড়, পর্বত, নদনদীর উৎপত্তি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উদ্দীপকে ভূগোল পাঠের কথা বলা হয়েছে। নিচে এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
পৃথিবীর পৃষ্ঠ, অভ্যন্তরভাগ ও পৃথিবীর বাইরের বায়ুমণ্ডলের উপাদান প্রভৃতি নিয়ে ভূগোলের আলোচনা। এ বিষয় পাঠে জানা যায় পৃথিবীর কোন স্থানের প্রকৃতি ও পরিবেশ কেমন, কোথায় আছে পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, মালভূমি, সমভূমি ও মরুভূমি এবং এসব গঠনের কারণ ও বৈশিষ্ট্য। এ বিষয় পাঠে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে কীভাবে জীবজগতের উদ্ভব হয়েছে সে বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা অর্জন করা যায়। এছাড়া কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের সামাজিক পরিবেশের কী পরিবর্তন হয়েছে তা জানা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো কেন সৃষ্টি হয়, এদের নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো কী ক্ষতি করে তাও জানা যায়। এ অর্থে ভূগোল পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। বিজ্ঞান যত আধুনিক হচ্ছে ভূগোলের গুরুত্বও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি হলো ভূগোল। পৃথিবীকে জানতে হলে ভূগোল পাঠের প্রয়োজন।
মানবজীবনে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভূগোলের বিচরণ লক্ষ করা যায়। যেমন- ভূমিরূপবিদ্যা, জলবায়ুবিদ্যা, সমুদ্রবিদ্যা, জীবভূগোল প্রভৃতি।
ভূমিরূপবিদ্যায় যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হলো- পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, নদনদীর উৎপত্তি, ভূমিকম্প, পাহাড়-পর্বত, মৃত্তিকার গঠন প্রকৃতি, হিমবাহের কার্য প্রভৃতি। এর মাধ্যমে পৃথিবীর কোন অন্যলে বসতি গড়ে উঠবে তা নির্ণয় করা যায়। এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে পৃথিবীর কোন অঞ্চলের ভূমি কীরূপ এবং তার ভিত্তিতে কোন অঞ্চলে কোন ধরনের কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে তা জানা যায় এবং এর ওপর ভিত্তি করে ঐ অঞ্চলে কোন ধরনের বসতি গড়ে উঠবে তাও জানা যায়। জলবায়ুবিদ্যা ভূগোলের আরেকটি শাখা। এর মাধ্যমে পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের বায়ুর তাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি কেমন হবে তা জানা যায়। সমুদ্রবিদ্যা ভূগোলের আরেকটি শাখা। এর মাধ্যমে সমুদ্রের উৎপত্তি, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, স্থলভাগের ওপর সমুদ্রের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় জানা যায়। আর এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সমুদ্রের তীরবর্তী মানুষের জীবনপ্রণালি, জোয়ারভাটার ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন হয় তাও জানা যায়। এছাড়া জীবভূগোলও ভূগোলের আরেকটি শাখা। এ শাখার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হচ্ছে- উদ্ভিদের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, পরিবেশের ওপর উদ্ভিদের প্রভাব, অঞ্চলভেদে উদ্ভিদের বিস্তরণ, উদ্ভিদের বিন্যাস, পশুপাখি ও মানুষের ওপর উদ্ভিদের প্রভাব ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
তাই বলা যায়, পৃথিবীর যেকোনো বিষয় জানার জন্য ভূগোল পাঠ প্রয়োজন।
Related Question
View Allযে বিষয় পাঠে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূত্বক ও তার উপাদানসমূহ সম্পর্কে জানা যায়, তাকে ভূমিরূপবিদ্যা বলে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর বর্ণনা।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি পুনঃপুন পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীর পরিবেশ যেসব জড় উপাদান ও সজীব উপাদান দ্বারা গঠিত তার অবস্থান, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশের বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ ও এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু ও জীবমণ্ডলের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করাই হলো প্রাকৃতিক ভূগোল।
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাটি হলো ভূমিরূপবিদ্যা। নিচে ভূমিরূপবিদ্যা শাখাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো।
ভূমিরূপবিদ্যায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণির ভূত্বক কীভাবে নানারকম পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে তা আলোচনা করা হয়। পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, জলাশয় কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, পৃথিবীর ভূমিকম্প, ভূ-আলোড়ন ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টির কারণ, পরিমাপ, অবস্থান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও মহাদেশীয় সঞ্চালন, প্লেট টেকটোনিক, মৃক্তিকার সৃষ্টি, শিলার গঠন, বিন্যাস ও পর্বতের গঠন, অবস্থান এবং প্রকারভেদ সম্বন্দ্বে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সময় ও অঞ্চলের স্কেল বা পরিসরের ভিন্নতা ভূমিরূপের বিশ্লেষণের লক্ষ্য, সামর্থ্য ও সমস্যা বর্ণনা করে।পরিশেষে বলা যায় ভূমিরূপবিদ্যা ভূত্বক ভূঅভ্যন্তরীণ শক্তি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারে মানুষকে নির্দেশনা দেয়।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাদ্বয় হলো ভূমিরূপবিদ্যা ও সমুদ্র বিদ্যা। ভূমিরূপবিদ্যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূআলোড়ন, পাহাড়, পর্বত, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, বায়ুর কার্য, হিমবাহের কার্য প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে। এ শাখা থেকে আরও জানা যায়, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত নানাপ্রকার মতবাদ, সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় পৃথিবীর আকার ও আয়তন কেমন ছিল তার বিবরণ, ভূমিকম্প ও ভূআলোড়নের ফলে পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে যে নানাপ্রকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জ্ঞান লাভ করা যায়। অন্যদিকে সমুদ্রবিদ্যা শাখায় যাবতীয় সমুদ্র বিষয়ক উপাদান বর্ণনা করা হয়। এ শাখা সমুদ্রের উৎপত্তি, 'আকার, আয়তন, পৃথিবীর সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সাগরতলের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রস্রোতের কারণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তরঙ্গ ও এর কার্য, সমুদ্রে বসবাসকারী প্রাণি ও উদ্ভিন্ডদের বিন্যাস, জোয়ারভাটা, জোয়ারভাটার প্রভাব, স্থলভাগের উপর সমুদ্রের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
ভূগোলশাস্ত্রের যে শাখায় পৃথিবীর জন্ম, পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ এবং এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
জোয়ারভাটা প্রাকৃতিক ভূগোলের সমুদ্রবিদ্যা শাখায় আলোচিত হয়।
প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, শৈলশিরা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই সমুদ্রবিদ্যা। জোয়ারভাটা সমুদ্র বিদ্যা শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ জোয়ারভাটা একটি বিশেষ সামুদ্রিক আচরণ এবং এর উৎপত্তি, কারণ, সময় সবকিছু সমুদ্রের সাথে সম্পর্কিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!