একজন ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
স্বল্প পুঁজি নিয়ে যেকোনো স্থানেই এ ব্যবসায় স্থাপন করা যায়। এ ধরনের ব্যবসায় একজন মাত্র মালিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে। একক মালিকের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা ও ব্যবসায়ের পরিসর সীমিত হওয়ার কারণে এ ব্যবসায়ের আয়তন ছোট হয়ে থাকে।
মালিকানার ভিত্তিতে হুমায়ুনের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠনের আওতায় পড়ে।
এ ধরনের ব্যবসায় একক মালিকানার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। অল্প পুঁজি নিয়ে যেকোনো স্থানে এ ব্যবসায় গঠন করা যায়। মালিক নিজেই ব্যবসায় পরিচালনা করেন বলে এতে সফলতা অর্জন করা সহজ হয়। উদ্দীপকের হুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য তিনি বাড়ির পাশে একটি ফটোকপির দোকান দেন। তিনি একাই এর মূলধন বিনিয়োগ করেন। এখানে ফটোকপির পাশাপাশি তিনি গ্রাহকদেরকে ইন্টারনেটে পরীক্ষার ফরম পূরণ, রেজাল্ট প্রকাশ, মেইলের তথ্য বিনিময়, টার্ম পেপার প্রস্তুত প্রভৃতি সেবা দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ের সব কাজ হুমায়ুন নিজেই পরিচালনা করেন। আর মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ তিনি নিজেই পান। আবার ক্ষতির দায় তাকেই নিতে হয়। এসব বৈশিষ্ট্য একমালিকানা ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই হুমায়ুনের ব্যবসায়টিকে একমালিকানা ব্যবসায় বলা যায়।
ব্যক্তিক নৈপুণ্যের কারণে হুমায়ুন তার ব্যবসায়ে সফল হয়েছেন।
একমালিকানা ব্যবসায় যে কেউ স্বল্প পুঁজি নিয়ে গঠন করতে পারেন। নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে পারদর্শী ব্যক্তি এ ব্যবসায় স্থাপন করে সহজেই সফলতা অর্জন করতে পারেন। এ কারণে একমালিকানা ব্যবসায়ের জনপ্রিয়তা বেশি।
উদ্দীপকের হুমায়ুন লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ফটোকপির দোকান দেন। এতে তিনি একাই মূলধন বিনিয়োগ করেন। ফটোকপির পাশাপাশি হুমায়ুন গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা দেন। ব্যবসায়ের সব কাজ তিনি একা করতে না পারায় বড় ভাইকে ফটোকপি অংশের দায়িত্ব দেন। এতে তারা ব্যবসায়ের কাজ পরিচালনা সহজ হয়।
হুমায়ুন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার ফরম পূরণ, রেজাল্ট প্রকাশ, মেইল তথ্য বিনিময়, টার্ম পেপার তৈরি প্রভৃতি কাজগুলো করে থাকেন। এ কাজগুলো যে কেউ করতে পারে না। হুমায়ুনের দক্ষতা থাকায় তিনি কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারেন। এক্ষেত্রে এসব সেবা দেওয়ায় তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, ব্যক্তিক নৈপুণ্যের কারণেই হুমায়ুনের ব্যবসায়ে সফলতা এসেছে।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
