ভূমিরূপ, মাটি, পানি ও কৃষি জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য অনুসারে শ্রেণিকৃত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাকে কৃষি পুরিবেশ অঞ্চল বলে।
চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং মৌসুমের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে। অনেক অঞ্চলে ঢল বন্যা দেখা দেয়। তাপমাত্রা খুব বেশি এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ মাঝারি থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাগ-১ এর ফসলগুলো হলো মৌসুম নিরপেক্ষ উদ্যান ফসল বা বারমাসি উদ্যান ফসল।
মৌসুম নিরপেক্ষ ফসলগুলো কম তাপমাত্রা থেকে বেশি তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে, কম বৃষ্টিপাত থেকে বেশি বৃষ্টিপাতে জন্মাতে পারে, কম আর্দ্রতা থেকে বেশি আর্দ্রতায় জন্মাতে পারে এবং স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্য থেকে দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যে ফুল-ফল উৎপাদন করতে পারে। অর্থাৎ উপরিউক্ত মৌসুম নিরপেক্ষ ফসলগুলোর জলবায়ুগত চাহিদার বিস্তার অনেক বেশি হওয়ায় ফসলগুলোকে রবি ও খরিপ উভয় মৌসুমেই চাষ করা যায়।
তাই আমরা বলতে পারি, বিভাগ-১ এর ফসলগুলোর যেকোনো আবহাওয়া ও জলবায়ুতে চাষ করার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এদেরকে সারা বছর পাওয়া যায়।
লউদ্দীপকে বিভাগ-২ এ উল্লিখিত আলু, মুলা ও ফুলকপি হলো রবি মৌসুমের ফসল এবং মিষ্টি কুমড়া ও ঝিঙ্গা হলো যথাক্রমে খরিপ-১ ও খরিপ-২ এর ফসল।
রবি মৌসুমের ফসল ফলানোর জন্য বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুর আর্দ্রতা, ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বন্যার আশঙ্কা কম থাকতে হয় ও দিনের চেয়ে রাত বড় বা সমান হতে হয়। এই সব নিয়ামকগুলো অন্য মৌসুমে পাওয়া সম্ভব নয়। রবি মৌসুমে এসব নিয়ামক পাওয়া যায় বিধায় আলু, মুলা, ফুলকপি রবি মৌসুমেই চাষাবাদ করতে হয়। আবার মিষ্টি কুমড়া ও ঝিঙ্গা চাষের জন্য মাঝারি থেকে বেশি বৃষ্টিপাত, বাতাসে জলীয় বাষ্প এবং বেশি তাপমাত্রা থাকতে হয়। আবার মিষ্টিকুমড়া ও ঝিঙ্গা চাষের জন্য এসব নিয়ামক খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমে পাওয়া যায় বলেই এদেরকে খরিপ মৌসুমে চাষ করতে হয়।
অর্থাৎ উদ্দীপকের উদ্ভিদগুলোর স্ব-স্ব জলবায়ুগত চাহিদার কারণে উক্ত মৌসুম ছাড়া এ ফসলগুলো সারা বছর পাওয়া সম্ভব নয়।
Related Question
View Allফসলের মৌসুম বলতে কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। আলুর উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন ০-৫° সে., সর্বোত্তম ২৫-৩১° সে. এবং সর্বোচ্চ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই আলুকে কার্ডিনাল তাপমাত্রার সবজি বলা হয়।
সাদিকের বাড়িটি কম বৃষ্টিপাত প্রবণ অঞ্চলে হলেও প্রচুর শাক-সবজি জন্মে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাদিকের বাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩ ও ৪-এ অবস্থিত (রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ)।
এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, কিন্তু গরম ও শীতের তীব্রতা খুব বেশি। রবি মৌসুমে শীতের প্রকোপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে। রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু ফসল যেমন: টমেটো, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, - ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি চাষ করা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি সেচের প্রয়োজন হয় এমন ফসল যেমন: করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, পাট প্রভৃতি ভালো জন্মে। খরিপ-২ মৌসুমে 'সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না এমন ফসল যেমন: আমন ধান, ঢেঁড়স, কুমড়া, তুলা, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সাদিকের কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন মৌসুমে বৈচিত্র্যময় ফসল জন্মে
অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সাদিকের মামাবাড়ি চট্টগ্রামের টিলাতলাতে অবস্থিত, যা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৩ এর অন্তর্ভুক্ত।
সাদিকের বাড়ির কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে শীত ও গরম উভয় ঋতুর তীব্রতা অনেক বেশি। ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গ্রীষ্মকালে এখানে খরা হয়। এ অঞ্চলের আবহাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে বর্ষাকালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে তুলনামূলকভাবে কুয়াশা বেশি থাকে। সাদিকের মামাবাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল একদিকে যেমন পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শীত ও গরমের তীব্রতা কম, কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি। ঝড়বৃষ্টিও খুব বেশি হয়। হঠাৎ করে আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। শীতকালে কুয়াশা খুব কম থাকে।
অতএব বলা যায় যে, সাদিকের মামা বাড়ির আবহাওয়া ও তার বাড়ির আবহাওয়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
কখনো কখনো শীতকালে শিশিরপাত, কুয়াশা বেড়ে যায় ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। যা রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তখন ফসল খুব সহজে রোগে আক্রান্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
