মুখবিবর হতে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যবাহী নালিটিকেই পৌষ্টিক নালি বলে।
মুখবিবর হতে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যবাহী নালিই হচ্ছে পৌষ্টিকনালি।
পৌষ্টিক নালির অংশগুলো হলো- ১. মুখবিবর, ২. গলবিল, ৩. অন্ননালি, ৪. পাকস্থলি, ৫. ক্ষুদ্রান্ত্র ও ৬. বৃহদন্ত্র
ছকের'?' ঘরে খাদ্য পরিপাক বসবে।
যেকোনো খাদ্যবস্তুকে শরীরে কাজে লাগানোর জন্য এর বড় বড় অণুগুলো ভেঙে ছোট ছোট সরল অণুতে পরিণত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। খাদ্যে এরূপ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণোপযোগী অবস্থায় পরিণত হয় পরিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে।
বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন প্রকার উৎস থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে থাকি। অধিকাংশ খাদ্যবস্তুই দেহে সরাসরি কাজে লাগে না। কারণ খাদ্য হিসেবে আমরা যেগুলো গ্রহণ করি সেগুলোর অধিকাংশই বৃহৎ অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। খুব সামান্য পরিমাণে কয়েকটি খাদ্যবস্তু যেমন- গ্লুকোজ ও কয়েকটি খনিজ লবণ সরাসরি কাজে লাগে। অধিকাংশ খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার পর তা শরীরের কাজে আসে। যেমন- ভাতের প্রধান পুষ্টি উপাদান স্টার্চ। ভাত খাওয়ার সাথে সাথে এই স্টার্চ শরীরের কোনো কাজে আসবে না। কারণ স্টার্চ অনেকগুলো গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তেমনি খাদ্যে অবস্থিত বড় বড় প্রোটিন অণুগুলো ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে এবং খাদ্যের ফ্যাট ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হওয়ার পর এই সকল সরল উপাদান শোষিত হয়ে সরাসরি দেহের কাজে লাগবে।
মানবদেহে খাদ্য পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
পরিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজ, প্রোটিন ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং ফ্যাট ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তরিত হয়। এভাবে সকল খাদ্যবস্তুই ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয় এবং পরিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের পুষ্টি সাধন করে।
খাদ্য উপাদানের বৃহৎ ও জটিল অণুগুলো ক্ষুদ্র ও সরল অণুতে রূপান্তরিত হয়ে শরীরে শোষিত হয়ে রক্তস্রোতে মিশে যায়। বৃহৎ উপাদান থেকে ক্ষুদ্র ও সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার কাজ বিভিন্ন ধরনের এসিড ও এনজাইমের সাহায্যে ধাপে ধাপে বিক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। খাদ্যের এই জটিল উপাদান থেকে সরল উপাদানের পরিণতি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে পরিপাক ক্রিয়া বলে।
মানবদেহে পরিপাক ক্রিয়া শরীরের একটি মাত্র অঙ্গে সংঘটিত হয় না।
শরীরের বেশ কয়েকটি অঙ্গ এই কাজের সাথে জড়িত। যেমন দাঁত দিয়ে চর্বনের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু ছোট ও নরম করা হয়। অন্ননালির মাধ্যমে চর্বিত নরম খাদ্যবস্তুগুলো পাকস্থলিতে আসে এবং পরিপাক ক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে। পাকস্থলিতে খাদ্যবস্তুর সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না, তাই অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তুগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে। এখানেই প্রধান পরিপাক কাজ চলে। এরপর বৃহদন্ত্রে খাদ্যবস্তুগুলো প্রবেশ করে এবং পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরিপাকের ফলে উৎপন্ন সরল উপাদানগুলো শরীরের মধ্যে শোষিত হয় এবং যে বস্তুগুলো পরিপাক ও শোষিত হয় না অর্থাৎ অপাচ্য দ্রব্যগুলো দেহ নিষ্কাশন করে। খাদ্যকে দেহের গ্রহণ উপযোগী করার জন্য দেহের বিভিন্ন অংশে এই পরিপাক ক্রিয়া সংঘটিত হয়।
Related Question
View Allবিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে কৈশোরকালের বয়সসীমা ১০-১৯ বছর।
খাদ্যকে শোষণ উপযোগী করে দেহের কাজে লাগাতে হলে পরিপাক প্রয়োজন।
আমরা যেসকল খাদ্য গ্রহণ করি তার অধিকাংশই বড় অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। এসব খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হয়। আর খাদ্যবস্তুকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করার কাজটি পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
শম্পার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
শম্পা বয়সের তুলনায় খাটো। তার দৈহিক বর্ধন ঠিকমতো হচ্ছে না। এরূপ অবস্থায় তার খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এছাড়া হাড়ের গঠন ঠিক রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে তার খাবার যেমন হওয়া প্রয়োজন তা নিচে দেওয়া হলো -
i. প্রতি বেলার প্রধান খাবারে অর্থাৎ সকাল, দুপুর, ও রাতের বেলায় মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্য থাকতে হবে।
ii. তার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কিলোক্যালরির চাহিদা যাতে পূরণ হয় সেই জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শস্য ও শস্য জাতীয় খাদ্য প্রতিদিনের তালিকাতে থাকতে হবে।
iii. প্রতিদিন উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় উৎস থেকেই প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। দিনে অন্তত একবার প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।
iv. শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য দিতে হবে।
V. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি, রঙিন শাকসবজি ও তাজা টক জাতীয় ফল অবশ্যই থাকতে হবে।
vi. সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করতে হবে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে শম্পার স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্য গ্রহণের সুঅভ্যাস গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।
লিটু প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর বার্গার, স্যান্ডউইচ, ড্রিংকস ইত্যাদি খায়। ফাস্টফুড, সফট্ ড্রিংকস ইত্যাদি খাবারে বেশি ক্যালরি থাকে। যারা কম পরিশ্রমের কাজ করে তারা এগুলো প্রতিদিন গ্রহণ করলে সহজেই শরীরের ওজন বেড়ে যায় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন হৃদরোগ, ওজনাধিক্য, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
লিট দৈনিক ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করায় সে মোটা হয়ে যাচ্ছে। তাই তার মায়ের উচিত তাকে দৈনিক এগুলো খেতে না দিয়ে বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খাওয়ানো। তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে মায়ের ভূমিকাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মায়ের সাথেই সন্তানের সম্পর্ক সবচেয়ে নিবিড় থাকে।
তাই মায়ের উচিত লিটুকে বাইরের খাবারের কুফল বুঝিয়ে ভালো ও পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করা।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে কৈশোরকালের বয়সসীমা ১০-১৯ বছর।
খাদ্যকে শোষণ উপযোগী করে দেহের কাজে লাগাতে হলে পরিপাক প্রয়োজন।
আমরা যেসকল খাদ্য গ্রহণ করি তার অধিকাংশই বড় অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। এসব খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হয়। আর খাদ্যবস্তুকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করার কাজটি পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!