কোনো কারণে ভূগর্ভস্থ বাষ্প, গলিত ধাতব পদার্থ, উত্তপ্ত প্রস্তর খণ্ড, কর্দম, ধূম, ভস্ম ইত্যাদি যখন প্রবলবেগে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়, তখন তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে আগ্নেয়গিরিকে কতিপয় শ্রেণি ও উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন- আগ্নেয়গিরিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বিস্ফোরক, শান্ত, ফিসার। বিস্ফোরক আগ্নেয়গিরিকে আবার তিনভাগে ভাগ করা যায়-সক্রিয়, সুপ্ত (উদাহরণ: ইন্দোনেশিয়ার ব্লাদাতোয়া), মৃত (উদাহরণ: মেক্সিকোর পারকুচিন)। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই প্রকার। যথা-সবিরাম (উদাহরণ: ইতালির ভিসুভিয়াস), অবিরাম (উদাহরণ: ক্যালিফোর্নিয়ার লাসেনপিক)। শান্ত আগ্নেয়গিরি দুই প্রকার, যথা-সক্রিয়, মৃত। ফিসার আগ্নেয়গিরি দুই প্রকার; যথা- সুপ্ত (উদাহরণ: আইসল্যান্ডের লাকি), মৃত (উদাহরণ: এন্ট্রিস)।
নিচে বিশ্বমানচিত্রে বিশ্বের আগ্নেয়প্রবণ বিভিন্ন অঞ্চল চিহ্নিত করা হলো-

আগ্নেয়গিরির ফলে ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন পরিবর্তনসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়- উদ্দীপকের কথাটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি হতে নির্গত পদার্থগুলো এত বেশি হয় যে চারদিকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত স্থান উঁচু হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। আবার সমুদ্রের তলদেশে বহু আগ্নেয়গিরি আছে। এর লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এভাবে সৃষ্টি হয়েছে। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে অনেক সময় হ্রদের সৃষ্টি হয়। অনেক অন্যদিকে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বহু নিচের খনিজ পদার্থও ভূপৃষ্ঠে নিক্ষিপ্ত হয়।
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে উর্বর পলল ভূমির সৃষ্টি হতে পারে। অগভীর সমুদ্রে বা হ্রদে লাভা ও ভস্ম সঞ্চিত হয়ে এরূপ ভূভাগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা প্রবলবেগে উর্ধ্বে উঠে চারদিকে বহুদূর গিয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, শস্যক্ষেত্র প্রভৃতি ধ্বংস হয়।
Related Question
View Allযান্ত্রিক, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলারাশি চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিশ্লিষ্ট হলে তাকে বিচূর্ণীভবন বলে।
সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, নভোজাগতিক ঘটনা প্রভৃতি কারণে সুনামির সৃষ্টি হয়।
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের তলদেশের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং সমুদ্রের পানিতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যা সুনামি নামে পরিচিত। এছাড়া পাত সঞ্চালনের কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণেও সমুদ্রের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা পানি আরও ফুলে ওঠে লক্ষ লক্ষ টনের বিশাল ঢেউ তৈরি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে যা সুনামি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বিবিসি এর প্রচারিত দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প।
ভূঅভ্যন্তরে দ্রুত বিপুল শক্তি বিমুক্ত হওয়ায় পৃথিবীপৃষ্ঠে যে ঝাঁকুনি বা কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকল্প বলে। নিচে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হলো- ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূনিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলা চ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। আবার সমগ্র পৃথিবী ৭টি প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত এবং এসব প্লেট সঞ্চরণশীল। যার কারণে একটি প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের সংঘর্ষ বা ধাক্কা লাগে এবং শিলাস্তরের মধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের পূর্ব পার্শ্বে একটি প্লেট থাকায় এখানে ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়। তবে মূলত প্লেটগুলোর সঞ্চরণশীলতার কারণেই শিলাস্তরের মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে হারিস সাহেবের পরের দিন দেখা দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে ওঠে এবং বহুদূরে লাভার ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম ইত্যাদি ধ্বংস করে। এর দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে নিকটবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকের নিমেষে প্রাণহানি হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত লাভা, ভস্ম ও ধূলিকণা আকাশের উপরের দিকে স্ট্রাটোমণ্ডলে ওঠে যায় এবং তা দ্রুত পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠে আবার যেসব আগ্নেয়গিরি উঁচু পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত সেসব পর্বত বরফে ঢাকা থাকলে অগ্ন্যুৎপাতের সময় তা গলে পাদদেশীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করে ও জীবনহানি ঘটে এবং বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপটিও অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ শুধু তাই নয়, এর ফলে মালভূমিও সৃষ্টি হয়। লাভার সাথে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ ভূপৃষ্ঠে ওঠে আসে। ফলে উক্ত এলাকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।
ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা, বাষ্প, ভস্ম, গ্যাস, ধূম্র প্রভৃতি পদার্থ ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা ছিদ্রপথের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হলে তা জমাট বেঁধে যে পদার্থ বা গিরির সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সৃষ্টিকারী শক্তিসমূহের মধ্যে ধীর পরিবর্তন অন্যতম। ধীরগতির শক্তিসমূহের ভূমিরূপের পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ব্যাপি সংঘটিত হয়। ধীর গতির শক্তিসমূহ প্রধানত প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে কাজ করে। ধীরগতির শক্তিসমূহ চারটি প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয় যেমন-
১. বিচূর্ণীভবন,
২. অপসারণ,
৩. নগ্নীভবন ও
৪. অবক্ষেপণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!