বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভূ-বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে পৃথিবীর ভাপ, চাপ এবং গঠন উপাদানের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এ সব তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁরা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অঞ্চলকে তিনটি মণ্ডলে ভাগ করেন। যথা (i) ক মণ্ডল (ii) শ মণ্ডল (iii) গ মণ্ডল।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে ভাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে যে ভূমি রূপের সৃষ্টি হয়, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। পাত সঞ্চালনের (Plate Tectonics) কারণে মূলত এই ধরনের পর্বত সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তি, বিশেষ করে ভূত্বকের প্লেটসমূহের সংঘর্ষ বা বিচ্যুতির কারণে শিলাস্তরে চাপ ও টান সৃষ্টি হয়। এই চাপ ও টানের ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে বা ফাটল ধরে, যা কালক্রমে উঁচু হয়ে পর্বতের রূপ ধারণ করে। যেমন - হিমালয়, রকি ও আন্দিজ পর্বতমালা।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তিনটি মণ্ডলের মধ্যে 'গ মণ্ডল' হলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত তৃতীয় বা গভীরতম স্তর। ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, এই মণ্ডলে পৃথিবীর তাপমাত্রা, চাপ এবং গঠন উপাদানের ঘনত্ব ভূ-পৃষ্ঠের অন্যান্য মণ্ডলের তুলনায় সর্বোচ্চ, যা উদ্দীপকের তথ্যকে সমর্থন করে।

এই 'গ মণ্ডল' পৃথিবীর কেন্দ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর গভীরতা প্রায় ২৯০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি পর্যন্ত। এটি মূলত নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe) নামক ভারী উপাদান দ্বারা গঠিত বলে একে নিফে (Nife) স্তরও বলা হয়। 'গ মণ্ডল'-এর তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস এবং চাপ প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমান। এই মণ্ডলটি দুটি অংশে বিভক্ত: তরল বহিঃকেন্দ্র এবং কঠিন অন্তঃকেন্দ্র।

জোয়ার ভাটা হলো চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের প্রভাবে সমুদ্র ও নদীর জলরাশির পর্যায়ক্রমিক উত্থান ও পতন। চাঁদের আকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর যে অংশে জলরাশি স্ফীত হয়ে উপরে ওঠে, তাকে জোয়ার বলে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে জলস্তর নেমে গেলে তাকে ভাটা বলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ভূ-বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যানুসারে, ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে পৃথিবীর তাপমাত্রা, চাপ এবং গঠন উপাদানের ঘনত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা পৃথিবীকে পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রধানত তিনটি মণ্ডলে ভাগ করেছেন, যা ক মণ্ডল, শ মণ্ডল এবং গ মণ্ডল হিসেবে নির্দেশিত।

প্রশ্নানুসারে ক ও খ মণ্ডলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। যেহেতু উদ্দীপকে 'খ মণ্ডল' হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট স্তর উল্লিখিত হয়নি এবং সাধারণত ভূত্বকের পরবর্তী স্তর হিসেবে 'শ মণ্ডল' নির্দেশিত, তাই আমরা ধরে নিচ্ছি যে 'খ মণ্ডল' বলতে উদ্দীপকের 'শ মণ্ডল'কে বোঝানো হয়েছে। এই ধারণার ভিত্তিতে ক মণ্ডল (ভূত্বক) এবং শ মণ্ডল (গুরুমণ্ডল)-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

ক মণ্ডল (ভূত্বক): এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের এবং পাতলা কঠিন স্তর। এর গড় গভীরতা প্রায় ১৭ কিমি। মহাদেশীয় ভূত্বক ৩৫-৭০ কিমি পর্যন্ত গভীর হতে পারে, যা মূলত গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত এবং এর প্রধান উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) হওয়ায় একে সিয়াল (SIAL) বলা হয়। অন্যদিকে, মহাসাগরীয় ভূত্বক ৫-১০ কিমি গভীর, যা মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। ভূত্বকের ঘনত্ব সবচেয়ে কম, প্রায় ২.৭ গ্রাম/ঘনসেমি। এই স্তরে তাপমাত্রা ও চাপ তুলনামূলকভাবে কম। পৃথিবীর সমগ্র আয়তনের মাত্র ০.৫% হলো ভূত্বক।

শ মণ্ডল (গুরুমণ্ডল): এটি ভূত্বকের নিচে অবস্থিত এবং পৃথিবীর আয়তনের প্রায় ৮৪% জুড়ে বিস্তৃত। এর গভীরতা ভূত্বকের নিচ থেকে প্রায় ২৯০০ কিমি পর্যন্ত। গুরুমণ্ডল প্রধানত সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) সমৃদ্ধ হওয়ায় একে সিমা (SIMA) বলা হয় এবং এটি পেরিডোটাইট ও ডুনিট জাতীয় অতি ভারী ও কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত। ভূত্বকের চেয়ে গুরুমণ্ডলের ঘনত্ব অনেক বেশি, যা ৩.৩ থেকে ৫.৭ গ্রাম/ঘনসেমি পর্যন্ত হতে পারে। এই স্তরে তাপমাত্রা ও চাপ ভূত্বকের চেয়ে অনেক বেশি এবং গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তা ক্রমশ বাড়ে (যেমন, নিম্ন গুরুমণ্ডলে তাপমাত্রা ৪০০০°C পর্যন্ত হতে পারে)। গুরুমণ্ডলের উপরিভাগ (অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার) কঠিন হলেও তাপের প্রভাবে সান্দ্র বা প্লাস্টিক অবস্থায় থাকে, যা পরিচলন স্রোত সৃষ্টিতে সাহায্য করে এবং টেকটোনিক প্লেটের চলাচলের জন্য দায়ী।

উপসংহারে বলা যায়, ক মণ্ডল (ভূত্বক) ও শ মণ্ডল (গুরুমণ্ডল) পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনের দুটি ভিন্ন স্তর, যা তাদের গভীরতা, পুরুত্ব, উপাদান, ঘনত্ব, তাপমাত্রা এবং চাপের দিক থেকে একে অপরের থেকে সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন। উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে ঘনত্ব, চাপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুটি মণ্ডলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ক মণ্ডল যেখানে পাতলা, হালকা এবং অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের স্তর, সেখানে শ মণ্ডল অনেক পুরু, ভারী এবং উচ্চ ঘনত্ব, চাপ ও তাপমাত্রার স্তর।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
361

Related Question

View All
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। সাধারণত নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে, তাকেই বায়ুর আর্দ্রতা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
Satt AI
Satt AI
3 days ago
659
উত্তরঃ

জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর এবং এখানেই বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০% গ্যাসীয় পদার্থ বিদ্যমান। এই স্তরে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাসগুলো রয়েছে যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহসহ সকল আবহাওয়ার ঘটনা ট্রপোমণ্ডলেই ঘটে, যা জীবের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য অত্যাবশ্যক।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews