কীর্তিপাশার জমিদার দেবী রায় চৌধুরী খুবই রুচিবান ও শৌখিন মানুষ ছিলেন। তিনি জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি জাঁকজমকপূর্ণ দরবার হল নির্মাণ করেছিলেন। পাশাপাশি তার নির্মিত কাচারি বাড়ি, নায়েব মহল আজও স্ব-মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। একই সময়ে নির্মিত নাট মন্দিরটি এখনও ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। তার স্ত্রী কৃষ্ণ কুমারী দেবী অনিন্দ্য সুন্দরী ও বিদূষী রমণী ছিলেন। জমিদার দেবী রায় চৌধুরীর স্ত্রীর প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় পড়ে কৃষ্ণ কুমারী অকালে মৃত্যুবরণ করলে জমিদার খুবই মুষড়ে পড়েছিলেন। তিনি স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে বহু অর্থ ব্যয়ে সৌধটি নির্মাণ করেন, আজও তা বিদ্যমান রয়েছে।

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ

শেরশাহের বাল্য নাম ফরিদ।

উত্তরঃ

শৈশবকালে সম্রাট আকবরের অভিভাবক ছিলেন বৈরাম খান। 'তিনি রাজকার্যে সর্বতোভাবে সম্রাট আকবরকে সহায়তা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আকবরের শাসনামলেই বৈরাম খান, বিদ্রোহী হয়ে উঠেন। ফলে সম্রাটের সাথে বৈরাম খানের দূরত্ব তৈরি হয়। সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উস্কে দেওয়ার অপরাধ থেকে আকবর বৈরাম খানকে নিষ্কৃতি দিয়ে মক্কায় হজব্রত পালনের জন্য পাঠান। মক্কা গমনের পথেই বৈরাম খান নিহত হন। ফলে বৈরাম খানের চূড়ান্ত পতন ঘটে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের শাসক শেরশাহের সাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি দক্ষতা ও মেধা খাটিয়ে সামান্য অবস্থা থেকে শাসনক্ষমতার স্বর্ণ শিখরে উপনীত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শেরশাহ অন্যতম। তিনি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনের ছেদ ঘটিয়ে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। শেরশাহের বাল্য নাম ছিল ফরিদ। ফরিদ বিমাতার চক্রান্তে গৃহছ্যাড়া হন। কিন্তু অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ফরিদের নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি চৌসার যুদ্ধে হুমায়ূনকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। শেরশাহ সিংহাসনে বসেই রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। একে একে তিনি পাঞ্জাব, সিন্ধু, মুলতান প্রভৃতি রাজাভুক্ত করেন। শেরশাহ আজমীর থেকে আবু পর্বত পর্যন্ত সমগ্র ভূতাগ নিজ অধিকারে আনেন। কালিঞ্জর দুর্গ ছিল শেরশাহের শেষ অভিযান। এটিও তিনি জয় করেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের হাদীদ পাঠ্যবইয়ের শেরশাহের সাথেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে শেরশাহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ভারতবর্ষে সর্বাধিক খ্যাতিমান শাসক ছিলেন শেরশাহ। তিনি ভূমি জরিপের মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করেন। কবুলিয়ত ও পাট্টা একটি গভীর যোগসূত্র তৈরি হয়। ফলে সরকার কৃষি রাজস্ব থেকে কখনো বদ্যিত হয়নি। শুল্ক ও মুদ্রানীতিও সম্রাটের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ছিল। তিনি ভারতবর্ষে তজ্ঞা (টাকা) ও রূপাইয়ার প্রচলন করেন।
সামরিক সংস্কারের মধ্যে তার অশ্ব চিহ্নিতকরণ নীতি ছিল অন্যতম। তিনি প্রায় দেড় লাখ অশ্বারোহী ও অর্ধলক্ষ পদাতিক ও গোলন্দাজ

বাহিনী নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। শেরশাহ পুলিশ ও গুপ্তচর বাবস্থা প্রবর্তনের মাধমে সাম্রাজের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের বিদ্রোহী মনোভস বুঝতে সমর্থ হতেন।
বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করে তিনি সব নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমানাধিক প্রদান করেন। জনগণের যোগাযোগ বাবস্থার উন্নয়নের জন্য গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড নির্মাণ করেন। রাস্তার পাশে অসংখ্য সরাইখানা নির্মাণ করেন। তিনিই প্রথম অরতবর্ষে জাক বাবস্থার প্রতিষ্ঠা করেন উপরিউক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে বলা যায়, শেরশাহ মাত্র পাঁচ বছরের শাসনামলে ব্যাপক সংস্কার কার্য সাধন করেন। যার ফলে মূলত সংস্কার কাজের জন্য তিনি আজও ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন

168
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

330
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

633
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

377
উত্তরঃ

ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।

824
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews