বিরু হলো মনা কৈবর্তের ছোট ভাই। তার মাত্র এগারো বছর বয়স। মনার বিচারের জন্য এজাজ তাদের দুই ভাইকে তেঁতুল গাছের নিচে আনেন। তখন বিরু মেজর এজাজ ও তার বাহিনীকে দেখেই ভয় পেয়ে যায়। এ কারণেই সে মনার লুঙ্গির এক প্রান্ত শক্ত করে ধরে থাকে। এরপর যখন মেজর এজাজ এগিয়ে আসেন মনার দিকে তখন বিরু ভয় পেয়ে শক্ত হয়ে যায়। মেজর সাহেব তার দিকে তাকাতেই সে কুঁকড়ে যায়। তার চোখে-মুখে ভয়ের ছায়া পড়ে যায়। তার শিশুমন হয়তো অনেক কিছুই আগে থেকে বুঝতে পেরেছে। কারণ শিশুরা অনেক কিছুই বুঝতে পারে। মেজর এজাজ তাকে মনার লুঙ্গি ছাড়তে বললেও সে লুঙ্গি ছেড়ে দেয় না। বরং আরও গা ঘেঁষে দাঁড়ায় মনার। অতঃপর এজাজ তাদের দুজনকে হত্যার জন্য বিলের পানিতে নামিয়ে দেন। বিরু চিৎকার করে বলতে থাকে তার ভয় লাগছে। সে প্রাণপণে তার ভাইকে ধরে থাকে। তাই বলা যায় শিশুমনের অতিরিক্ত ভীতির কারণে বিরু তার ভাইয়ের লুঙ্গি ধরে টানাটানি করছিল।
Related Question
View All"রাগ, ঘৃণা, হিংসা আমাদের মধ্যেও আছে, তোমাদের মধ্যেও আছে।"- মেজর এজাজের এই উক্তিটি সম্পর্কে আমি দ্বিমত পোষণ করছি।
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো '১৯৭১'। এই উপন্যাসে লেখক নীলগঞ্জ নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামের যুদ্ধকালীন চিত্র তুলে ধরেছেন। উপন্যাসের কাহিনি বিন্যাসে দেখা যায়, পাকস্তিানি মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজ নীলগঞ্জ গ্রামে মুক্তিবাহিনী লুকিয়ে আছে সন্দেহ করে তার সৈন্যদল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন। গ্রামে আসার পরই তিনি সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। আর উপন্যাসে দেখা যায়, প্রসঙ্গক্রমে রফিকের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এখানে যে যুদ্ধের পটভূমি বর্ণিত হয়েছে সেটাকে কোনো যুদ্ধ বলা যায় না। কেননা যুদ্ধ হয় দুই পক্ষের মধ্যে। কিন্তু এই উপন্যাসে আমরা এজাজের বাহিনী ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষকে দেখতে পাই না। এটি মূলত একপক্ষীয় ও সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে জোর করে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ঘোষণা করা একটি অন্যায় যুদ্ধ।
দ্বিতীয়ত, মেজর এজাজ শুধু ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে করা তার অত্যাচার-নির্যাতনকে বৈধতা দিতে চেয়েছেন বিভিন্নভাবে। কখনো এই যুদ্ধকে বলেছেন সারভাইভালের প্রশ্ন, আবার কখনো তার নৃশংসতাকে বলেছেন বীরত্ব।
তিনি তুলনা দিয়ে রফিককে বোঝাতে চেয়েছেন যে তার স্থানে অন্য কোনো বাঙালি সেনা থাকলেও সে একই কাজটি করত। কিন্তু এখানে প্রশ্ন জাগে, তাহলে তার মানবতা কোথায়? তার বিবেকের জায়গাটা কোথায়? নাকি আমরা ধরেই নেব যে যুদ্ধের ময়দানে মানবতা, বিবেকসম্পন্ন মানবিক গুণাবলির স্থান থাকে না? মেজর এজাজের সব যুক্তি, অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টার বিপক্ষে এই প্রশ্নগুলো ছুড়ে দিলেই আমরা দেখতে পাই রাগ, ঘৃণা, হিংসা পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে থাকলেও এই সহজাত প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে করা সব কাজই সঠিক কিংবা বৈধ হয়ে যায় না। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত মেজর এজাজের উক্তিটি শুধু সুশীলতার মুখোশ পরে-আওড়ানো বুলি ছাড়া অন্য কিছুই নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!