সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে আমরা যেসব কর্ম সম্পাদন করি সেগুলোই হলো নিত্যকর্ম।
ভুজঙ্গ' শব্দের অর্থ সাপ। এ আসনে অবস্থানকালে কোমর থেকে দেহের ওপরের অংশকে ওপরে তুলতে হয়। এ সময় এ আসন অভ্যাসকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায়। তাই এ আসনের নাম ভুজঙ্গাসন। একে সর্পাসনও বলা হয়।
বিলাস যে আসনটি অনুশীলনে অভ্যস্ত সেটি হলো বজ্রাসন। যোগশাস্ত্রমতে আসনটি অভ্যাসে দেহের নিম্নভাগের স্নায়ু ও পেশি বজ্রের মতো কঠিন, মজবুত ও দৃঢ় হয়। তাই আসনটির নাম বজ্রাসন। এটি খাওয়ার পরে করা একমাত্র আসন। উদ্দীপকের বিলাস খাওয়ার পর যে আসনটি অনুশীলন করে সেটি তাই বজ্রাসনকেই নির্দেশ করছে। বজ্রাসন করার সময় হাঁটু ভেঙ্গে পা-দুটো পেছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং দুই পায়ের গোড়ালি নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু পায়ের বুড়ো আঙ্গুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রিবা ও মাথা সোজা থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙ্গে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর ওপর, আর বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর ওপর। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার অভ্যাস করতে হবে।
বিলাসের অনুশীলনকৃত আসনটি হলো বজ্রাসন এবং আমাদের জীবনে এ আসনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। যোগাসন অনুশীলনে আমাদের শরীর ও মন দুই-ই সুস্থ থাকে। উদ্দীপকের বিলাস খাওয়ার পর যে আসনটি অনুশীলন করে সেটি বজ্রাসনকেই নির্দেশ করে। এ
আসনটি অনুশীলনের প্রভাব নিচে দেওয়া হলো-
১. হাঁটু ও গোড়ালির গাঁটের বাতজনিত ব্যথা দূর হয়;
২. পায়ের পেশি ও স্নায়ুজাল সতেজ ও সক্রিয় হয়;
৩. ক্ষুধামন্দা ও অনিদ্রা দূর হয়;
৪. মনের চঞ্চলতা দূর হয়;
৫. স্বাস্থ্য সুন্দর ও লাবণ্যময় হয়;
৬. পরিপূর্ণ আহারের পর এ আসনটি ৫ থেকে ১৫ মিনিট অভ্যাস করলে খাদ্যবস্তু সহজে হজম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়;
৭. ব্রজাসনে বসে চুল আঁচড়ালে সহজে চুল পাকে না বা পড়ে না।
তাই বলা যায়, বিলাসের অনুশীলনকৃত আসনটি প্রভাব অপরিসীম।
Related Question
View Allগোমুখাসন অনুশীলনে অসমান কাঁধ সমান হয়।
বিনম্রতার প্রতীক হচ্ছে নমস্কার। প্রতিদিন গুরুজনকে নমস্কার করলে তাঁদের প্রতি কখনো খারাপ ব্যবহার, অসম্মান বা অমর্যাদা করার সাহস হয় না। যেখানে শ্রদ্ধাভক্তি ও সম্মানের ভাব থাকে সেখানেই বিনম্রতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য পিতামাতা, বিদ্বান, বয়োবৃদ্ধ ও গুরুজনদেরকে নিত্য নমস্কার করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তী খাওয়ার পরে বজ্রাসন অনুশীলন করছে। কেননা এটিই একমাত্র আসন যা খাওয়ার পর অনুশীলন করা যায়। বজ্রাসন অনুশীলনে হাঁটু ভেঙে পা দুটো পিছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং পায়ের পাতা নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু-পায়ের বুড়ো আঙুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রীবা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর উপর পাতা এবং বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর উপর পাতা। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে। এভাবেই প্রাপ্তী তার আসনটি অনুশীলন করে থাকে।
স্বপ্নার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো ভুজঙ্গাসন। নিচে এ আসনের প্রভাব তুলে ধরা হলো- ১. মেরুদণ্ড নমনীয় হয়; ২. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা ও সরল হয়; ৩. মেরুদণ্ডের বাত সারে; ৪. পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়, কোমরে ব্যথা হতে পারে না; ৫. স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়; ৬. শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়; ৭. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। ৮. বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়; ৯. যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে; ১০. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়; ১১. যারা কোলকুঁজো তাদের বিশের উপকার হয়।
ভুজঙ্গাসন অনুসরণ ও অনুশীলনে স্বপ্নার কোলকুঁজো ভাব ও বাতের ব্যথা সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এর পাশাপাশি তার অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসন অনুশীলনকালে আসন অনুশীলনকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায় তাকে ভুজঙ্গাসন বলে।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'- কথাটি দ্বারা বোঝায় সময়ের কাজ সময়ে করার প্রয়োজনীয়তাকে। নিত্যকর্ম অনুশীলন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। যারা নিত্যকর্ম যথাসময়ে সম্পাদন করতে পারেন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না সময়মতো কোনো কাজ না করে অসময়ে করতে গেলে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টি বুঝাতেই প্রশ্নের কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!