কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে প্রাদেশিক বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে।
ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করে গড়ে তোলা এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় সর্বদিক হতে অবহেলিত ও বঞ্চিত হতে থাকে। ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হলেও এটি অবহেলিত ও বঞ্চিত মুসলমানদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে ব্যর্থ হয়। মুসলমানদের এ অবহেলিত ও হীন অবস্থা হতে উদ্ধারকল্পে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিশেষ প্রয়োজন অনুভূত হয়। এ অনুভূতির সার্থক ব্যস্তবায়নের লক্ষ্যে মুসলিম স্বার্থ সংরক্ষণের ধারক ও বাহক হিসেবে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।
১৯০৫ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে বঙ্গ প্রদেশেই ছিল আয়তনে এবং জনসংখ্যায় সর্বাপেক্ষা বৃহৎ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল, এবং লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ। একজন গভর্নরের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা ছিল খুবই কষ্টকর। তাই এ প্রদেশকে ভেঙে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, যা উদ্দীপকেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব ইসমাইল তার অধীনে বিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অঞ্চলটিকে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলে বিভক্ত করে। এতে 'ক' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও 'খ' অন্যলের জনগণ তীব্র বিরোধিতা করে। এ ঘটনা মূলত বঙ্গভঙ্গকেই নির্দেশ করে। বৃহৎ আয়তন ও বিশাল জনসংখ্যার বক্তা প্রদেশকে একজন ব্রিটিশ শাসকের পক্ষে শাসন করা দূরহ ছিল। তাই ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাভকা পরিকল্পনা অনুযায়ী 'পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে' একটি প্রদেশ এবং পশ্চিম বাংলা' নামে অন্য একটি প্রদেশ গঠিত হয়। বঙ্গ প্রদেশকে দুই প্রদেশে বিভক্ত করার কারণে মুসলমানরা খুশি হলেও ভারতীয় কংগ্রেসের হিন্দু নেতৃবৃন্দ অনেক অসন্তুষ্ট হয়। বাভকাকে রদ করার জন্য হিন্দুরা আন্দোলন শুরু করে। এর এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বক্তাভঙ্গ রদ করে। আর উদ্দীপকেও এ ঘটনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ অর্থাৎ বক্তাভজা 'ক' অঞ্চলের তথা পূর্ব বাংলার জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
উদ্দীপকের বিশাল অঞ্চলের বিভক্তিকরণ ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গকে নির্দেশ করে। আর 'ক' অঞ্চল দিয়ে পূর্ব বাংলাকে বোঝানো হয়েছে। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার জনজীবনে যে প্রভাব পড়েছিল উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জনগণের জীবনেও একই ধরনের প্রভাব পড়বে।
পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট বঙ্গভঙ্গ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। এর ফলে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের মুসলিম সমাজের রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নতুন প্রদেশের প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় নতুন প্রাণশক্তি ও উদ্দীপনা দেখা যায়। বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হওয়ার ফলে ঢাকা পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। বঙ্গভঙ্গের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় নতুন নতুন সুরম্য অট্রালিকা, হাইকোর্ট, সেক্রেটেরিয়েট, আইন পরিষদ ভবন, কার্জন হল প্রভৃতি নির্মিত হতে থাকে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও অগ্রগতি অর্জিত হয়। এছাড়া ঢাকা নগরের পুনর্জন্ম ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। পূর্ব বাংলায় রেল লাইনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। লর্ড কার্জন স্বয়ং আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রদেশ উন্নত কৃষ্টি ও ঐতিহ্য বলে বলীয়ান হয়ে পূর্ববা শাসনব্যবস্থায় যোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববলোর জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণও 'ক' অঞ্চলের জনজীবনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
Related Question
View Allমন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ৩ জন।
বঙ্গভঙ্গ বলতে ১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ২ ভাগে বিভক্ত করাকে বোঝায়।
প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল আয়তনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম এবং বাংলা প্রদেশ নামে ২টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
উদ্দীপকে প্রণীত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভারতবর্ষের জনগণ ব্রিটিশ শাসনের এক পর্যায়ে তাদের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে গণআন্দোলন শুরু করে। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের পরস্পর বিরোধী দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার মহাসমস্যায় পড়ে। ভারতের এই রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্যে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এটি কার্যকর করার লক্ষ্যে ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি একটি বিল উত্থাপন করেন। এ বিলে ব্রিটিশ ভারতে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই বিলটি রাজকীয় সম্মতির মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। এটিই ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত।
উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রের জনগণ ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে চলেছে। তাদের গণআন্দোলনে বাধ্য হয়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। শাসকগোষ্ঠীর প্রণীত নতুন আইন অনুযায়ী জন্ম হয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। এ আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন অর্থাৎ ১৯৪৭সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়। এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূরীভূত হয়।
দীর্ঘ আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন কর হয়। এজন্য এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দলিল। উক্ত আইন প্রণয়নের ফলে এ উপমহাদেশে রক্তপাতহীন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াই স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রেরণা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের জনগণ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে।
দ্বিজাতি তত্ত্ব' হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কাউন্সিলে সভাপতির ভাষণে মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন। তার মতে, হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক রীতি, জীবন পরিচালনা, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে দুটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং জাতীয়তার মানদণ্ডে তারা পৃথক দুটি জাতি। তার এই মতবাদটি 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!