কমানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো। মানুষ মাটিকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। মাটির উপর জম্মানো গাছপালা, পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে ওঠে। পানি, বাতাস ও তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়। অতএব বলা যায়, প্রকৃতির মূল উপাদানসমূহ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
মনির হোসেনের ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি পরিবেশ দূষণ তথা শব্দদূষণের সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন কারণে পরিবেশে শব্দদূষণের সৃষ্টি হয়। যেমন- উচ্চ স্বরে মাইক বাজানো, লাউড স্পিকারে গান শোনা, অযথা গাড়ির হর্ন বাজানো ইত্যাদির মাধ্যমে শব্দদূষণের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া শব্দদূষণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। উচ্চ রক্তচাপ, কানে কম শোনা, খিটখিটে স্বভাব শব্দদূষণের প্রত্যক্ষ ফলাফল।
উদ্দীপকে মনির হোসেনের ছেলেমেয়েরা বিনোদনের জন্য উচ্চ আওয়াজে গান শোনে। এতে শব্দদূষণ ঘটে। শব্দদূষণ যেমন তাদের নিজেদের ক্ষতি করছে, তেমনি শব্দদূষণের ফলে আশপাশের প্রতিবেশীদেরও অসুবিধা হচ্ছে। অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে তাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া মনির হোসেন তার ফ্ল্যাটে অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ব্যবহার করেন। জেনারেটরের ব্যবহারে কালো ধোঁয়া বের হয় এবং এর রয়েছে অতিরিক্ত আওয়াজ, যা শব্দদূষণের জন্য দায়ী।
অতএব বলা যায়, মনির হোসেনের ছেলেমেয়েদের উচ্চ স্বরে গান গোনা ও অনারেটর ব্যবহার শব্দদূষণ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে জেনারেটরের কালো ধোঁয়া পরিবেশের ক্ষতি করছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা অর্থাৎ শব্দদূষণ হতে উত্তরণে আমার অনেক দায়িত্ব আছে বলে মনে করি।
শব্দদূষণ রোধের জন্য আমরা নিজের অবস্থান থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে পারি। আমরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিশিক্ষকের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে শব্দদূষণের কারণসমূহ জেনে নেব এবং কোন কোন মাধ্যমে শব্দদূষণ বেশি হয়, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেব। শব্দদূষণের ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয় তা জেনে নেব। সহপাঠীদের সাথে শব্দদূষণের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করব। যেসব কারণে শব্দদূষণ হয়, তা সবাইকে জানাব এবং সে বিষয়ে যতটুকু সম্ভব সবাইকে সচেতন করব। পরিবারের সদস্যদের শব্দদূষণের অপকারিতা সম্পর্কে জানাব। রাস্তার যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে যেমন- স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতের পাশের রাস্তায় দেয়ালে শিক্ষকের সহায়তায় শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এটা রোধকল্পে বিভিন্ন লিফলেট লাগাব। অযথা মাইক বাজিয়ে মানুষের শান্তি নষ্ট করব না। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার ও অফিস এলাকায় শব্দদূষণ করব না। সম্ভব হলে শিক্ষকের সহায়তায় শ্রেণিতে শব্দদূষণের ও পরিবেশ দূষণের কারণ, ফলাফল ও প্রতিকার নিয়ে একটি নাটিকার আয়োজন করব। এভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বা শব্দদূষণ রোধে দায়িত্ব পালন করতে ব্লিচেন্ট হর।
Related Question
View Allআলো ও তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য।
মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। বুদ্ধি খাটিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করছে। পানির শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় বড় কলকারখানা চালাচ্ছে, শহর গড়ছে, গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বানিয়ে নিজেদের আরাম বাড়িয়েছে। এভাবে ক্রমেই মানুষ তার প্রয়োজনমতো প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বাড়িয়েছে।
চিত্রে পরিবেশগত সমস্যা তথা পরিবেশ দূষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আমরা জীবনের জন্য পানি পান করি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। এ দুটি উপাদান দূষিত হওয়ার কারণে মানুষ বিভিন্ন রোগবালাইয়ে ভুগছে এবং অকালে মৃত্যুবরণ করছে। ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াতে হয়। যার ফলে গড়ে উঠেছে অনেক কলকারখানা। এসব কলকারখানার বেশির ভাগ গড়ে ওঠে নদীর উপকূলে। ফলে এর দূষিত বর্জ্য পানিতে মিশে নদীর পানি দূষিত করে। অপরদিকে কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এভাবে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন একটি দেশের পানি ও বায়ু দূষিত করে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ করছে। এতে কারখানার বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। দৃশ্যমান চিত্রে পানি ও বায়ু এ দুটি মৌলিক উপাদান দূষিত হচ্ছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ থেকে উত্তরণের জন্য আমার মতো অনেক শিশুর বেশকিছু করণীয় আছে বলে মনে করি।
পরিবেশ আমাদের সবার। তাই এর যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা হতে সচেতন হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন আমরা অযথা গাছ কাটব না। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করব না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না। বাড়ির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলব। কোনো জলাধারে নোংরা ফেলব না। গাছ লাগাব ও গাছের যত্ন নেব। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। মানুষের সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কারণগুলো জানব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হব। নিজের খাবার, পোশাক ও. অন্যান্য জিনিস নির্বাচন ও ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্যের কথা বিবেচনা করব। যেসব গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়ে, সেগুলো বন্ধ করতে শিক্ষক ও বড়দের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেব।
অতএব বলা যায়, আমি বা আমার মতো শিশুর উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো নিজ অবস্থান হতে গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখব।
কমানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো। মানুষ মাটিকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। মাটির উপর জম্মানো গাছপালা, পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে ওঠে। পানি, বাতাস ও তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়। অতএব বলা যায়, প্রকৃতির মূল উপাদানসমূহ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
