বিশেষত, তাহার মা তাহাকে নিজের একটা ত্রুটিম্বরূপ দেখিতেন; কেননা মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন- কন্যার কোনো অসম্পূর্ণতা দেখিলে সেটা যেন বিশেষরূপে নিজের লজ্জার কারণ বলিয়া মনে করেন। বরঞ্জ কন্যার পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে তাঁহার অন্য মেয়েদের অপেক্ষা যেন একটু বেশি ভালোবাসিতেন; কিন্তু মাতা তাহাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করিয়া তাহার প্রতি বড়ো বিরক্ত ছিলেন।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

'জিউ' শব্দের অর্থ আয়ু, জীবিত থাকা।

উত্তরঃ

"দোসর-জনম দিলা তিহ সে আহ্মার।" বলতে শিক্ষকের শিক্ষাদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মধ্যযুগীয় পরিমণ্ডলে রচিত 'বন্দনা' কবিতায় কবি মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠায় শিক্ষকের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। তৎকালীন সমাজে অধিকাংশ মানুষ ছিল অক্ষরজ্ঞানহীন। একমাত্র গুরু বা ওস্তাদের হাত ধরেই শিক্ষার আলোয় পৌঁছানো যেত। অন্ধকার জীবন থেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাকে কবি 'দ্বিতীয় জন্ম' বলে অভিহিত করেছেন। আর এই জীবনের কর্ণধার গুরু তথা শিক্ষকের হাত ধরেই মানুষ 'দ্বিতীয় জন্ম' লাভ করে। তাই কবি শিক্ষককে দ্বিতীয় জীবনদাতা বলে উল্লেখ করেছেন।

উত্তরঃ

সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহ-মমতা ও কল্যাণদৃষ্টির দিক থেকে উদ্দীপকের মায়ের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতার মায়ের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

মানবজীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম। মা শিশুকে কোলে-পিঠে করে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তবে এর বিপরীত দিকটিও মানবসমাজে দৃশ্যমান। অনেক সময় দেখা যায় মা সন্তানের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে।

'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। মায়ের স্নেহ-মমতার তুলনা নেই। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবন-পথের পাথেয়স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে দেখা যায় ভিন্ন রূপ। উদ্দীপকের মা তার সন্তানকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখেন। কন্যার অসম্পূর্ণতাকে মা নিজের লজ্জার কারণ হিসেবে নিয়ে সন্তানের প্রতি বিরক্ত ছিলেন। কন্যাকে তিনি নিজের গর্ভের অভিশাপ মনে করেন। এভাবে উদ্দীপকের মায়ের ভাবনা 'বন্দনা' কবিতার মায়ের ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি যেন 'বন্দনা' কবিতার মূলভাবের বিপরীত চিত্র ধারণ করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সন্তানের প্রতি পিতামাতার স্নেহ-মমতার বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ। তবে এর বিপরীত চিত্রও দৃশ্যমান। নিজ সন্তানের প্রতি কর্তব্যপালনে অনীহা একটি শিশুর জীবনকে বিপর্যস্ত করে ফেলতে পারে।

'বন্দনা' কবিতায় কবি মানবজীবনে মা-বাবার গুরুত্ব ও অবদান স্বীকার করেছেন। পিতা-মাতার দেহ থেকেই সন্তানের উদ্ভব। নবজাতক অবস্থায় শিশুকে সম্পূর্ণরূপে পিতা-মাতার অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হয়। মা পরম যত্নভরে সন্তানের প্রতি তার প্রতিটি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছিলেন বলেই কবি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পেরেছেন বলে স্বীকার করেছেন। উদ্দীপকে 'বন্দনা' কবিতার মায়ের ঠিক বিপরীত চরিত্রের মাকে পাওয়া যায়। কন্যার শারীরিক অসম্পূর্ণতা নিয়ে উদ্দীপকের মা খুবই বিরক্ত। তিনি তার সন্তানকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখেন।

উদ্দীপকের মায়ের মাঝে মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিপরীত আচরণ দৃশ্যমান হয়েছে। অন্যদিকে 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের স্নেহ-মমতা ও কল্যাণদৃষ্টিকে তুলে ধরেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়েই কবি পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কবি অকপটে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

58

দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র ।

যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥

পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত ।

কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত ॥

অশক্য আছিলঁ মুই দুর্বল ছাবাল ।

তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল ॥

না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ ।

কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ ॥

পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন।

কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন ॥

ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড় ।

দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আহ্মার ॥

আহ্মা পুরবাসী আছ জথ পৌরজন ।

ইষ্ট মিত্ৰ আদি জথ সভাসদগণ ।

তান সভান পদে মোহার বহুল ভকতি ।

সপুটে প্রণাম মোহার মনোরথ গতি ॥

মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার ৷

সভানক পদে দোয়া মাগোঁ বার বার ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'বন্দনা' কবিতায় পিতার চেয়েও ওস্তাদ/শিক্ষককে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে।

451
উত্তরঃ

'দোসর জন্ম' বলতে কবি শিক্ষকের হাত ধরে আলোকিত জীবনের স্পর্শ পাওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

জন্মগত দিক থেকে মানুষ অন্য সকল প্রাণীর মতোই প্রাণিত্বের ধারক। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ ন্যায়বোধ, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধাবোধের সংস্পর্শে এসে মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত হতে পারে। শিক্ষকের কল্যাণে মানুষ নৈতিক-সামাজিক ও মানবীয় গুণাবলি অর্জন করতে সক্ষম হয়। শিক্ষকের শিক্ষায় প্রাণিত্বের অন্ধকারত্ব থেকে মনুষ্যত্বের আলোয় আলোকিত জীবনের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টিকে কবি 'দোসর জন্ম' বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা সেই আলোকিত জীবনকেই বোঝানো হয়েছে।

516
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে 'বন্দনা' কবিতার কবির মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

মানবজীবনে মায়ের অবদান অন্য কারও তুল্য নয়। মা সন্তানকে কোলে-পিঠে করে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ প্রতিটি সন্তানের প্রধান কর্তব্য।

উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিকটি বিবৃত হয়েছে। এক রাতে তার মা পানি খেতে চাইলে ঘরে পানি না থাকায় বাইরে থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে এসে দেখেন তার মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানি হাতে বায়েজিদ সারা রাত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে মা ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করতে পারেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অপরিমেয় ত্যাগের কথা স্বীকার করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন-পরিচর্যার কথা তুলে ধরে তিনি মাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। সেই সঙ্গে কাব্য রচনার শুরুতেই মায়ের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করেছেন। এভাবে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশের দিকটি উদ্দীপকের বায়েজিদের কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

186
উত্তরঃ

"প্রকাশিত দিকটিই 'বন্দনা' কবিতার একমাত্র দিক নয়।"- 'মন্তব্যটি যথার্থ।

মানবশিশু অসহায় হয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে বাবা-মা, শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠজনদের অবদান উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি মানুষের উচিত তার জীবনে অবদান রাখা মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মা-বাবা ও শিক্ষকের অবদান স্বীকার করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রথমেই কবি মায়ের সেবাযত্ন ও পরিচর্যায় অসহায় অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর কবি বাবার ত্যাগ স্বীকার ও শিক্ষকের হাত ধরে জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিকটি বিদ্যমান। মায়ের কষ্ট লাঘব করতে সারা রাত পানি হাতে মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থেকে মাতৃভক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তা 'বন্দনা' কবিতার কবির মায়ের প্রতি-শ্রদ্ধাবোধের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে এটিই 'বন্দনা' কবিতার একমাত্র দিক নয়। এই কবিতায় কবি মায়ের পাশাপাশি বাবার ত্যাগ ও শিক্ষকের পরিশ্রমকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। এছাড়াও কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য নগরবাসী ও রাজসভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।

188
উত্তরঃ

শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের কবি।

383
উত্তরঃ

"অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল"- এখানে কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

'বন্দনা' কবিতায় কবি মায়ের স্নেহ-মমতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। শিশুর শৈশব কাটে অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে। এ সময় মায়ের আদর-যত্ন না পেলে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ ব্যাহত হয়। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে শিশু ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের এমন ত্যাগকে কবি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। মানবশিশুর অসহায় অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক মায়ের অকৃত্রিম অবদানকে স্বীকার করার জন্য কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটির যোজনা করেছেন।'

132
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews