১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল NATO প্রতিষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চুক্তি সংস্থা (SEATO) গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি করা। সিয়াটো গঠনের পর তা ন্যাটোর সাথে সংযুক্ত হয়। পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব হ্রাস করা ছিল সিয়াটো গঠনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ১৯৫৪ সালে SEATO চুক্তি সম্পাদিত হয়।
উদ্দীপকের সংস্থাসমূহের ন্যায় স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক সংস্থা মার্শাল পরিকল্পনার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক, জাইকা প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সংস্থা। এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া। এসব দেশগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, উন্নত। দেশগুলোও বিশ্বব্যাপী পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়। আর পাঠ্যবই হতে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ মার্শাল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক সভায় তার 'মার্শাল পরিকল্পনা' প্রকাশ করেন। এ পরিকল্পনায় তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য মার্কিন সাহায্যের প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাব অনুযায়ী তিনি বলেন সাহায্য গ্রহণকারী দেশগুলো একটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করে। এ সাহায্য গ্রহণ ইউরোপের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত ছিল। মার্শাল পরিকল্পনার আওতায় ইউরোপের মোট ১৬টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়। মার্শাল পরিকল্পনার ফলে একদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি বিধান এবং অন্যদিকে মার্কিন আর্থিক সহায়তায় ১৬টি ইউরোপীয় দেশ ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (OEEC) নামে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠন করে। এভাবে মার্শাল পরিকল্পনা ইউরোপীয় পুনঃজীবন ঘটাতে সফল হয়। সুতরাং উদ্দীপকের সংস্থাসমূহের ন্যায় স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক সংস্থা মার্শাল পরিকল্পনার সাদৃশ্য রয়েছে একথা বলাই যুক্তিসংগত।
উক্ত সংস্থা অর্থাৎ মার্শাল পরিকল্পনা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।
মার্শাল পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করে। এ সাহায্য গ্রহণ ইউরোপের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও মোট ১৬টি দেশ এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হয়। মার্শাল পরিকল্পনার পথ ধরে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস একটি সাধারণ শুল্কনীতির অধীনে 'BENELUX' গঠন করে। ১৯৪৮ সালের মার্চে ফ্রান্স ও ব্রিটেন এতে যোগ দিয়ে ব্রাসেলসে সন্ধি জোট গঠন করে। এ সন্ধিতে বলা হয় ৫০ বছরের জন্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারস্পরিক আত্মরক্ষা, সংস্কৃতি বিনিময় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। মার্শাল পরিকল্পনার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি বিধান সম্ভব হয়। তাছাড়া এ পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন আর্থিক সহায়তায় ১৬টি ইউরোপীয় দেশ ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (QEEC) নামে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠন করে। এ পরিকল্পনা ইউরোপের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছিল। এটি ইউরোপের অর্থনৈতিক জীবনে হতাশা ও মন্দাভাব দূর করে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উক্ত সংস্থা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছিল।
Related Question
View Allগ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিখাইল গর্বাচেভ
মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়।আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন প্রত্যাহার করে নেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থানটি আমার পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো এবং ওয়ারশ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শক্তির মহড়া দিতে এবং পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে সময় ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ন্যাটো সামরিক জোট। এ জোটের সব দেশ ছিল পুঁজিবাদের সমর্থক এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখা এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
অপরদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারশ কোট গঠন
করে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটোর কার্যাবলি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ জোট গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রামের সাথে পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো ও ওয়ারশ জোটের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত অবস্থাটি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল বলে আমি মনে করি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর লেনিন ও স্ট্যালিনের দক্ষ নেতৃত্বে সাম্যবাদ শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। অল্প সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকে। অপরদিকে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই সাম্যবাদের গতিরোধ করতে গিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্নায়ুযুদ্ধ ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর ফলে Bipolar System প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মূল ধারণা ছিল দ্বিমেরুকরণ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ দ্বিমেরুকরণের প্রভাব বহু বছর ধরে বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ- স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয় যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে।
গ্লাসনস্ত শব্দের অর্থ মুক্তাবস্থা বা Open Air. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, ইতিহাসে তাই গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত। বিদ্যমান সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকবে কিনা বা এর পতনের পক্ষে-বিপক্ষে মুক্ত আলোচনার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপটি গৃহীত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!